।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

করোনা ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর আগে পাঁচটি ধাপে ৩ হাজার ৫৫০টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ হয়েছে। এবারের ধাপে দেশের ২২ জেলার ৪২ উপজেলার ২১৮টি  ইউপিতে ভোট চলছে। করোনার মধ্যে ভোট অনুষ্ঠানে ইসির পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

এ ধাপের ২১৮ ইউপির মধ্যে ২১৬টিতেই ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোট হচ্ছে। মাত্র দুটি ইউনিয়নে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। একইসঙ্গে এতগুলো ইউপিতে ইভিএমে ভোট আগে হয়নি। নির্বাচন গ্রহণে সব প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঘের মাঝামাঝি সময়ে এসে সারাদেশেই জেঁকে বসেছে শীত। বেশ কয়েকটি জেলায় টানা তিনদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণে সকালবেলার ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হবে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

যদিও এর আগের ধাপের স্থানীয় এই নির্বাচনের আগে-পরে ও ভোটের দিন বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে সহিংসতায় সারা দেশে পাঁচটি ধাপে এ পর্যন্ত ৯৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, এই নির্বাচনে ২১৮ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার রয়েছে ৪১ লাখ ৮২ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১ লাখ ১৪ হাজার ৭২০ জন, নারী ২০ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ জন এবং ৬ জন হিজড়া ভোটার। এসব ভোটার ২ হাজার ১৮৬টি কেন্দ্রের ১৩ হাজার ৩০৫টি কক্ষে ভোট প্রদান করবেন।  নির্বাচনে সারাদেশে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ হাজার ৬০৪ জন প্রার্থী। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ১৯৯, সংরক্ষিত আসনে ২ হাজার ৫৫৯ জন এবং  সাধারণ সদস্য পদে ৭ হাজার ৮৪৬ জন।

ইসি সূত্র জানায়, ষষ্ঠ ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে ১৪৪ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১২ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৩২ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১০০ প্রার্থী ।

ইসি সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা পর্যন্ত ৫৪ ঘণ্টার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এছাড়া শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এসব নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণাও বন্ধ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা পূর্বে প্রচার কাজ বন্ধ করতে হয়।

করোনার ঝুঁকির মধ্যে ইউপি ভোট অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, এমনিতে ইউপিগুলোর মেয়াদ এক বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। আমরা প্রায় সবগুলো নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। কিছু ইউপি বাকি হয়েছে তা শেষ করতে চাই। তাছাড়া পরিষদগুলোতে পুরনো প্রতিনিধি বসিয়ে রেখে লাভ কী। তবে আমরা করোনা পরিস্থিতিতে ভোট গ্রহণের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করেছি।

প্রসঙ্গত, সপ্তম ও শেষ ধাপে ১৩৮ ইউপিতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে।