।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

যুদ্ধের ২৩ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধানে আসতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান রেখেছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

তা না হলে রাশিয়াকে পস্তাতে হবে বলেও শনিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি হুঁশিয়ার করেন বলে সিএনএন জানিয়েছে।

ইউক্রেইনের নেটোতে অন্তর্ভুক্তির আগ্রহের পর মস্কো-কিইভ টানাপড়েনের মধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশী দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।

এই যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার দূরত্ব আরও বেড়েছে। রুশ-ইউক্রেইন কয়েকদফা আলোচনা চললেও তাতে অগ্রগতি আসেনি।

এই যুদ্ধের আট বছর আগে ইউক্রেইনের ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। সেই দখলের বর্ষপূর্তি যখন মস্কোতে ভ্লাদিমির পুতিন উদযাপন করছিলেন, তখনই নতুন ভিডিও বার্তায় রাশিয়ার প্রতি বার্তা দেন জেলেনস্কি।

তিনি বলেন, “আমি চাই, সবাই আমাকে শুনুন, বিশেষ করে যারা মস্কোতে রয়েছেন। এখন সময় এসেছে সরাসরি আলোচনার, এখন সময় এই অঞ্চলের সম্মান ফিরিয়ে আনার, ইউক্রেইনের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার।

“যদি তা না হয়, তবে রাশিয়া এমন ক্ষতির মুখে পড়বে যে কয়েক প্রজন্মের চেষ্টায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।”

মস্কো-কিইভ আলোচনায় ইউক্রেইনের পক্ষ থেকে জেলেনস্কি-পুতিন সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব তোলা হচ্ছে। তবে তাতে রাশিয়ার সায় এখনও মেলেনি। রাশিয়া চাইছে, ইউক্রেইন নেটোতে যাবে না, এমন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিক।

ভিডিও বার্তায় মস্কোকে সতর্ক করে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেইনে সামরিক অভিযান রাশিয়াকে নিজ দেশেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে।

সংলাপে নিজের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সব সময় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষপাতি। আমরা সবসময়ই সংলাপের কথা বলে এসেছি। সেটা শুধু এই ২৩ দিনে নয়, আগেও।”

“এই যুদ্ধ বন্ধ করতেই হবে। ইউক্রেইনের এই প্রস্তাব এখন আলোচনার টেবিলে,” বলেন তিনি।

রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইতোমধ্যে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় বাস্তুহারা হয়েছে। অনেকে পাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

এই বাস্তচ্যুতদের জন্য সহযোগিতা কর্মসূচিও ঘোষণা করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে যারা উদ্বাস্ত হয়েছে, তাদের সহযোগিতায় পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন মন্ত্রীরা।

এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- যারা ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্য স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের সেখানেই চাকরির ব্যবস্থা করা; যাদের ঘর ধ্বংস হয়েছে, তাদের ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া, বিধ্স্ত বাড়ি মেরামত করা ইত্যাদি।