আমরা একটি কল্যাণকর রূপরেখা নিয়ে নগরে আসি একদিন।

কিন্তু বসন্তের হাওয়া ছড়িয়ে গেলে আমরা স্বপ্নের খোলসের ভেতর ঢুকে পড়ি। পুরো এক মৌসুম আমরা আর স্বপ্ন নিয়ে জাগতে পারি না। খোলস থেকে যখন বের হই তখন ঝড়ের মৌসুম। ততদিনে নগরের সমস্ত মৌসুমি ফুল ঝরে গেছে। তখন ফলের পরিপুষ্টতার জন্য অপেক্ষা করতে করতে অনেক ঝড়ের মেঘ দেখি। কত সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে চারিদিক। নগরীর সবচে প্রাচীন বৃক্ষটি ঝড়ে ভেঙে গেছে। অসংখ্য পাখির মৃত্যু হয়েছে। আর বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিষাদগ্রস্ত করে তুলেছে চাষিদের তুমুল হাহাকার। যদিও অনেক বৃক্ষ ও পাখির আহত হবার শব্দ শুনি, কিন্তু কান্নার দাগটুকু লেগে থাকে মানুষের চোখে। আমরা তাই পাখি ও বৃক্ষের শোক বুকে নিই। আর মানুষের চোখের উপরে চোখ তুলে তাকাই। সেখানে স্বপ্নের কত সৌধ গড়ে উঠে ভেঙে গেছে। এসব বেদনা ও ক্লেদ মেখে মেখে আমরা ঝড়ের দিনগুলো দেখি। একেকটা সময় বের হয়ে আসি উন্নয়নপ্রকল্পের ধুলোভরা রাস্তায়। আড়ালে আমরা অনেক গোষ্মা করি, খিস্তি করি অথবা বিদ্রোহের বানি আওড়াই। আমাদের রূপরেখার অংশ হিসেবে শহরের মোড়ে মোড়ে বিদ্রোহের পোস্টার সাঁটাই। লাল অক্ষরে দেয়ালে দেয়ালে লিখে দিই কিছু মৃত মানুষের নাম। আমাদের হাতে মৃত নাগরিকের দীর্ঘ একটা লিস্ট। আমরা জীবিত অনেক মানুষকে সেসব নামে ডাকি। মূলত উসকে দিতে চাই যে, তোমরাও কি তাদের প্রতিবিম্ব নও?   

আমাদের মৃত নাট্যশালা যাতে করে আবারো দুর্বার করে তোলা যায় সে বিষয়ে আমরা আলাপ করি। নগরের তরুণ তরুণীদের মাঝে একটা সংকেত আমরা পৌঁছাতে চাই, তাই লাল খামে গণচিঠি বিতরণের কথা ভাবি। আমাদের উদাত্ত আহ্বান কি কারো কানে পশে না? রোজ রাতের হিসেব নিকেশে এই একটি প্রশ্নই আসে। তারপর আমরা কয়েকজন তরুণ রাতের রাস্তায় বের হয়ে পড়ি। আমরা অদ্ভুতভাবে লক্ষ করি যে, রাতের কুকুর আমাদের কখনো শত্রু ভাবে না। কিন্তু পুলিশ আমাদের মোড়ে মোড়ে দাঁড় করিয়ে জেরা করে। পোস্টারের রঙ কেন লাল হলো সে বিষয়ে আমরা কোনো সদুত্তর করি না। আমরা বলি যেভাবে কৃষ্ণচূড়া রক্তের মত লাল হলো। অথবা আমাদের রক্ত যেভাবে হলুদ হলো না। অন্তরালে আমরা মূলত ধারণ করি লাল। এভাবে আমরা পাশ কাটিয়ে যাই। আমরা আমাদের পুরনো পোস্টারগুলো খুঁজি। আমরা দেখি যে, দেয়ালে দেয়ালে আমাদের কল্যাণকর রূপরেখা নগরের বাতাসে আধছেঁড়া পোস্টার হয়ে উড়ছে। বাকি সব পোস্টার ঢাকা পড়েছে নতুন অনেক চমক জাগানিয়া বিজ্ঞাপনের আড়ালে। আমরা হঠাৎ বিমর্ষ বোধ করি। নগরে রোজ এতো এতো বিজ্ঞাপন সাাঁটানো হয় যে, দুদিনেই আমাদের কল্যাণকর রূপরেখা চাপা পড়তে থাকে।

সকালের রোদ চড়ে গেলে আমরা বিশেষ কিছু গলির ভেতর পায়চারি করি। তখন টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাক অবতারের মত অবতীর্ণ হয় তুমুল ধূলা উড়িয়ে। এক মুহূর্তের জন্য নগরের দালান কোঠা অদৃশ্য হয়ে যায়। আমরা চোখ ডলতে ডলতে তাকাই। পা ফেলি কিঞ্চিৎ দ্রুত। ট্রাকটির কাছে পৌঁছে গেলে দেখি উপচে পড়া ভিড়। মানুষজনের দেহ থেকে ছলকে উঠছে ঘাম। আমরা সেখানে প্রবীণ এক নেতাকে দেখি। সম্ভবত ব্যাগ দিয়ে মুখ ঢেকে আছে রোদ থেকে বাঁচতে। আমরা তার পাশাপাশি হই। সে খানিক বিব্রত হেসে বলে, এই যে দেখো এতো তোড়জোর করে বান আসে যে, আমরা অনায়াসে বানের জলে ভেসে যাই। একটা জীবন কতভাবে অপচয় হয়ে যাচ্ছে। মূলত আমাদের জীবন অপচয় করানোর বিবিধ প্রকল্প খুলে রাখা হয়েছে। খাদ্য আহরণের পেছনে জীবনের সমস্ত স্বপ্ন ঢেলে দিতে হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও এই সত্য আমাদের মাথা তুলে আকাশ দেখতে দেয় না। আমরা পাখির উড়ে যাবার সৌন্দর্য বুঝি না। আমাদের মমতাময় মনটাতে অনেক নির্লিপ্ততা এসে জমা হয়। তখন এসব বয়ানের মাঝখানে সাবের আসে। আমরা তারও কিছু বয়ান শুনবো বলে উৎসাহী হই। সাবের বলে, আমাদের মনে রোজ কতগুলো হাহাকার জন্মে, আমরা তার একটা ফিরিস্তি করবো বলে উদ্যোগ নিই। যদিও এখন এসে মনে হয়, আসলেই আমরা ফিরিস্তি বানাতে পেরেছিলাম কিনা। কারণ আমরা হৃদয় দিয়ে টের পাই, হাহাকার আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসেরও বেশি। এসব চমক জাগানিয়া তথ্য নিয়ে বহু দিন আমরা রাজপথে ঘুরি। আমাদের যেন আরো গোপন ও সর্বনাশা কোনো দৃশ্যধারণের বাকি থেকে যায়। অথচ উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়া নগরে আর কিছুই চোখে ধরে না। এভাবে একদিন আমরা লাশবাহী গাড়ির সাথে হেঁটে যাওয়া কিছু মানুষের দুর্ঘটনা দেখে ফেলি। আমরা বিস্মিত হই যে, তাদের যাত্রা কত সহজ হয়ে গেল। সম্ভবত তাদের বিপুল সৌভাগ্য দেখে আমাদের কিঞ্চিৎ ঈর্ষা হয়। যেভাবে আমাদের ঈর্ষা হওয়া উচিত ছিল এক বন্ধুর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ডান হাতটি কাটা পড়ায়। জীবন এমনতর কিছু সহজ আখ্যানের মত হোক, এমন প্রত্যাশা নিয়ে রোজ আমরা দিনলিপি তৈরি করি।

টিসিবির পণ্য সংকট, এমন এক প্রচারণায় হঠাৎ হুলস্থুল শুরু হয়। চড়া রোদে আমাদের আরো ঘাম ছোটে, হৃদয় বিদীর্ণ হয়। আমরা দেখি এক বৃদ্ধা আহত হয়েছে। সে নাকের ওপরে ঘামের মত করে রক্ত মোছে। তাপ ছড়ানো সড়কের পিচ শুষে নিয়েছে আরো কিছু রক্ত-ঘামের ফোঁটা। আমাদের দেখে সে বলে, কিছু মালপত্র পাইলে জীবন একটু সহজ হয় বাপ। কিন্তু মানুষ কেমন করি য্যান অন্ধ হয়া গেছে। বুড়া মানুষকে ধাক্কা দিয়া কেমনে মানুষ সামনে আগায়। এভাবে আমরা তার আরো ভাষ্য শুনি যে, এই ধরায় তার আত্মীয় বলতে কেউ নাই। সে যৌবন অতিবাহিত করে আসা মানুষ। সে সময়ে তাদের সমৃদ্ধি ছিল ঈর্ষণীয়। বিনসিড়া নদীর উপর যে রেলব্রিজ, সেখান থেকে এক মিনিট হাঁটলেই তার ঘর। বিনসিড়া স্টেশনে তাদের ছিল ‘মায়ের দোয়া’ ভাতের হোটেল। মায়ের দোয়ায় কোনো খাদ না থাকলেও একদিন হোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ অলাভজনক এই রুটে ট্রেন আর চলবে না বলে ঘোষণা আসে। রেল এত সহজে তার রুট বদলে ফেললেও মানুষজন হঠাৎ রুট বদল করতে পারে না। মানুষজন মূলত দিশেহারা হয়ে কাটিয়ে দেয় লম্বা এক সময়। মৃত ছায়ার মত তারা রেললাইন ধরে হাঁটে, প্লাটফর্মে বসে থাকে রোদ বৃষ্টির মৌসুমেও। তারা আলো ছায়ার মত অন্ধকারে দেখে বিনসিড়া রেলব্রিজের উপর দিয়ে দানবের মত ট্রেন চলে যাচ্ছে। রাতের ট্রেন এসে থামলে স্টেশন পাড়া হঠাৎ মুখরিত হয়ে উঠছে। সফেদা বুড়ি ভাঙা খুপড়ি ঘরের ভেতর থেকে এখনো হঠাৎ চমকে উঠে বাইরে আসে। পাড়ার মানুষজন জড়ো হলে সাক্ষ্য দেয় যে, ট্রেনের হুইসেল সে স্পষ্টই শুনেছে। এভাবে, আশ্চর্যজনকভাবে বৃদ্ধার শেষ উক্তিটি আমরা শুনি। তারপর ফিরে আসতে আসতে আমাদের নাট্য আন্দোলনের জন্য রিহার্সেল করি কয়েকটি ঢঙে, ‘আমরা ঘর পোড়া গরু কিন্তু সিঁদুরে মেঘ দেখে আর ডর আসে না। এখানে সর্বত্র ছড়ানো মৃত্যুর বিবিধ ফাঁদ। অথবা আমরা চারপাশে শুধু মৃত্যুর ছায়া দেখি।’

আমরা কিছু স্লোগানের জন্য অনেক গল্পের ভেতরে ভ্রমণ করি। আদতে আমাদের গল্পসংগ্রহশালা একদিন শূন্য মনে হয়। অথচ এটা নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল, স্বপ্ন ছিল আরো অধিক কিছু। স্বপ্ন এমনি কিনা, এসব নিয়ে একদিন বিতর্ক হয় আমাদের। নাগরিক দাসত্ব মেনেও যত্নে এক রাজকন্যা আমরা মনের ভেতরে পুষি। সিংহাসনের জন্য তবুও কি একদিন বিদ্রোহ করি আমরা। যদিও বা জানি, মৃত্যু ও দ্রোহের উপাদানে দু’হাত আমাদের ভরপুর। কিন্তু দীর্ঘ চিন্তা নিয়ে ক্রমাগত আমরা ভারাক্রান্ত হই। মৃত্যু আরো নৈকট্য দাবি করলে বিদ্রোহ বিষয়ে কখনোই আর সমাধান আসে না। এসব বিতর্ক খানিক উজ্জীবিত করে আমাদের। আমরা তাই ‘শক্তি’ নামে একটি গল্প সংগ্রহশালা খুলে গঞ্জের দিকে ছড়িয়ে পড়ি। আমরা মূলত রোদে পোড়া মানুষদের সাথে কথা বলি। সাঁওতাল পল্লীতে কেন এতো ঘন ঘন আগুন লাগে, আমরা তার রহস্য জিজ্ঞেস করি। এক বৃদ্ধ আমাদের দিকে এগিয়ে আসে। তাকে দেখে আমাদের মনে হয় জীবন্ত কয়লার মত। দেহ এত পোড়া হয় নাকি, আমরা অবাক চোখে তাকাই। সে নিজেকে আগুনের সন্তান দাবি করে। এমনকী তার গোত্রের সবাই এবং সমস্ত কিছু আগুনের সন্তান। তাই বারো মাস এখানে উত্তাপ ছড়ায়। কখনো আগুনে জ্বলে যায় গোটা জনপদ। পত্রিকার পাতায় কখনো কখনো সেসব সংবাদ আপনারাও দেখে থাকেন।

আমরা ভীষণ রকম দুঃখিত হই। তাদের মত আমাদের দিকেও অনেক চোখ রাঙানো দৃষ্টি আসে। আদতেই আমরা জানি তাদের জনপদে ঘন ঘন কেন আগুন লাগে। এই আগুন তারা আর বাইরে ছড়িয়ে দিতে পারে না। দ্রোহের অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাস বুকে নিয়ে তারা আগুনে পুড়তে পুড়তে অঙ্গার হয়। তাদের বিস্তৃত ভূমি ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসে। মহাবিপন্ন অস্তিত্ব নিয়ে তারা এক গভীর সংকটকাল অতিবাহিত করে।

রাখালপাড়া নামে এমন আরো এক জনপদের সন্ধান আমরা পাই উত্তরের পলি অঞ্চলে। যে পাড়ার সমস্ত তরুণ আর যুবক এক রাতে নিখোঁজ হয়ে গেছে। দোল পূর্ণিমার রাতে বিচিত্র এক উৎসবের কথা শোনা গিয়েছিল। যে উৎসবে তরুণ ও যুবকের অংশগ্রহণ জনপদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। সে রাতে রাখালপাড়ার সমস্ত তরুণ বের হয়ে যায়। এবং দীর্ঘ পাথার তাদের পাড়ি দিতে দেখা যায়। তারপর কেউ আর তাদের হদিস দিতে পারে নাই। ভাগ্য বদলাতে তারা গোপন কোনো চুক্তিতে বিদেশ গেছে কিনা এমন এক রব ওঠে। এমন এক গুঞ্জন রাখালপাড়ায় শান্তির হাওয়া দেয়। হয়ত অচিরেই খামভরা অর্থ এসে পৌঁছাবে ঘরগুলোতে। এভাবে সত্যই তারা দৈন্যতা ঘোচার স্বপ্ন দেখে নিরালায়। কিন্তু এক সকালে রাখালপাড়ায় কান্নার তুমুল রোল ওঠে। ভূমধ্যসাগরে পঁচাত্তর জন বাংলাদেশি নিয়ে এক ট্রলার ডুবির ঘটনা শোনা যায়। রাখালপাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়া যুবক ও তরুণদের সংখ্যাও পঁচাত্তর বলে তারা ঘটনাটি অমোঘ হিসেবে ধরে নেয়। এই ঘটনার মাস তিনেক পরে আরো এক সংবাদ রাখাল পাড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ইউরোপের গহীন কোনো বনে কয়েকমাস বয়সী এক গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে পঁচাত্তর জন পুরুষের কংকাল গণনা করা হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এরা সকলেই বাংলাদেশি ছিল। এই সংবাদে বিপুল কানাকানি পড়ে গেলেও রাখাল পাড়ার জনগণ এবার আর কাঁদে না। তাদের ভাষ্যমতে তাদের চোখে আর পানি আসে না। বুকে তাদের স্থায়ীভাবে পাথর বসে গেছে। তারা চিন্তা করে, এভাবে দেশে দেশে বিভিন্ন সময়ে তাদের সন্তানদের মৃত্যু হবে। তখন আমরা আরো তীর্যকভাবে তাদের দিকে দেখি। আমরা টের পাই যে, সমস্ত শক্তির উৎস তারা হারিয়ে ফেলেছে। তবু বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা রাখালপাড়া পুনর্গঠনের চেষ্টা করে। সম্ভবত সামর্থ্যেরও ঊর্ধ্বে উঠে তারা তাদের ভূমি আঁকড়ে ধরতে চায়। কিন্তু সেখানে শক্তি প্রদর্শন করতে করতে সকাল বিকাল দলবল আসে। আমরা তাদের ঊর্বরভূমি দখল হবার ভয়ের কথা শুনি। শুধু নড়বড়ে ভিটেবাড়ি যে বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট হতে পারে না সেটা তো সহজ কথা। আমরা তাই তাদের ভবিষ্যৎ দেখতে পাই। আমরা দেখি এক বিরান মাঠ। কিছুদিন আগেও সেখানে চোখ জুড়ানো সবুজ ফসলের মাঠ ছিল। এমন অন্নদাত্রী ভূমি কেমন করে যে খাঁ খাঁ হয়ে গেল! একটা গরুকে সারা বিকেল কিছু তৃণ খোঁজ করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে দেখি। কেমন মাটি পোড়া হাহাকার ছড়ানো গন্ধ আমরা পাই। সে গন্ধ একটি বিকেল অতিপ্রাকৃত জীবনের স্বাদ আমাদের এনে দেয়। আমরা তাহাই বুকে নিয়ে রবি মারান্ডির সাথে দেখা করতে যাই। আমরা দেখি যে তার শেষ সময়। মমতাময়ী নার্সদের কাছে সে আকুল হয়ে পানি প্রার্থনা করে। আমরা জানি যে, পানির জন্যই সে কীটনাশক বেছে নিয়েছে। বাবুরা কত দিন যে তাদের ভূমিতে পানি দেয় নাই, তার সঠিক হিসাবও আমরা জানি না। তবু তাকে আমরা জিজ্ঞেস করি যে, কেন কীটনাশক খেলেন।

রবি মারান্ডি আমাদের শেষ কথাটা বলে যে, দুঃখ লেগেছিল।

এই বিষাদময় বাক্যটা আমরা বুকের ভেতর টুকে নিই। আমরা ভাবি যে, ভূমির মৃত্যু হলে ভূমিপুত্রের মৃত্যুও অমোঘ হয়ে যায়।

অলংকরণ শিবলী নোমান