তোমার নামের পয়ার

তুমি পবিত্র পুস্তকের ভাষা। সূর্যের মতো তীব্র আলোকময়। আমার নিরক্ষর মন, বুঝে নেবে শব্দের কম্পাঙ্ক। যখন পাথরে পাথর ঘষেছি, ছিটকে পড়েছে আগুনের সূক্ষ্ণাংশ। ঝর্ণাধ্বনি ও বাতাসের হাহাধ্বনি বহন করে এনেছে, আদিম কোনো সংগীত। অঙ্কিত না হওয়া চিত্রলিপির বাসনা।

যদিও শরীরে উল্কি আঁকা। পরনে গাছের ছাল-বাকল৷ মহিষের চামড়ায় বানানো ঢোলের বাদ্যে কতোটা উদ্বেল হবে মন। ষাঁড়ের মাথার পিয়ানো বাজাতে থাকি। মুগ্ধ হও। আমি এ মাটির সন্তান। সুর ও মহাসংগীতের ষজ্ঞে যতটুকু রাখো আড়াল, ততোধিক প্রকাশ্য তুমি। আমার বনতুলসির ফুল।

বুঝি, ভালবেসে ফেলেছি তোমায়। তাই পাখির বেশে রচনা করছি কুহক। যেন কলতান, পৌঁছে যাচ্ছে, দূর পাহাড়ের শীর্ষে। যেখানে তুমি জলের দর্পনে দেখছো মুখ, প্রাকৃতিক প্রসাধনী মেখে নিচ্ছো শরীরে। সেখানে বসে আমিও শস্য সংগ্রাহকের মতো রচনা করছি, তোমার নামের পয়ার।

হিব্রু পুস্তকের ভাষা

আমার ফকিরি বোঝ। শীতকালে দীর্ঘাকায় বৃক্ষেরা হারাবে যৌবন। তোমার বাগানের পথে ফুটে থাকবে ন্যাস্টারশিয়াম ফুল। ছায়া রাখবে আড়াল সূর্যালোক। তুমি জলের ঋতু রূপে নেমে আসলে না, বিরহের চারণভূমিতে। বললে না, অন্ধ রুদাকী পান করো রক্তকরবীর শরীর। দেখো, কেমন একা তুমি, ছেড়ে গেছে প্রিয়তমা, স্বজন-পরিজন। তোমার দেহ পিঁপড়েদের গুহা।

অথচ একদিন তুমি মাতিয়ে রাখতে, আত্মহত্যাপ্রবণ জ্যোৎস্নায় সংগীতের আসর। পরীরা হার্প হাতে দাঁড়িয়ে থাকতো। মিটি মিটি জ্বলতো তারকা রাজি। তুমি বাজাতে মেলোডিকা, যখন গেয়ে উঠতে গান, একটি পেখম তোলা ময়ূরীর নৃত্যের ভেতর মাথা দোলাতো রাজগোখরো। কী সব মাতাল রাত্রির হাওয়া!

যদি তুমি জানতে বিস্মিত হতে। আমিও গোপনে শিখেছি হিব্রু পুস্তকের ভাষা। পিতা আদম ও মাতা ঈভের বৃত্তান্ত। জ্ঞানবৃক্ষ ও বাকসম্পন্ন জীবের বিবরণী। তারপর তোমার প্রসঙ্গে, সবকিছু আদিম অগ্নিতে বিলীন হলো। পূর্ণজন্ম, তোমার প্রেমে পড়লাম। তোমার খোঁপার গোলাপটিকে বললাম, চুপ করো। জানোই তো, তার প্রেমের শরাবে আমি এক জবরদস্ত মাতাল।

মায়াবী মাংসের বনে

গভীর অরণ্যে নির্মাণ করেছি স্থল বসতি। পাথরের চাই দিয়ে দেয়াল তুলেছি। অরণ্যের ভেতর থেকে ভেসে আসছে পাখির কুহুতান। আমি বনে হরিণ শিকারে গেলে আমার স্ত্রী বেতের ঝুড়িতে তুলে আনবেন বাহারী ফলমূল। মৃৎপাত্রের সবুজ পাতাটির সঙ্গে মেতে উঠবেন গল্পে। তারপর ঘুমিয়ে থাকবেন সবুজ পালঙ্কে।

আমি শিকার থেকে ফিরে উন্মাদ হয়ে যাবো। যেন শিকারি জালে আটকে পড়া কবুতর। একটা জলঢোড়া গিলে ফেললো করোবোরি ব্যাঙ। দুঃসাহসে যাচ্ছে পেরিয়ে জলাধার। তোমাকে বলি, ভঙ্গ করো সমস্ত নির্জনতা। খুলে ফেলো অবগুন্ঠনের সাজসজ্জা। আমাকে করো তৃপ্ত, আমি সেই রক্তচোষা চুপাকাবরা। তোমার জন্য তৈরি করবো, গায়ক পাখিদের সংগীতানুষ্ঠান। যেহেতু তুমি ভালবাসো, গোল্ডেন ফিজ্যান্ট।

সরল প্রত্যয়ে জড়িয়ে আহত করো। যেন তোমার চোখ এক মরমী ধনুক, কৌশলে বিদ্ধ করেছো। কেটেছো হৃদয় ফালি ফালি আকারে। বোঝনি, লিপ্ত হয়েছি মহাশক্তির দ্বন্দে। তুমি কেবল নির্ভয়ে বুকের ভেতর হেঁটে বেড়াচ্ছো। তুমি আলোকিত করে রাখছে, বাঁকা চাঁদের জেল্লা।

প্রচ্ছদ রাজিব রায়