।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

করোনার অতি সংক্রমণশীল ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের তাণ্ডবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৩৩ জন। মহামারিকালে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্ত। এর আগে গত বছরের ২৮ জুলাই ১৬ হাজার ২৩০ জন শনাক্ত হয়েছিলেন। নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ছাড়ালো। এই সময়ে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন আরও ১৮ জন। তাদের নিয়ে দেশে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮ হাজার ২৫৬ জন মারা গেলেন।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সব মিলিয়ে দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৭ জনের। গতকাল ১৪ হাজার ৮২৮ জনের শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদফতর। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে নতুন রোগী শনাক্ত বেড়েছে ১ হাজার ২০৫ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ হাজার ৯৫ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে উঠলেন ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ৪০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৮৫ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৪৯ হাজার ৬৯৭টি আর পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ হাজার ৪৯২টি।

দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ১২ হাজার ১৭৯টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৮৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮৪টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৮ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৫টি।

এর আগে গত বছরের ২৮ জুলাই এর চেয়ে বেশি ১৬ হাজার ২৩০ জন শনাক্ত হয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১২ জন আর নারী ছয় জন। এদের নিয়ে দেশে করোনায় এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৮ হাজার ৬২ জন, আর নারী ১০ হাজার ১৯৪ জন।

মৃতদের মধ্যে শিশু রয়েছেন দুইজন। এদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের একজন, আরেক জনের বয়স ১০ বছরের নিচে। তবে বয়স বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের। অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের, ৬১ থেকে ৭০ বছরের আছেন চার জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে আছেন তিন জন, ৯১ থেকে ১০০ বছর এবং আর ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সসীমার মধ্যে মারা গেছেন দুই জন করে।

মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে আট জনই ঢাকা বিভাগের। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জন আর রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের আছেন একজন করে।

এরমধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১০ জন, আর বেসরকারি হাসপাতালে আট জন।