।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মুন্সীগঞ্জের স্কুল শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করেছিলেন। কেন ছাত্ররা তার ওপর অসন্তুষ্ট হলো, সেই বিষয়ে তদন্ত করছি।

শনিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলিস্তানে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরে সংস্থাটির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই শিক্ষকের প্রতি যেন কোনো অন্যায় না হয় এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি। তদন্তের পরেই আমরা বলতে পারব ঘটনাটা কী হয়েছিল। যে ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে। শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি অহেতুক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু করছি। চারলাইন রাস্তাগুলো এখন ছয় লাইন করছি। দুই লাইন রাস্তাগুলো চারলাইন করছি। এই কাজগুলো আমাদের আরও আগে করা দরকার ছিল। একটি শহরে ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা প্রয়োজন। সেখানে আমাদের আছে ১০ ভাগ রাস্তা। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতু হয়ে যাচ্ছে। এখন যতগুলো রাস্তা ও হাইওয়ে হচ্ছে সবগুলোর পাশ দিয়ে সার্ভিস লাইন তৈরি হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেকটা উপজেলায় একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে ৪৫৬টি ফায়ার স্টেশন আছে। খুব দ্রত সময়ে প্রধানমন্ত্রী আরও ৪০টি ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করে উন্নয়ন করা হচ্ছে। এই বাহিনীকে আগামী দিনে একটি সুদক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রশিক্ষিত, আধুনিক ও বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইনসহ সংস্তাটির ঊর্ধতন কর্মকর্তারা।

গত ২০ মার্চ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান পড়ানোর সময় প্রসঙ্গক্রমে শিক্ষার্থীর প্রশ্নে ধর্ম নিয়ে কথা বলেন। তখন ক্লাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী সেই কথা রেকর্ড করে। পরে ধর্ম নিয়ে ‘আপত্তিকর’ কথা বলার অভিযোগ তুলে এলাকায় হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর ওই শিক্ষককে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়।

ঘটনার দুদিন পর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী (ইলেক্ট্রশিয়ান) মো. আসাদ বাদী হয়ে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ২৩ মার্চ তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করলে জেল হাজতে পাঠানো হয়।