।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

রুশ বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলীয় ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী খেরসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র। এক সপ্তাহ শুরু হওয়া আগ্রাসনে তীব্র লড়াইয়ের পর এই প্রথম বড় কোনও শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাশিয়া। মেয়র ইগোর কোলিখায়েভ জানান রুশ সেনারা নগর কাউন্সিল ভবনে জোর করে ঢুকে পড়েছে এবং বাসিন্দাদের ওপর কারফিউ জারি করেছে।

এক সপ্তাহের রুশ আগ্রাসনে বুধবার সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দিন প্রত্যক্ষ করেছে ইউক্রেন। বেশ কয়েকটি শহরে তীব্র গোলাবর্ষণ হয়েছে। ইউক্রেনে সংগঠিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

ইউক্রেন অভিযানে প্রথমবারের মতো সামরিক ক্ষয়ক্ষতির স্বীকারোক্তি দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি ইউক্রেনে তাদের ৪৯৮ সেনা নিহত এবং এক হাজার ৫৯৭ জন আহত হয়েছে। অবশ্য ইউক্রেনের দাবি রাশিয়ার হাজার হাজার সেনা নিহত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রুশ আগ্রাসন শুরুর পর দুই হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। এছাড়াও এই যুদ্ধের কারণে দশ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি।

এক ফেসবুক পোস্টে মেয়র ইগোর কোলিকায়েব জানান, রুশ বাহিনী খেরসন নিয়ন্ত্রণ করছে। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষ্ণ সাগর উপকূলের এই শহরে প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার মানুষের বাস।

মেয়র বেসামরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ না করতে রুশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শহরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কোনও সদস্য নেই। মেয়র কোলিকায়েভ ‘ইউক্রেনীয় পতাকা ওড়া’ অব্যাহত রাখার স্বার্থে বাসিন্দাদের রুশ বাহিনীর আরোপ করা বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এসব বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সময় রাত দশটা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত কঠোর কারফিউ মেনে চলা। সর্বোচ্চ দুইজন একসঙ্গে বাইরে যাওয়া। খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য সামগ্রী বহনকারী গাড়িগুলোকেই কেবল শহরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে, তবে গাড়ি চালাতে হবে সর্বনিম্ন গতিতে।

কৃষ্ণ সাগরে মিলিত হওয়া ডিনিপার নদীর তীরে অবস্থিত খেরসন শহর দখল রুশ বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে সেখানে ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে রুশ বাহিনী। আর সেই ঘাঁটি ব্যবহার করে তারা ইউক্রেনের আরও ভেতরে অভিযান চালাতে পারবে।

ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও তীব্র বোমাবর্ষণ চলছে। শহরটির মেয়র দাবি করেছেন বোমা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকাতেও আঘাত হানছে আর মারাত্মক বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হচ্ছে।

আর দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর মারিয়োপোলে কয়েক ঘণ্টার তীব্র গোলাবর্ষণের পর শত শত মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে রুশ বাহিনীর কিয়েভ ঘিরে ফেলার চেষ্টার গতি ধীর হয়ে পড়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহরটির উত্তর দিক থেকে আগাতে থাকা রাশিয়ার বিশাল সামরিক বহর বুধবার সারাদিনে প্রায় নড়েইনি। তবে বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরের রাতভর কিয়েভে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী শহরে সারা রাতই বেজেছে বিমান হামলার সাইরেন। সূত্র: বিবিসি