।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

যুদ্ধের মধ্যে অনেকে পালিয়ে এলেও ইউক্রেইনের দুই শহর মারিওপোল ও সুমিতে ১০ বাংলাদেশি আটকা পড়ার খবর মিলেছে।

শনিবার দুপুরে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন এই খবর জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “মারিওপোল শহরে দুজন এবং সুমিতে ৮ জন আটকা পড়েছেন। আপনারা জানেন, সেখানকার পরিস্থিতি খুব কঠিন। এই ১০ জন বাংলাদেশিকে শহর দুটি থেকে সরিয়ে নিতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি।”

ইউক্রেইনের সুমি শহরটি দেশটির পূর্ব-উত্তরাঞ্চলে রাশিয়া সীমান্তের কাছে। এর কাছের খারকিব শহরে রাশিয়ার বাহিনীর ব্যাপক গোলাবর্ষণের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়ে এসেছে। সুমিতেও বৃহস্পতিবার রাতে বোমা হামলা হয়েছে।

মারিওপোল শহরটিও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রুশ সীমান্তের কাছে। সেই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর শনিবার রাশিয়া সেখানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে বেসামরিক মানুষদের সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে।

এই দুটি শহরই ইউক্রেইনের পশ্চিম সীমান্ত থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে। ইউক্রেইন থেকে যারা পালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে পোল্যান্ডে ঢুকছেন। ওই সীমান্তের রুমানিয়া ও মলদোভা সীমান্তেও যাচ্ছেন শরণার্থীরা।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদেশের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে না বেরিয়ে সুমিতেই কোনো শেল্টারে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

স্থানীয়দের হিসাবে ইউক্রেইনে কয়েক হাজারের মতো বাংলাদেশি রয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর তারা বিপাকে পড়েন।

পাশের দেশ পোল্যান্ডে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে। সেখান থেকে বাংলাদেশিদের দেখভালের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধের মধ্যে গোলার আঘাতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৮ নাবিক শনিবার সকালে দেশে ফেরার যাত্রায় ওলভিয়া বন্দর থেকে নতুন গন্তব্যে রওনা হয়েছেন।