ধূলির বাতাসে

যেখানে পরস্পরের ছায়ায় থাকে গুপ্ত নদী
আমরা ক্রমশ অচেনা হয়ে যাই—

পৃথিবীর যেকোনো রাস্তায় যেতে যেতে
আলাদা হতে থাকি—
বলতে না পারার মতো আড়ষ্টতায়
লুকিয়ে রাখা হাঁসের পালকের নিচে রক্তপাত!

নিভৃত শোকের পাশে বয়ে চলা নদী
প্রাচীন রাত্রির ঘ্রাণ মুছে ফেলে
অযথা দিনের পারাপার—

এইতো সময়! ভেসে যায় অর্থ তার
দূরের হুইসেলে—আমরা ফেলে আসি পথ,
আচ্ছন্ন জীবনের মায়া
গুঁড়ো গুঁড়ো ধূলির বাতাসে—

তরঙ্গ মুছে গেছে

নতুন কিছু বোলো—
এই আকাশ ভেঙে পড়ছে বোলো না;

বোলো না তুমি আমার কথা
বুঝতে পারোনি!

আমি তো পাশে বসে থেকেছি অনন্তকাল
তারপরও তরঙ্গ মুছে গেছে শুধু—

এই বাদামি ত্বক, ঘোলা চোখ, ধূসর চুলের ভাষা
রাত্রি জানে না কিছু।

আমরা কোনোদিনও একে-অন্যকে চিনিনি,
অন্তত এইটুকু বোলো—

থেমে থাকি সন্ধ্যায়

সন্ধ্যালোকের স্মৃতি
লাল—শূন্যআবহাওয়া
সেখানে কী-যেন থাকে
ঝরাপাতাদের ম্লান-মায়া

জলগন্ধ ঘাসের গালিচায়
মুছে যাওয়া স্পর্শ অপার
নিমগ্ন শ্বাসেদের ব্যথা
অনর্থ করে পারাপার

দৃশ্যত এইসব ভান
ঢেকে থাকা আলোর শহর
কী করে সেসব বলি আজ
বরফ চাপা পড়া স্বর

স্মৃতি স্বভাবে মনে পড়ে
যেন শামখোল উড়ছে একাই
সরে যাওয়া পথ থেকে দূরে
আজো থেমে থাকি সন্ধ্যায়

অলংকরণ হিম ঋতব্রত