মাছিটা বসেছিল, দক্ষিণের সাদা দেয়ালে।

অদূরে একটি মাকড়শা ঝুলছিল, রেশমি সুতোর দোলনায় চড়ে হাওয়ায় ভেসে, ছাদের কার্নিশ থেকে বেশ খানিকটা নিচে।

দেয়ালের পুবকোণে একটি লেজখসা টিকটিকি, খুব সাবধানে ধীরগতিতে এগিয়ে আসছিল। একজন সৈনিক যেভাবে ক্রোলিং করে তেমন গুটি গুটি নিঃশব্দে সে ধেয়ে আসছিল।

ফ্ল্যাটের উত্তর পুবকোণে একটি ঝুলবারান্দা, বড্ড অপরিসর। আরাম কেদারা পাতা যায় না। সকালে পুবের একচিলতে রোদ তেরচাভাবে উঁকি দেয় কী দেয় না, মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার আগেই নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

বিনোদকুমার বারান্দায় ছোট্ট একটি চেয়ারে বসেছিলেন। সামনে নিঃশেষিত চায়ের পেয়ালা। খবরের কাগজের পাতা থেকে তার ঘোলাটে দৃষ্টি এখন পুবদিকের দেয়াল ঘেঁষে সীমাবদ্ধ।

টিকটিকিটা এগিয়ে এসেছে অনেকটা। মাত্র বিঘতখানেক পেরোলেই আকাঙ্ক্ষিত শিকার। আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি। কিন্তু তার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে নিমেষে উড়ে যায় মাছিটা। মেঘরঙ ডানায় তরঙ্গ তুলে বারকয়েক শূন্যে পাক খায়। তারপর ছাদের কার্নিশে গিয়ে বসে, যেখানে ফিনফিনে সুতোর ঝুলনবিন্দুকে কেন্দ্র করে পেতে রাখা ফাঁদ। সেখানে বসতেই মাছিটির একটি পা আটকে যায়। মোক্ষম একটি শিকারকে ফাঁদে আটকানোর আশায় মুখ থেকে নির্গত লালার রেশমি আঁশের বাঁধনে জাল গেঁথে চলে অবিরাম।

দেয়ালে ঝুলে থাকা মাকড়শার জালের সূক্ষ্ন ভাঁজে বিনোদকুমারের আটকে পড়া দৃষ্টির বৃত্তে ফেলে আসা স্মৃতিগুলো বড্ড ঝাপসা, ফ্রেমভাঙা কোলাজের মত পরিত্যক্ত, রঙচটা বিবর্ণ ক্যানভাসে আঁকা বিস্মৃতপ্রায় অতীত হয়ে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে।

পুরো ছ’বিঘা জমির ওপর চার শরিকের চারটি বিশাল বাড়ি। মোটা মোটা থামের অবলম্বনে সদর্পে দাঁড়িয়ে থাকা চারটি উঁচু দালান। পুরানো আমলের বনেদি হিন্দু পরিবার। কার্ত্তিকে পারিবারিকভাবে সাড়ম্বরে প্রতিমা পুজো হতো। 

আশেপাশের মহল্লাগুলো তখন আনন্দে ভেঙে পড়ত। ঘরে ঘরে সেঁজবাতির আলো-আঁধারীময় কোমলতা, দেউরিতে বিশাল ঝাড়লণ্ঠন সে আমলের বৈদ্যুতিক বাতির অপূর্ণতায় জোছনার আলোর স্নিগ্ধতায় ভরিয়ে দিত। দেউরি থেকে খানিকটা এগোলোই দুপাশে প্রস্তর নির্মিত সিংহের প্রতিকৃতি নিয়ে বিশাল সিংহদরজায় শ্বেতপাথরের ফলকে খোদাই করা নাম ‘সিংহ মঞ্জিল’। সিংহবাড়ির চারপাশের মাথা ডিঙিয়ে দাঁড়ানোর মত কোনো সুউচ্চ বিল্ডিং ছিল না। নাগরিক ব্যস্ততা ও জনবাহুল্য বর্জিত শান্ত পরিবেশ ছিল।

দেশবিভাগে পুরো পরিবারের ভিত আমূলে নাড়া দিয়ে ওঠে। ভাইদের মধ্যে দ্বিতীয়জনের বরাদ্দ ভিটেটুকু রক্তপাতের সাথে বেহাত হয়ে যাবার পর কালবিলম্ব না করে পরের দুভাই জলের দামে বিক্রি করে দেশান্তরী হয়ে গেলেন। শুধু থেকে গেলেন বয়োজ্যেষ্ঠ প্রতাপকুমার সিংহ। স্বার্থক নামধারী তিনি ভিটেটুকু আগলে রাখলেন প্রবল প্রতাপে।

এরপর ভাষার জন্য যুদ্ধ, মুক্তির জন্য যুদ্ধ, দু-দুটো আন্দোলনের ঋজু ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের পর দেশ স্বাধীন হলো। সময়ের ক্যালেন্ডার থেকে টুপ টুপ করে ঝড়ে পড়া এক একটি বছর, শতাব্দীর চাকায় ঘুরে আসা অর্ধপাক নগরীর নৈঃশব্দিক আস্তরণকে উম্মোচন করে দেয়। নিস্তব্ধতার আবরণ সরিয়ে যানজট, জনবহুল ইট কংক্রীটের খাঁচাবদ্ধ নগরী ধীরে ধীরে মাথা উঁচু করে জেগে ওঠে নিঃসীম নাগরিক ব্যস্ততায়।

বাড়ির ডানপাশে এখন বহুতলভবন, আলোকোজ্জ্বল শপিংমল, বামপাশে মাল্টিভবন, পেছনে কারখানা। প্রথম তিনটি তল সাবানের এবং উপরের দুটি তল কাপড়ের রঙের কারখানা। ঠিক মাঝখানে শ্বাসকষ্টে ভোগা প্রাচীন এই বাড়িটি। দুপাশে লম্বা টানা বারান্দাসহ সার সার ঘর, মাঝখানে খোলা আঙিনা।

দুবছর আগে সামনের সরকারি রাস্তা প্রশস্ত করায় সিংহবাড়ির প্রধান আকর্ষণ বিশাল সিংহ দরজা, দেউরির একাংশ ও বৈঠকখানাটি ভাঙা পড়ে। এরপর কারখানার যখন নির্মাণ কাজ শুরু হয় তখন থেকেই বিনোদকুমারের ওপর উপর্যোপরি চাপ সৃষ্টি করা হয়, ড্রেনের জন্য আট ফিট জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। বিনোদ রাজি হতে চান না। এমনিতে সামনের দিকের বেশ খানিকটা অংশ রাস্তায় চলে গেছে, পেছনটাও যদি ছেড়ে দিতে হয় তবে বাড়িটি ছোট হয়ে যাবে।

বাবা প্রতাপ কুমার সিংহ গত হয়েছেন পাঁচ বছর। সিংহ বাড়ির পূর্বের সেই প্রতাপ, আর্থিক সচ্ছলতা, বনেদীআনা ঠাঁট আগের মত আর নেই। রক্তের টানে আভিজাত্যের রেশটুকু বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে, আর্থিক টানাপড়েনে সুতোয় টান পড়ে গেছে।

তিন মেয়ের মাঝে বড়টির বিয়ের সময় পণের মোটা অঙ্কের টাকা জোগান দিতে শেষপর্যন্ত ড্রেনের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। বাড়ির পেছনে দক্ষিণ দিকে আটফুট চওড়া ধরে লম্বা অংশ, কপিকল দেয়া শান বাঁধানো ইঁদারা, হাস্নাহেনার ঝাড়সহ পুরো ফুলবাগান চলে যায়। বাড়িটা ছোট হয়ে চেপে আসে। দক্ষিণা বাতাসে ফুলের সুমিষ্ট সুবাস আর পাওয়া যায় না।

কারখানা থেকে প্রবাহিত গলিত বর্জ্যের দুর্গন্ধ বাতাসে ভেসে আসে। দক্ষিণের জানালাগুলো আর খোলা যায় না। সারাক্ষণ বন্ধ রাখায় ঘরের ভেতরটা গুমোট অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে।

জলের স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় শেষের দিকে ইঁদারার জল আর থাকতো না। তখন থেকে ওয়াসার উপরই পুরোপুরি নির্ভরতা এসে গিয়েছিল। পাশেই স্নানঘর। ইঁদারাটি হাত ছাড়া হয়ে যাবার পর সেস্থানে কারখানার নতুন নির্মিত ড্রেনের পাশে বাড়ির সীমানা প্রাচীর তুলে দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়ে উঠল না। বিয়ের খরচ জোগাতেই সব ফুরিয়ে গেল।

বিনোদকুমারের মেজো মেয়ে গীতা এবার অনার্স ফাইনাল দিবে। পরীক্ষার প্রথম দিন স্নান সেরে সে খোলা আঙিনায় ভেজা কাপড় মেলছিল; পরনে বাইরে যাবার নিভাঁজ আনকোড়া পোশাক। হঠাৎ উপর থেকে কারখানার খানিকটা বর্জ্যসহ রঙিন তরল সপাৎ করে নিচে আছড়ে পড়ে। গীতার শরীর, পোশাক রঙিন তরলে ভিজে জ্যাবজ্যাব। ড্রেনের বেশ খানিকটা অংশ লাল রঙে মাখামাখি। মেয়েটির মুখে অপমানে ছায়া। দ্বিতীয়বার স্নান সেরে পোশাক পাল্টে যখন সে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয় তখন আধাঘন্টা পেরিয়ে গেছে। এভাবে প্রতিনিয়ত ছুড়ে মারা আবর্জনা, পলিথিনের প্যাকেট, ছেঁড়া কাগজে ড্রেন আটকে প্রবাহমান স্রোতধারার রুদ্ধ গতিপথে বর্ষায় উপচে ওঠা নোংরা রঙিন পানি, সাবান ফ্যাক্টরি থেকে ধেয়ে আসা পিচ্ছিল তরলে পুরো আঙিনা ডুবে একাকার হয়ে যায়। চলার পথে বিঘ্ন ঘটায়।

বিনোদের ষোড়শী ছোট মেয়েটি সেদিন ডালের বাটি হাতে আঙিনা পেরোতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেল। মাথাটা সজোরে মাটিতে ঠুকে গিয়েছিল। পাশের ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে বখাটে ছেলেটা শিস দিয়ে উঠেছিল। তারপর হেঁড়ে গলায় গান ধরেছিল, ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা…।’

এক সময়ের নৈঃশব্দিক আস্তরণে আবৃত নিঃস্বর্গ এলাকাটি এখন শহরের সবচেয়ে নামকরা দামি ও ব্যস্ততম স্থান। চওড়া রাস্তার দুধারে সারি সারি বৈদ্যুতিক আলোকমালা, ঝলমলে শপিংমল, চারদিকে বিশাল সুউচ্চ বহুতল ভবনগুলোর মাঝখানে অবনত শিরে সলাজে দাঁড়িয়ে থাকা ফটকবিহীন সিংহ মঞ্জিল, আগের সেই জৌলুস আর অবশিষ্ট নেই। জায়গায় জায়গায় পলেস্তারা খসা, বিবর্ণ মলিন প্রাচীন এই বাড়িটি এখন এখানে বড্ড বেমানান। অন্তত ডেভেলপারদের কাছে অযাচিত আগাছা সাদৃশ্য, যা নিমেষে শেকড়সুদ্ধ উপরে ফেলে বর্তমান পরিবেশের সাথে মানানসই কোনো বাণিজ্যিক শপিংমল, অ্যাপার্টমেন্ট বা দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য নির্মাণের আশায় প্রায়ই আগ্রাসী ভূমিকা রেখে যায়।

বারান্দায় উড়ে আসা উড়োচিঠি, মাঝরাতে নিক্ষিপ্ত ঢিল, রাজনৈতিক ছত্রছায়ার বিভিন্ন কৌশল, হুমকি, কখনও বা লোভনীয় টোপ ফেলে রাখে।

প্রায়ই রাতে বিনোদকুমার স্বপ্ন দেখেন, বড় বড় বিল্ডিংগুলো বিশাল দানবাকৃতি রূপ ধরে সশব্দে চারদিকে থেকে এগিয়ে আসছে। ছোট হয়ে আসছে বাড়িটা। ধীরে ধীরে পুরো অংশটুকুই গ্রাস করে নিচ্ছে। প্রেতছায়ার ক্রমাগত অশরীরী চাপে কণ্ঠরোধ হয়ে আসছে। শ্বাস নিতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি জেগে ওঠেন। ঘামে ভেজা সমস্ত শরীর, কণ্ঠ তালু শুষ্ক। দ্বিধায়, সংশয়ে তিনি রাতের আঁধারেই মনে মনে আত্মসমর্পণের অঙ্গীকার করে বসেন। কিন্তু দিনের আলোতে সে সংশয় কাটিয়ে সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন।

অথচ বিনোদের মেয়েদের কণ্ঠে আক্ষেপ—

‘আজকাল এরকম খোলা আঙিনার বাড়িতে থাকা যায় না। উপর থেকে প্রায়ই কেউ না কেউ তাকিয়ে থাকে, ঢিল ছুড়ে।’

স্ত্রী মনিকা দেবী উষ্মা প্রকাশ করেন।

‘অত সাতপাঁচ না ভেবে বাড়িটা ডেভেলপারকে দিয়ে দিলেই তো হয়। সারাক্ষণ এভাবে কাঁটা হয়ে থাকা যায় না।’

বিনোদকুমার আপত্তি করেন।

‘দেখো বাপ-ঠাকুরদার চিহ্ন। জ্যাঠামশাইরা তাদের অংশটুকু ঠেকাতে পারেননি। ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।’

গীতা প্রবোধ দেয়—

‘একেবারে ছাড়তে হচ্ছে না তো বাবা। আমরা তো থেকেই যাব একটা ফ্ল্যাট নিয়ে।’

সেই সাথে ছোট মেয়েটি সগোক্তি করে।

‘তাহলে নতুন ফ্ল্যাটে থাকা যাবে। ইস কী মজা! বাবা তুমি রাজি হয়ে যাও।’

নিজ বাড়িতে ডেভেলপারের তৈরি ফ্ল্যাটে থাকা মানে এক অর্থে নিজভূমে পরবাস, অন্তত বিনোদকুমারের তাই মনে হয়। বাগান থেকে তুলে আনা ফুল ঘরে ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখার মতই নিষ্প্রভ। এর চেয়ে বাগানের ফুটে থাকা ফুল অনেক বেশি সতেজ ও সপ্রতিভ। বিনোদের চোয়ালে কাঠিন্য, দৃষ্টিতে তেজ। তিনি কেটে কেটে উচ্চারণ করেন।

‘ভিটেটুকু বাবা আগলে রেখেছিলেন প্রবল ক্ষমতায়, সেই দেশ বিভাগের সময়ই, আমিও আগলে রাখতে চাই।’

মনিকা দেবীর কণ্ঠে বিদ্রুপ—

‘সে সময় হয়তো আগলে রেখেছিলেন, কিন্তু এখন আর একে আগলে রাখা বলে না। এ হচ্ছে ভিটে কামড়ে পড়ে থাকা।’

বিনোদকুমারের দুভ্রুর মাঝে এবার সুস্পষ্ট ভাঁজ। চোয়ালের কাঠিন্য মিলিয়ে সেখানে ঝাপসা মেঘছায়া। পায়ের তলায় ভিতটুকু বুঝি মৃদু দুলে ওঠে। তাইতো! তিনি সগর্বে আগলে রাখতে পারছেন কই? এতো পিঁপড়ের মত ভিটে কামড়ে পড়ে থাকা।

দ্বিধায় পড়ে যান তিনি। এ সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচলে ক্রমশ মানসিক জরাগ্রস্ততার শিকার। চারদিক থেকে ধেয়ে আসা ঘুণপোকার ক্ষুয়িষ্ণু পথচলা। ইট, কাঠ, পাথরের ঘেরাটোপে বন্দী, শ্বাসরুদ্ধকর। যাপিত জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা। সাতচল্লিশের সাম্প্রদায়িকতার সময় অটুট থেকেও বর্তমানে কালের চাহিদার কাছে অবশেষে নতি স্বীকার করে নিতে বাধ্য হন।

পাঁচ কাঠা জমির ওপর বার তলা ভবন দাঁড়িয়ে যায়। অষ্টম তলাটি বিনোদ ভাগে পেয়েছেন। অনাবাসিক এলাকা বলে বাকি সবগুলো ফ্ল্যাট বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভাড়া হয়েছে, অফিস, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট কাম বার।

পুরানো বাড়ির প্রতিবন্ধকতার সীমা পেরিয়ে নতুন বাড়ির প্রতিবন্ধকতা ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা দেয়। ফ্ল্যাটের পরিচালনা খরচ আকাশছোঁয়া, যা পুরানো বাড়িতে থাকা অবস্থায় আগে বহন করতে হতো না। এখন প্রতি মাসে হিসাব কষতে সীমিত আয়ের বিনোদকুমারের হেঁশেলে হাঁড়ির চাল তলানিতে ঠেকে।

কলিংবেলের যান্ত্রিক শব্দে তিনি চিন্তার ধূম্রজাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাস্তবে ফিরে আসেন। বিদ্যুৎ অফিস থেকে বিল দিয়ে যায়। বিলের হিসাব দেখে তিনি আঁতকে ওঠেন। নতুন ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ এখন বাণিজ্যিক সংযোগের বলে প্রতি ইউনিটের মূল্য আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এসেছে।

বিনোদকুমারের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। গ্রিলের ফাঁক দিয়ে তার প্রসারিত দৃষ্টি আটকে থাকে। শ্বাসরুদ্ধকর সারি সারি বিল্ডিং, খাঁচাবদ্ধ ফ্ল্যাট, ক্রমাগত জালের মত বিস্তার করে; অক্টোপাসের বেষ্টনে ক্রমেই গ্রাস করে নিতে চায়। তারই ফাঁক গলে চৌকোনা ঘুড়ির মত একচিলতে নীলাকাশ, বড্ড অপরিসর।

ছাদের কোণে মাকড়শার জালে আটকে পড়া মাছিটা তখনও অসহায়। দুটি পা’ই তার এখন আটকে গেছে। ডানা ছটফটিয়ে মুক্তির আশ্বাসে সে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। আর মাকড়শাটি মাছিটিকে ঘিরে তখনও ফাঁদ বুনে চলছে অবিরাম।

অলংকরণ রাজিব রায়