।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

জাতীর বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নতমানের বিশেষ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শুরু করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

স্মার্টকার্ড (আইডিইএ-২) প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার কাজি আশিকুজ্জামান বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানান।

মুক্তিযোদ্ধাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখা বিশেষ স্মার্টকার্ড দেয়া হবে। এক্ষেত্রে স্মার্টকার্ডের চিপ’র নিচ দিয়ে লেখা থাকবে শব্দ দু’টি।

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রাধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ দেশের ১০০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে এই বিশেষায়িত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হবে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে।

কাজি আশিকুজ্জামান জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখা সংবলিত বিশেষ স্মার্ট কার্ড প্রদানের জন্য  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সংগ্রহ করে অনুমোদিত তালিকার ভিত্তিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হবে।

বর্তমানে দেশে গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬০ জন। যে সকল মুক্তিযোদ্ধারা পূর্বে স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে এই বিশেষ মর্যাদা পূর্ণ স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে।

২০ ডিসেম্বর বিশেষ এই স্মার্ট কার্ডের নকশা তৈরি করতে সাত সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশ ও পরামর্শ অনুযায়ী স্মার্ট কার্ডের ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী বর্তমান স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের অবয়ব ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট অপরিবর্তিত থাকবে। 

স্মার্ট কার্ডে তিন স্তর বিশিষ্ট ২৫ টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথম স্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য খালি চোখে দেখা গেলেও দ্বিতীয় স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলো দেখার জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ যন্ত্র।

অন্যদিকে ল্যাবরেটরিতে ফরেনসিক টেস্টের মাধ্যমে শেষ পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়ে থাকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা শব্দ দু’টি সংযোজনের ফলে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (দেখাপড়া) এবং যাচাই যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই প্রথম কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য স্মার্টকার্ডের ডিজাইনে পরিবর্তন এনেছে কমিশন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্যাদি স্মার্ট কার্ড এবং ডাটাবেজেও সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষিত থাকবে। 

২০০৭ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এনআইডি কার্যক্রম শুরু করে ইসি। এরপর বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ২০১১ সালে স্মার্টকার্ড (আইডিইএ) প্রকল্পরহাতে নেয়া যায়। সেই প্রকল্প শেষ হলে ২০২০ সালে আইডিইএ-২ প্রকল্প হাতে নেয়া হয় সরকারি তহবিল থেকে। বর্তমানে এর অধীনে দেশের সকল নাগরিককে স্মার্টকার্ড সরবরাহের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ইসির সার্ভারে ১১ কোটি ১৭ লাখের মতো ভোটারের তথ্য রয়েছেন। এদের প্রায় সকলেই লেমিনেটেড এনআইডি পেয়েছেন। আর স্মার্টকার্ড পেয়েছেন ৬ কোটির বেশি নাগরিক।