।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তার কার্যালয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সর্বদলীয় সরকার গঠনের পথ উন্মুক্ত করতে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

অনেকেই মনে করছেন, পদত্যাগ করা ছাড়া রনিল বিক্রমাসিংহের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই।

বিবিসি’র সিনহালা প্রতিনিধি রাঙ্গা সিরিয়াল জানিয়েছেন, নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিরোধীদের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রাজি হয়েছেন লঙ্কান প্রধানমন্ত্রী।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মতে, এই সপ্তাহে দেশজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।

চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মূল কারণ জ্বালানির ঘাটতি। অতীতেও সরকারের পক্ষ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের জন্য প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসেকে দায়ী করে তার পদত্যাগের দাবিতে শনিবার প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয় বিক্ষোভকারীরা। এই মিছিল সামনে রেখে শুক্রবার রাজধানীতে প্রবেশ করতে শুরু করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এরইমধ্যে কলম্বো ও আশপাশের এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়।

তবে শনিবার সকালে এসব কিছু উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে হাজির হতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। তবে তার আগেই প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে একটি প্রতিরক্ষা সূত্র। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের প্রেসিডেন্টের বাড়িতে ঢুকে পড়া ঠেকাতে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শ্রীলঙ্কার বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিরাসা টিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, একসময়ে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত বাড়িটিতে ঢুকে পড়েছে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত রাতেই লঙ্কান প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসেকে সেনাবাহিনীর সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।