।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ তোলে, সেখানে তারা দাবি করেছিলো দুবাইয়ে এক কথিত বৈঠকের। বলা হয়েছিলো, দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ দেয়ানেয়া বাস্তবায়ন করতেই নাকি মরুশহরে বৈঠকটি হয়েছিলো। কানাডায় অভিযোগের তদন্ত শুরুর পরেও বিশ্বব্যাংক রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশকে (আরসিএমপি) অফিসিয়ালি সেই তথ্যই দিয়েছিলো। অথচ আরসিএমপি তদন্তে নিশ্চিত হয়, ওই বৈঠকেরে তথ্যটি অসত্য। সংশ্লিষ্ট মামলার নথি থেকে জানা যায় এই তথ্য।

বিশ্বব্যাংকের দাবি ছিলো, এসএনসি লাভালিনকে পদ্মা সেতুর কাজ পাইয়ে দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে দুবাইয়ে গোপন বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে এসএনসি লাভালিনের আন্তর্জাতিক শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালিস এবং তাঁর তিন সহকর্মী অংশ নেন। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস থেকে পরবর্তীতে তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে- যেই সময়ে কতিথ দুবাই বৈঠকের কথা বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে- সেই সময়ে তো নয়ই- কাছাকাছি সময়েও কেভিন ওয়ালেস কানাডার বাইরে কোথাও যাননি। ফলে দুবাইয়ে তার যাবার প্রশ্নই ওঠে না এবং সে কারণেই বিশ্বব্যাংকের কথিত ‘দুবাই বৈঠক’ তথ্যটির সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

বিশ্বব্যাংককে পদ্ম সেতুর দুর্নীতি নিয়ে যে চারজন কথিত তথ্য দেয়, কানাডার মামলার নথিতে তাদের ‘টিপস্টার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে দ্বিতীয় জন ‘দুবাই বৈঠক’ তথ্য দেন। তার সঙ্গে আরসিএমপির তদন্ত কর্মকর্তা যোগাযোগও করেন। তদন্তে জানা যায়, কথিত টিপস্টার এই তথ্য পেয়েছেন ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে অবিশ্বস্ত এক সূত্র থেকে। বিষয়টি সরাসরি তিনি নিজেও শোনেননি। তার মতে, বাংলাদেশের কোনো এক জনপ্রতিনিধির পরিচিত কেউ একজন ওই জনপ্রতিনিধির কাছে এই কথা শুনেছেন। সেখান থেকে শুনেছেন সেই ‘টিপস্টার’!