।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টোলেনবার্গ শুক্রবার জানিয়েছেন, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী জোটের সদস্য দেশগুলোতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এমন কয়েক হাজার কমান্ডো মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার আক্রমণ মোকাবিলায় ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অস্ত্র পাঠানো অব্যাহত থাকবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।

স্টোলেনবার্গ জানান, ন্যাটো তাদের র‍্যাপিড রেসপন্স ফোর্সের সদস্যদের মোতায়েন করতে যাচ্ছে। এই বাহিনীতে স্থল, বিমান, নৌ ও স্পেশাল অপারেশন্স ফোর্সের সদস্যরা রয়েছেন।

ন্যাটো জোটের ৩০টি দেশের মধ্যে কয়েকটি ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানান স্টোলেনবার্গ। তবে কেমন অস্ত্র ও কী পরিমাণে পাঠানো হবে তা সম্পর্কে বিস্তারিত বলেননি তিনি।

ইউক্রেনে রুশ হামলার পর রাশিয়ার প্রতিবেশী এস্তোনিয়া থেকে শুরু করে বুলগেরিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর ন্যাটো এই ঘোষণা দিলো। তবে আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও স্পষ্ট করেছেন, রাশিয়া আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের মোকাবিলায় পূর্ব ইউরোপের ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে। কিন্তু তারা ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করবে না।

মহাসচিব বলেন, ইউক্রেনকে সহযোগিতা দেয়ার জন্য মিত্ররা অঙ্গীকারবদ্ধ। সমন্বিত প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে আমরা প্রথমবারের মতো ন্যাটোর রেসপন্স ফোর্স মোতায়েন করতে যাচ্ছি। ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাবের কোনও অবকাশ নেই। প্রত্যেক মিত্র দেশ ও ন্যাটো ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় আমরা সবকিছু করব।

স্টোলেনবার্গ জানান, ইউক্রেনের সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করছে রাশিয়া। বলেন, আমরা বাগাড়ম্বর দেখছি, যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তাতে দৃঢ় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে কিয়েভের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে হটানোই লক্ষ্য।

এর আগে ন্যাটোর সুপ্রিম কমান্ডার কমান্ডার জেনারেল টড ওল্টার্স বহুদেশীয় এই বাহিনীকে সক্রিয় করেছেন। এক বিবৃতিতে রেসপন্স ফোর্সকে সক্রিয় করাকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে ইউক্রেনে রুশ ঠেকাতে লড়াইয়ের জন্য নয়, জোটের সদস্য দেশের জন্য প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাটো।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ন্যাটোর রেসপন্স ফোর্সের সদস্য ৪০ হাজারের মতো হতে পারে। তবে স্টোলেনবার্গ জানিয়েছেন, পুরো বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে না। ন্যাটো জারগন বলে পরিচিত স্পেয়ারহেড ইউনিটের একাংশ ভেরি হাই রেডিনেস জয়েন্ট টাস্কফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হবে। এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে ফ্রান্স।