।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে রুশ অভিযানের ঘোষণা দেন ২৪ ফেব্রুয়ারি। রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে ইউক্রেনে বুধবার (২ মার্চ) সপ্তম দিনের মতো যুদ্ধ চলছে। শান্তি আলোচনায় বসেও এই যুদ্ধ থামেনি।

ইউক্রেনে ভ্লাদিমির পুতিনের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনে নেমে রাশিয়ায় অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন।

এবার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে রাশিয়াজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিলেন দেশটির কারাগারে বন্দি থাকা বিরোধী দলের নেতা আলেক্সি নাভালনি। 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পুতিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাশিয়া ও বিশ্বের অন্য দেশেও প্রতিদিন বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে টুইট করেন নাভালনি। 

একটি হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া রাশিয়ার বিরোধী দলের নেতা আলেক্সি নাভালনি এক বছর ধরে কারাগারে বন্দি। ওই হামলার জন্য তিনি ক্রেমলিনকে দায়ী করেন। 

মস্কোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে বন্দি থেকেই টুইট বার্তায় আলেক্সি নাভালনি বলেন, ‘রাশিয়ার মানুষ শান্তির জাতি হতে চায়। কিন্তু খুব কম লোকই এখন আমাদেরকে এটি বলবে’। 

চলমান যুদ্ধ না দেখার ভান করে ভীত জাতি হওয়া রাশিয়ানদের উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘এটি একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক। এখনো আমরা ট্যাংক ও বোমা হামলায় ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ফেলার খবর দেখছি। আমরা টিভিতে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করার প্রকৃত হুমকি দেখছি’। 

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনী দেশটির একের পর এক শহরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সপ্তম দিনের মতো যুদ্ধ চলছে। 

যুদ্ধে ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত ১৩৬ জন নিহত হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে ইউক্রেন থেক অন্তত ৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ পাশের দেশগুলোতে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা। 

ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রথম থেকেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথা পশ্চিমারা বললেও ইউক্রেনের পাশে এসে যুদ্ধে নামেনি। 

এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমাদের সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।