।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম পাপুয়া প্রদেশের সরং শহরে দুই জাতিগোষ্ঠীর সংঘর্ষ এবং অগ্নিকাণ্ডে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ‘ডাবল ও’ নামের একটি নাইট ক্লাবে আগুন লেগে ১৮ জনের মৃত্যু হয়।

ছুরিকাঘাত হয়ে প্রাণ হারান অপর একজন, যিনি সংঘর্ষে জড়ানো জনজাতির সদস্য। তবে সংঘর্ষের কারণেই নাইট ক্লাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, না কি দুর্ঘটনাবশত আগুন লেগেছে―তা এখনও স্পষ্ট করতে পারেনি পুলিশ।

সরং পুলিশ দপ্তরের মুখপাত্র আহমেদ রামাদান বলেন, ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার (২২ জানুয়ারি)। ওইদিন দুই জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা লাগে। এরপর পুলিশ ও প্রশাসন দুই গোষ্ঠীর নেতা ও ধর্মীয় নেতাদের ডেকে আলোচনার মাধ্যমে গোলমাল মিটিয়ে দেয়। তবে ঝামেলা যে পুরোপুরি মেটেনি, তা স্পষ্ট হয় মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে।

সরংয়ের পুলিশ প্রধান অ্যারি নিয়োতো সেতিয়াওয়ান বলেন, রাত ১১টার দিকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। চাপাতিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তারা একে অপরের ওপর আক্রমণ শুরু করেন। ‘ডাবল ও’ নাইট ক্লাবের ভেতরেও ওই দুই গোষ্ঠীর সদস্যরা সংঘর্ষে জড়ান। তাদের মধ্যে অনেকে সশস্ত্র অবস্থায় সেখানে যান। বহুতল নাইট ক্লাবের দোতলা থেকে প্রথম আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। আগুনে ওই বাড়িসহ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ক্লাবের বাইরে দাঁড় করানো একটি গাড়িও।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যায়। ক্লাবের ভেতরে আটকে পড়া অতিথিদের উদ্ধার করেন তারা। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে দেখা যায়, ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৮টি দেহ পড়ে রয়েছে। আর একজন ছুরিকাঘাত হয়ে মৃত। অন্য জনগোষ্ঠীর হামলাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সরং পুলিশ বিভাগের দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা জড়িত নন।