।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

মেঘ ভেঙে প্রবল বর্ষণের কারণে সৃষ্ট আচমকা বন্যার পর ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের অমরনাথ গুহার মন্দিরের কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার পুণ্যার্থীকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মেঘভাঙা বর্ষণের কারণে দেখা দেওয়া হড়কা বান অন্তত ১৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; ৪০ জন এখনও নিখোঁজ।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ইন্দো-তিব্বতিয়ান বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) সদস্যরা রাতভর নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়েছেন।

আইটিবিপির সদস্যরা সঙ্গমশীর্ষে থাকা আহতদেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। গুহার কাছে বান দেখে এই তীর্থযাত্রীদের পাঁচতারনিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।

নিরাপদে ওই এলাকা থেকে সরে আসতে পারা তীর্থযাত্রীরা মেঘ ভেঙে বৃষ্টিতে সৃষ্ট ঢলের ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছেন; কাদা, বড় বড় পাথর কী করে তাঁবু আর লঙ্গরখানাকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

মেঘ ভেঙে যেখানে বৃষ্টি হয়েছে, তার থেকে ২ কিলোমিটার দূরে থাকা প্যান্ডেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বলেছেন তারা।

“মেঘ ভেঙে বৃষ্টির ১০ মিনিটের মধ্যে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পানি বিপুল সংখ্যক পাথরও ভাসিয়ে নিয়ে আসে। ওই সময় অমরনাথ গুহার মন্দির এলাকায় ১৫ হাজারের মতো পুণ্যার্থী ছিলেন। প্রবল বর্ষণ সত্ত্বেও পুণ্যার্থীরা মন্দিরের দিকে আসছিলেন,” বলেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।

উত্তর প্রদেশের হরদই থেকে যাওয়া দীপক চৌহান বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, বানের কারণে মন্দির এলাকায় হুড়োহুড়ি লেগে গিয়েছিল, তবে সেনাবাহিনী বেশ সহযোগিতা করেছে। পানিতে অনেক প্যান্ডেল ভেসে গেছে।

“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, বৃষ্টি এখনও হচ্ছে। এলাকাটি জলমগ্ন হওয়ায় অমরনাথ যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে,” বলেছেন আইটিবিপির মুখপাত্র পিআরও বিবেক কুমার পান্ডে।

কর্মকর্তারা বলছেন, মেঘ ভেঙে বৃষ্টিতে সৃষ্ট বান মন্দিরের বাইরের বেস ক্যাম্পে আঘাত হানে এবং ২৫টি তাঁবু ও তীর্থযাত্রীদের খাবার দেয়া হতো এমন তিনটি লঙ্গরখানার ক্ষতি করেছে।

ওই এলাকায় শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে অমরনাথ গুহার মন্দিরের স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশন। 

মেঘ ভেঙে প্রবল বর্ষণে প্রাণহানিতে মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোভিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন্দ্রীয় বাহিনীগুলো এবং জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে অমরনাথকে আটকে পড়াদের দ্রুত উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

এ ঘটনার বিষয়ে লোকজনকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ৪টি হেলপলাইন নাম্বার চালু করেছে। 

নিখোঁজদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দুজন আছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

তিন বছর বিরতির পর এ বছরের ৩০ জুন থেকে ফের ৪৩ দিনের অমরনাথ যাত্রা শুরু হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ধারা ৩৭০ রদ করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর সৃষ্ট উত্তেজনায় ২০১৯ সালে মাঝপথে ওই যাত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কোভিড মহামারীর কারণে পরের দুই বছরও পুণ্যার্থীরা ওই যাত্রায় শামিল হতে পারেননি।