।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

নাটোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় জেলা ফুটবল দলের গোলরক্ষকসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন।

রোববার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলা নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের নারায়নকান্দি এলাকায় ও সকালে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল-ঢাকা মহাসড়কের আগ্রান সুতির পাড় এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। 

নিহত দু’জন হলেন, শহরের উত্তর বড়গাছা এলাকার আল মামুনের ছেলে ও জেলা ফুটবল দলের গোলরক্ষক সাফায়েত হোসেন ফারদিন (১৬) ও বড়াইগ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম (২২)। 

এ সময় নাটোর এলাকায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালক শৈবাল (১৭), শহিদুল(২০) এবং পিযুষ (৩০) নামে তিন ব্যক্তি । বড়াইগ্রাম এলাকায় চারজন আহত হলেও তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

নিহত সাফায়েত নাটোর অনুর্ধ-১৬ স্কুল ফুটবল লীগ, ঢাকা সিটি করপোরেশন পাইওনিয়ার ফুটবল লীগ, বিকেএসপির ২০১৯ ব্যাচের ছাত্র ছিল। এছাড়া নিয়মিত নাটোর জেলা দল এবং ফুটবল একাডেমি, নাটোরের হয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও লীগে গোলরক্ষক হিসেবে খেলতেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

নিহত আশরাফুল ইসলাম বড়াইগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের ইসাহাক প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি মোবাইল চার্জার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ছুটিতে বাড়ি এসে মাত্র আটদিন আগে বিয়ে করেছেন। কিন্তু হাতের মেহেদী না শুকাতেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। 

ঝলমলিয়া হাইওয়ে পুলিশের সার্জন জাহিদুল ইসলাম জানান, রোববার বিকেলে মোটরসাইকেল নিয়ে নাটোর থেকে বন্ধুসহ ফারদিন শহরের তেবাড়িয়ায় বাসায় ফিরছিল। পথে নারায়াণকান্দি এলাকায় তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে রাজশাহী থেকে নাটোরমুখী একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে চারজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে তাদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ফারদিনের মৃত্যু হয়। আহত শৈবালকে রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলা রুজু করা হয়েছে। 

অপরদিকে, বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কেরামত আলি জানান, বড়াইগ্রামে ট্রাক্টর ও সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলাম নামে এক নববিবাহিত যুবক নিহত হয়েছেন এবং এ সময় চালকসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পৌঁছানোর আগেই আহতের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেননি।