মেঘদূত ও বরষা

শুধু
একবার বলে দেখো
বুঝিয়ে দেখো আমায়।
তোমার কারণে নদী হবো, হবো উত্তাল সমুদ্র
আর দৃঢ় পাহাড়কে চিরে গহীন বনের মাঝে ঝরনা হবো
সবকিছু অতিক্রম করতে প্রস্তুত…

ও বরষা
পরের জন্মে যমুনা হবো
শিউলিতলার দূর্বা হবো
অনন্তনীল আকাশ হবো
ভ্রমর হয়ে ছুটেছি বারবার
ঝিলের জলে পদ্মপাতায় বেঁধেছি ঘর।

তোর চোখের কোণে এক ফোটা বর্ষণের জন্য
উন্মত্ত এ মন, ব্যাকুল পাথার
তোর বুকে একটু মাথা রাখার জন্য
এই নদী, ঝরনার জল, সবুজ বৃক্ষ, নীল আকাশ
পাখির কলরব, স্নিগ্ধ আবেশ
ফিরে আসবো মেঘদূত হয়ে বারবার এই বাংলায়।

করোনার জ্বালা ও মোমবাতি

মহাকালের পথ ধরে আমি চলেছি একা
সঙ্গীহীন, নিঃসঙ্গ পথচারী
বিশ্ব চরাচরে জনক-জননী একদা সম্বোধন করেছিল, ‘মা’
সেই হতে এই পরিচয়ে ধরায় স্থান নিয়েছি
কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে নিজেকে সাজিয়েছি অপরূপা রূপে।

কোনো এক ঘরে তাদের স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হবে এই নারী
মন দিয়ে পড়াশোনা করতাম সেবার বাসনায়
কোচিং করতে যাই বাবার বয়সি স্যারের বাসায়
তিনি ডেকে নিলেন পড়ার পাশের রুমে
কিন্তু একি কিছু বোঝার আগেই
হাত পা বেঁধে ফেললেন, কিছুতেই ছাড়াতে পারলাম না নিজেকে
পশুর মত, শিক্ষিত জানোয়ার আমায় ধর্ষণ করলো;
তারপর—
কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে নিজেকে সাজিয়েছি অপরূপা রূপে।
কলেজে যাওয়ার সময় বখাটেরা টিজিং করে নিত্যদিন
থানায় প্রাথমিক তথ্য বিবরণ দিতে গেলাম ছোট ভাইটিকে নিয়ে।

আমি টুম্পা—
পিস্তলের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করলো মডেল থানার ওসি।
তারপর—
কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে নিজেকে সাজিয়েছি অপরূপা রূপে।
সমাজনেতারা বলে জানোয়ারে ভরে গেছে দেশটা
সাবধানে চলাফেরা করিস মা!
সাবধান কি পোশাকে, চলাফেরায়?
পেঙ্গুইন পাখির মত কালো রঙে আবৃত করলাম সমস্ত দেহ
বিশ্বাস করুন সমাজপতিগণ, হাতে পায়ে মোজা পরলাম
চোখের পরে পর্দা দিলাম, মুখে নিলাম আল্লাহ নবীর নাম।

আমি খাদিজা নূর—
তারপরও রাস্তায় একা পেয়ে ওরা গণধর্ষণ করলো!
তারপর—
কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে নিজেকে সাজিয়েছি অপরূপা রূপে।
ভালোবাসার মানুষটাকে বিশ্বাস করে আমি তখন তানিয়া
তার সাথে পার্কে গিয়েছিলাম, এই কি আমার দোষ?
বন্ধুদের নিয়ে গণধর্ষণ করলো!
যাক এবার ভালোবাসার টানে প্রেমিকের সঙ্গে চেয়েছি বিয়ে করতে।

আমি মেঘলা—
তার বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করল
আদরে সোহাগে গলা কেটে বস্তায় ভরল
আমি বললাম, কি রক্ত পান করবে?
সে বলল, ‘না, মেঘনা নদীতে ফেলে দিব’
তারপর—
কৃষ্ণচুড়ার লাল রঙে নিজেকে সাজিয়েছি অপরূপা রূপে।
সমাজনেতা, রাজনেতাদের কথায় বাড়িতে থাকতে হবে
থাকলাম সেইভাবে, কোনো প্রেম প্রস্তাবে আর নয় সাড়া

নাম আমার নুসরাত—
বখাটেরা ছাড় দেয়নি আমাকেও, আমার মাকে
এক বিছানায় নিয়ে ধর্ষণ করে।
গার্মেন্টসকর্মী আয়েশা হাড়ভাঙা শ্রম দিয়ে ফেরার পথের
একটু সন্ধ্যা হলে বাসে কিংবা পায়ে হাঁটা পথে
নিরাপত্তা দেবে কোনজন?
এ কোন বিশ্বচরাচর? দায় নেবেন না সমাজপতিগণ?
ধর্ষিত লাশ অভিযোগ করবে কোন আদালত, কালো গাউনের কাছে?
না তারা কিছুই করবে না
শুধু নীরবতা… করোনার বার্তা…
এরা মানুষের ক্রন্দন বুঝে না, অভিশাপ বুঝে না
অর্থ তাদের দেবতা, তার জন্য এরা ব্লেড দিয়ে
কেটে কেটে যোনিপথ বড় করে
কারণ আমি তো চার বছরের শিশু;
কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে নিজেকে সাজিয়েছি অপরূপা রূপে।
মনের কোণে মোমবাতি জ্বালিয়ে একটুখানি
শোনো অদৃশ্যমান জগতের ভাষা
গুবরেপোকাদের একটানা শব্দ শোনো
সৌর বর্ণালির অ্যাকটিনিক রশ্মি যেন
অভ্যর্থনা জানালো আর কিছু বলল না
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসের বিচিত্র ঐকতান তোমার ফুসফুসে—
‘আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’