।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

 ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ১৯৭১ সালে যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গা। এই জেলা থেকেই যুদ্ধ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হতে শুরু করে। সিদ্ধান্ত হয় চুয়াডাঙ্গাতেই হবে প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠন। সে অনুযায়ী যাবতীয় প্রস্তুতি ও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে খবরটি জানার পর জেলার ওপর  ১০ এপ্রিল সকাল থেকেই চলে মুহুর্মুহু বোমা হামলা। পরে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে স্থান পরিবর্তন করে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।

তবে ১০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার মানুষের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন জেলাবাসী। যদিও এখনও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে আক্ষেপ। তবু প্রতিবছরই ১০ এপ্রিলে নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়।

জানা যায়, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ ঘোষণার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যুদ্ধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হতো সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা থেকে। ভৌগলিক ও অবকাঠামোগত দিক থেকে যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও বেছে নেওয়া হয় এই জেলাকে। সীমান্ত জেলা হওয়ার সুবাদে যুদ্ধের সময় দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের আনাগোনাও ছিল এই অঞ্চলে। সবদিক বিবেচনা করে প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠনের জন্য চুয়াডাঙ্গাকে নির্বাচন করেন তাজউদ্দীন আহমদ। বিদেশি গণমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবরের সূত্র ধরে ১০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার ওপর বর্বর হামলা ও গণহত্যা চালায় হানাদার বাহিনী। ফলে কৌশলগত কারণে মেহেরপুরের মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে প্রথম সরকার।

প্রথম অস্থায়ী রাজধানী বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব হাবিব জহির রায়হান বলেন, আশপাশের এলাকার সমন্বয়ে চুয়াডাঙ্গায় হয় যুদ্ধ পরিচালনাকেন্দ্র। তখন থেকেই বিশেষ গুরুত্ব ছিল চুয়াডাঙ্গার। কিন্তু ১০ এপ্রিল ঘিরে চুয়াডাঙ্গার ইতিহাস অনেকটাই চাপা পড়েছে।

লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী কাজল মাহমুদ বলেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠনের বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। সে সময়ের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতেও উঠে আসে চুয়াডাঙ্গার প্রথম রাজধানী হওয়ার নেপথ্যের কারণ। তবুও মেলেনি স্বীকৃতি। তাই চুয়াডাঙ্গাবাসীর আক্ষেপ অনেক।

মুক্তিযোদ্ধা ও সংস্কৃতিকর্মী নুরুল ইসলাম মালিক বলেন, চুয়াডাঙ্গার তরুণদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ফলেই ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা মুক্ত ও স্বাধীন ছিল। কিন্তু প্রথম অস্থায়ী রাজধানীর স্বীকৃতি মেলেনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম অস্থায়ী রাজধানীতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৯৩ সালে ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রথম অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি চান জেলাবাসী।