।। শোবিজ প্রতিবেদক ।।

রোজই সিনেমাপাগল কয়েক তরুণ আড্ডায় বসেন। হঠাৎ করেই একদিন সেখান থেকেই তাদের বাতিক চাপলো- সিনেমা বানাবেন রাজশাহী থেকে। ততদিনে স্বল্পদৈর্ঘ্য অনেকেই বানিয়েছেন। আহসান কবির লিটন নিজেও করেছেন। টেলিভিশনের জন্য নাটকও বানিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু এবার তিনি বানাতে চললেন পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। কমিউনিটি ফিল্মের ধারনা তিনি প্রয়োগ করতে চান এদেশে। ২০১১ সালে শুরু হলো এক যাত্রা। নির্মাণ হলো দেশের প্রথম কমিউনিটি সিনেমা ‘প্রত্যাবর্তন’।

এই গল্পের সেই শুরুর সময়টায় সেই তরুণদের পথ ধরে বেড়ে উঠছিলো একদল শিশু-কিশোর। চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটির ব্যানারে তারা সিনেমা দেখায়, দেখে, বানায়। প্রায় একদশক পরে এসে তাদেরই একজন তাওকীর ইসলাম রাজশাহীর এই উদ্যমে যোগ করলেন আরেক কাজ। বানিয়ে ফেললেন দুর্দান্ত এক ওয়েব সিরিজ ‘শাটিকাপ’। এর মাধ্যমেই ওটিটি প্লাটফর্মে রাজশাহীর কোনো বড় কাজ প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে।

কমিউনিটি সিনেমা ‘প্রত্যাবর্তন’ নির্মাতা আহসান কবির লিটন বলেন, “কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের শহর এটা (রাজশাহী)। এখানকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব এই ধারনা নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। খুশির খবর হলো, আমাদের সেই ধারাবাহিকতা নতুনরা আরও সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।”

লিটনের মতে, ঢাকার বাইরে এ ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা অনেক বেশি। তারপরেও দীর্ঘ সময় ধরে তারা চেষ্টা চালিয়েছেন নির্মাতা-কলাকুশলী ও কারিগরী সক্ষমতা তৈরির দিকে। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে সবকিছুই ঢাকাকেন্দ্রীক। অথচ অনেক ভালো নির্মাতা ঢাকার বাইরে আছেন। তাদেরকে নিয়ে কাজ করতে পারলে অনেক কিছু করা সম্ভব। কিন্তু উপযুক্ত বিনিয়োগ সেক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”

‘শাটিকাপ’ নির্মাতা তাওকীর ইসলাম মনে করেন, রাজশাহী থেকে শুরু করার কারণে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন শব্দগুলোকে অনেক আপন করা সম্ভব হয়েছে। দিল্লি থেকে চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে আসা এই নির্মাতা বলেন, “আমাদের ওয়েব সিরিজটি নির্মাণ করতে গিয়েও দেখেছি এখানকার সব মানুষের যে আন্তরিকতা আমরা পেয়েছি, তা অতুলনীয়।” তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক পরিসরে যেকোনো ভালো কাজ নিয়ে যাবার সুযোগ করে দিয়েছে ওটিটি প্লাটফর্মগুলো। সেকারণে যেকোনো প্রান্ত থেকে ভালো কাজ করা সম্ভব।

আহসান কবির লিটন বলেন, “আমাদের দেশের আনাচে কানাচে না-বলা অনেক গল্প আছে। সে হিসেবে আমাদের নতুন গল্পের কোনো অভাব নেই। বিশ্বের কোথাও সে কারণে একটি দেশের একটি জায়গা নিয়ে সব কাজ হয় না। যেটা আমাদের এখানে হয়ে আসছে। পাশের দেশ ভারতে দেখুন। ওদের মুম্বাইয়ের মতো প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র শিল্পের কেন্দ্রকে কীভাবে সমানে পাল্লা দিয়ে চলেছে সাউথ ইন্ডিয়ানরা। পশ্চিমবঙ্গেও ভালো কাজ হচ্ছে। মারাঠী ভাষায় কাজ হচ্ছে। আবার খুব পিছিয়ে থাকা আসামও আজকাল ভালো কাজ করতে শুরু করেছে। আমার স্থির বিশ্বাস, সব ধরনের সমর্থন পেলে আমরাও পারবো।” প্রত্যাবর্তনের একদশক পর শাটিকাপকে সেই দৃষ্টিতেই দেখেন লিটন।