হাতিরঝিল


চারদিকে মেঘবরণ জল ফুটছে। জলের গায়ে বিলি কাটছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। এই ভোর বড় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এখন আমি মোহন খেলব জলের সাথে।

জলসেচে ভাষাকে চর্চা কর। চির আকাঙ্ক্ষিত কথাকে অপেক্ষার পাশে বসাও। তাকে বলো, শেষতক কেউ থাকে না। ভীষণ শীৎকারও একদিন ছেড়ে চলে যায়। জলের কাছেই তাই শেষ বসত হোক।

অত যে দিনমান পুড়ে পুড়ে যাওয়া, জল তার সবটুকু জানি রাখে খোঁজ…


কী যে বলি… কতটাই বা বলি! সবশেষ সহজতা কেবল ওই অনিবার্য আত্মসমর্পণে। আকাশ থেকে নেমে আসছে জলের আয়না। জলে খেলছে লালনের গান।

কী বলি?

অন্ধকারের পাশাপাশি তবু বিন্দু আলোর মতো ওই আম্রপল্লবের হাতছানি।
ঋতুসঞ্চারের সমস্ত ঘোর ছেয়ে জেগে উঠছে বনপথ।

কাকে এসব বলি?

জলের এপাশে মহানাগরিক শ্বাস… তবু বহুদূর থেকে ভেসে ভেসে আসে আজও মাহুতের ডাক। আরও দূরগাঁও থেকে বিরহ বিধুর সুরে কে যেন গেয়ে চলে গান, হস্তির নড়ান হস্তির চড়ান, হস্তির গলায় দড়ি… ওরে সত্য করিয়া কনরে মাহুত কোনবা দেশে বাড়ি…

ধেয়ে নামে মেঘদল দুধসাদা পালকের গায়ে। বিস্মৃতির পাতা খুলে দেখা দেয়, ভাওয়াল এস্টেট, উত্তরের হাতিশাল।

সন্ধ্যার পিদিমে দূরে অসহজ স্বরে যতিচিহ্নে টানা হয় অপেক্ষার গান।


সমুহ একাকিত্বের মধ্যে
ঢুকে পড়ছে জলস্রোত
হাওয়ায় জিরোনো লাশ
ছাইগাদায় লুকোনো যার
নবীন জীয়নকাঠি—
করপুটে পদ্ম রাখলে
আলো পিছল সন্ধ্যা নামবে
এমন নির্মাণে
কোথা থেকে যে কোথায়
খুলে যায় কার হাওয়ার কবাট!

আমাদের স্বপ্নে তবু অসুখ করে
নীলাভ অবসাদে ডুবে যায় শ্রাবণ দুপুর

৫.
ঝিলকানন। এক টুকরো রক্তভেজা ছায়া পড়েছে তার জলে। আমার হাতের মাঝে অন্ধকার স্থির, বসে আছে। যেন রূপকথা একবার গ্যালাক্সি বলে চিৎকার করলেই সে তার টুঁটি চেপে ধরবে।

কল্পনায় আমি একটা গোলাপি আকাশ দেখি। সন্ধ্যাবেলা তুমি তার দৃশ্য নির্মাণ কর। সে দৃশ্যের ভেতর জলের বৃত্তে ছুটে চলে অবাক জলযান।


ঘুমের ভেতর স্পষ্ট শুনি রাধেঃ রাধেঃ ধ্বনি
সমস্ত ব্যথাই আজ প্রশ্নাতীত সকালের দিকে
ধেয়ে যায়

মেঘ মুখ নিচু করে হাসে, লাজুক হাওয়ায়
যেন জলের আয়না ছেড়ে বহুদূরের ওই মুখটিকে বন্ধু ভেবে
অপেক্ষার আলোটুকু রেখেছিল জ্বেলে

ঘুমের ভেতর আজ, অস্পষ্ট তুমি আসো
রেখে যাও অংশত বিদায়-ধ্বনি…

অলংকরণ হিম ঋতব্রত

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.