।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

বিতর্কিত উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর রচয়িতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির ওপর হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এক মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় তার ওপর এ হামলা হয়।

সালমান রুশদিকে অস্ত্রোপচারের পর ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তিনি কথা বলতে পারছেন না।

তার এক এজেন্টের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

অ্যান্ড্রু ওয়াইলি নামের সালমান রুশদির ওই এজেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন,  ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর রচয়িতা সালমান রুশদি একটি চোখ হারাতে পারেন।

অ্যান্ড্রু আরও জানিয়েছেন , রুশদি এখনও কথা বলতে পারছেন না।

বুকার পুরস্কার জয়ী এই লেখককে শুক্রবার (১২ আগস্ট) যখন শিটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে একটি বক্তৃতার জন্য পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন একজন লোক মঞ্চ উঠে এই হামলা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা এক ব্যক্তিকে দৌড়ে মঞ্চের দিকে যেতে দেখেন এবং সালমান রুশদিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় তিনি তাকে হয় ঘুষি মারেন, নয়তো ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনার পরপরই সালমান রুশদিকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অনলাইনে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, এসময় কিছু দর্শক দ্রুত মঞ্চের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। সেখানে উপস্থিত লোকজন হামলাকারীকে থামাতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে রুশদির প্রকৃত অবস্থা কেমন তা জানা যায়নি।

ঘটনার পর দ্রুত গোটা মিলনায়তন খালি করে দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের পুলিশ জানিয়েছে হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন।

তারা আরও জানিয়েছে রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ঘটনার পর দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী কার্ল লেভান বিবিসিকে বলেন, এটি প্রত্যক্ষ করা খুবই ভয়ংকর ছিল। তিনি ঘটনার সময় অ্যাম্পিথিয়েটারের ১৪ বা ১৫তম সারির আসনে ছিলেন। হামলাকারী দর্শক সারির বাঁ দিক থেকে মঞ্চে গিয়ে রুশদিকে একের পর এক ছুরিকাঘাত করতে থাকেন।

সালমান রুশদি একজন ব্রিটিশ-ভারতীয় ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক। তার দ্বিতীয় উপন্যাস মিডনাইটস চিলড্রেন ১৯৮১ সালে ম্যান বুকার পুরস্কার পায়। তার লেখার অনেকটা অংশ জুড়েই থাকে ভারতীয় উপমহাদেশ। বলা হয়ে থাকে যে তিনি জাদু বাস্তবতার সঙ্গে ঐতিহাসিক কল্পকাহিনী একত্রিত করে লেখেন। পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে অসংখ্য সংযোগ, বিচ্ছিন্নতা ও অভিপ্রয়াণ তার লেখার অন্যতম বিষয়বস্তু।

১৯৮৮ সালে প্রকাশিত তার চতুর্থ উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেস বিশ্বব্যাপী একটি বড় আকারের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। বইটি প্রকাশের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা এর প্রতিবাদ জানায়।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রধান নেতা মরহম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এই বই রচনার জন্য ১৯৮৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন। তবে, তার মৃত্যুর পর ইরানের সরকার সেই ডিক্রি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। কিন্তু ইরানসহ বিশ্বজুড়েই রুশদি-বিরোধী মনোভাব বজায় ছিল। কেউ রুশদিকে হত্যা করতে পারলে তাকে ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে ইরান। ২০১২সালে একটি আধা-সরকারি ইরানী ধর্মীয় ফাউন্ডেশন রুশদির জন্য দান ২.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩.৩০ মিলিয়ন করেছে। ।

২০০০ সালের পর থেকে রুশদি মূলত নিউইয়র্ক সিটির ইউনিয়ন স্কয়ার এলাকায় বাস করছেন।

সূত্র: বিবিসি ও আল-জাজিরা

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৪ ঘণ্টা, ১২ আগস্ট, ২০২২

ইআর/এমএমজেড