।। বার্াকক্ষ প্রতিবেদন ।।

রাজশাহী ওয়াসার পানির দাম এক লাফে তিন গুণ বেড়েছে। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে এই বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে বলে রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাকীর হোসেন জানিয়েছেন।

রাজশাহী শহরবাসী এক লাফে পানির দাম তিন গুণ বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

চলতি বছর জানুয়ারির শুরুতে রাজশাহী রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) এ নিয়ে তাদের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম আবাসিকে ৬ দশমিক ৮১ টাকা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ১৩ দশমিক ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে পাইপের ব্যাস ও ভবনের তলার ভিত্তিতেও নতুন দাম নির্ধারণের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

দাম বৃদ্ধির বিষয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, “ওয়াসার পানি সব সময় ঠিকমতো পাওয়া যায় না।”

মহামারীর মধ্যে পানির দাম না বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

রাজশাহী উপশহরের বাসিন্দা আজমাল হোসেন বলেন, “দুই টাকার যায়গায় তিন টাকা হতে পারে। কিন্তু ছয় টাকা হয় কী করে? আমাদের তো আয় বাড়েনি। তাহলে পানির দাম এত বাড়বে কেন? এটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।”

তবে ওয়াসা কর্মকর্তা জাকীর হোসেন দাম বৃদ্ধি পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ওয়াসার পরিধি দিন দিন বাড়ছে। সাথে খরচও বাড়ছে। এছাড়া বেড়েছে জীবন-জীবিকার মান। ফলে পানির দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সবকিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

“তাছাড়া দাম বাড়ানোর পরও এটি দেশের অনেক শহরের চেয়ে কম। সবশেষ ২০১৪ সালে ওয়াসা এক দফা দাম বাড়িয়েছিল। প্রায় আট বছর পর আবার বাড়ানো হল।”

সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখাকে আলাদা করে ২০১০ সালের ১ আগস্ট ওয়াসা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বর্তমানে ১০৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে তা পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে জাকীর বলেন, শহরে পানির চাহিদা প্রতিদিন ১১ কোটি ৩২ লাখ লিটার। তবে ওয়াসা নয় কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। ৭১২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে এ পানি শহরে সরবরাহ করা হয়।