।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরির দায়িত্ব নিয়েছিলো জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। আর তা বাস্তবায়ন করেছে জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে, কর্নেল তাহেরের মাধ্যমে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় লিটন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় থাকে, তখনই নানা দিক থেকে চক্রান্ত শুরু হয়। আওয়ামী লীগের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক শ্রেণির নেতাকর্মী, যারা আওয়ামী লীগ পছন্দ করে না আর যারা পাকিস্তানি প্রেতাত্মা হিসেবে এদেশে রয়ে গেছে তারা সব সময় চেষ্টা করে আওয়ামী লীগকে কীভাবে বেইজ্জত করা যায়।”

লিটন মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর সময়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আমার তো বলতে দ্বিধা নেই যে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু দেশের দায়িত্ব নেয়ার পর ১৯৭৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনকে ভাগ করে জাসদ সৃষ্টি করা হয়। এটা ইতিহাসের অংশ। এটা লুকানোর কোনো বিষয় নয়।” এরপর তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরীক জাসদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরির অভিযোগ আনেন।

খায়রুজ্জামান লিটন বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের জন্য তৎকালীন সিআইএ ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকেও দায়ী করেন। বলেন, ওই সময় চুক্তির পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গমের জাহাজ চট্টগ্রামের কাছাকাছি থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়। সংবাদপত্রে বাসন্তির মতো সাজানো নাটক তৈরি করা হয়। এসব বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করে। তিনি বলেন, বিএনপির স্রষ্টা জিয়াউর রহমান এই চক্রান্তের মূল নায়ক ছিলেন, যিনি খন্দকার মোশতাকের কাঁধের ওপর বন্দুক রেখে ফায়ার করেন।

লিটন বলেন, উপমহাদেশে প্রাচীন দল আরও আছে। মুসলিম লীগের পরিণতি আমরা জানি। কংগ্রেসের অবস্থা কী হয় তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও সক্রিয় দল। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে লিটন বলেন, তাদের এই আন্দোলন তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ৭ বছর আগে ঘোষণা করেছিলেন। এখনও তা তুলে নেননি। কিন্তু আন্দোলনের নমুনা তো দেখা যাচ্ছে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে সংবিধানসম্মত উপায়েই হবে। আপনারা নির্বাচনে আসতে না চাইলে সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বললে আমাদের আপত্তি আছে। আপনাদের ছেড়ে কথা বলা হবে না।”

সম্মেলনের মঞ্চে এসময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বাঘা আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহরিয়ার আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম স্বপদে পুনর্নিবাচিত হন।