।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

সাংবাদিকদের জন্য নতুন কোনো আইন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বুধবার (১৫ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক জানান, সাংবাদিকরা অন্যায় করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখে একটি আইন হচ্ছে। আইনের খসড়া এখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আছে। আগামী সংসদেই তা পাস হতে পারে।

এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কী বলেছেন। দেশে কোনো নতুন আইন হচ্ছে না। প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার জন্য অনেক আগে প্রেস কাউন্সিলই সম্ভবত ৫ বছর আগে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। এটি এখন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিলের বেশির ভাগ সদস্যই সাংবাদিক এবং সম্পাদক। তারাই প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করতে ১৯৭৪ সালের আইন সংশোধনের জন্য ৫ বছর আগে একটা প্রস্তাব করেছিলেন। সাংবাদিকদের জন্য দেশে কোনো নতুন আইন হচ্ছে না। দেশে কোনো নতুন আইন হচ্ছে না। তিনি কী বলেছেন, আর পত্রিকায় কী এসেছে, আমিও পত্রিকায় দেখেছি। আসলে বিষয়টি সেরকম নয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংশোধনী প্রস্তাবটি ৫ বছর আগের। এটি প্রেস কাউন্সিলের সদস্যরাই করেছেন। সেটি আপনারা তাঁদের কাছ থেকেই জানতে পারবেন। প্রথমত আমি বলি, প্রেস কাউন্সিল যে আইনটা আছে, এটা প্রায় ৫০ বছর পুরাতন। এই আইনে প্রেস কাউন্সিল হচ্ছে ঠুটো জগন্নাথ। কোনো কিছু করারই ক্ষমতা নেই। ভর্ৎসনা ছাড়া আর কিছুই করার নেই, এমনকি চিমটি দেওয়ার ক্ষমতাও নাই। এ জন্য সদস্যরা একটি প্রস্তাব প্রায় ৫ বছর আগে তৈরি করেছিলেন।

দেশের গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক অনিবন্ধিত অনলাইন, আইপি টিভি এমনকি ইউটিউব চ্যানেলে কর্মরতরাও সবাই সাংবাদিক পরিচয় দেন। কেউ কেউ আবার জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করে। সেজন্য আবার বেতন না দিয়ে উলটো তাঁদের কাজ থেকে টাকা নেন। কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেন। বাস্তবতা হলো, এদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সে জন্য আমরা প্রেস কাউন্সিল ও প্রেস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে আলাপ করেছি, নিবন্ধিত গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের জন্য।

এর আগে বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক, সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব দীপ আজাদ, কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামাল ও নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে ড. উৎপল কুমার সরকার, নূরে জান্নাত আখতার সীমা, উম্মুল ওয়ালা সুইটি ও আঙ্গুর নাহার মন্টি মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন। এসময় বিএফইউজের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি পত্র হস্তান্তর করেন সভাপতি ওমর ফারুক। 

নবম ওয়েজবোর্ড সংশোধন করে সংবাদপত্রের পাশাপাশি টিভি ও অনলাইন গণমাধ্যমে তা দ্রুত বাস্তবায়ন, এবং বাস্তবায়ন না করলে পত্রিকার নিউজপ্রিন্ট, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড, বিজ্ঞাপন, ক্রোড়পত্র বিষয়ে সরকারি সুবিধা প্রত্যাহার, পত্রিকার ঠিক প্রচার সংখ্যা নির্ধারণ, ডিক্লারেশনের ক্ষমতা ডিসি অফিস থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা ও গণমাধ্যম নিয়ে আইন প্রণয়নে বিএফইউজের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করার দাবিসহ পত্রটি উপস্থাপন করেন বিএফইউজে মহাসচিব দীপ আজাদ। ওমর ফারুক এবং মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল এ সময় বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রী দাবিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাস দেন।