।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্ধুত্ব থাকলে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব।

চার দিনের ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি বলেন, “ভারত আমাদের বন্ধু। আমি যখনই ভারতে আসি, সেটা আমার জন্য আনন্দের। বিশেষ করে আমরা সবসময় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করি। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব আছে, আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করছি।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছালে একটি অশ্বারোহী দল তাকে স্বাগত জানিয়ে পথ দেখিয়ে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে নিয়ে যায়।

সেখানে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে দেওয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা, ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেয়।

ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিন্দি ও বাংলা দুই ভাষাতেই একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভারতের নাগরিকদের শুভেচ্ছ জানান।

তার আগে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হল জনগণের সম্মিলন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনীতির উন্নয়ন।

“এসব বিষয়ে আমি মনে করি, আমাদের দুটি দেশ একসঙ্গে কাজ করছে, যাতে শুধু ভারত ও বাংলাদেশের মানুষই নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ উন্নত জীবন পেতে পারে। এটা আমাদের মূল লক্ষ্য।”

তিন বছর পর এই ভারত সফর ফলপ্রসূ হওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হল, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে নিয়ে যাওয়া। আমরা সেটা করতে সক্ষম। বন্ধুত্ব দিয়ে যে কোনো সমস্যারই সমাধান করা যায়। আমরা সব সময় সেটাই করি।”

অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শেষে শেখ হাসিনা যান রাজঘাটে। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার ভারতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন বছর পর তার এ দ্বিপক্ষীয় সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো আলোচ্যসূচিতে প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।