তামিম শিরাজী

।। তামিম শিরাজী ।।

ঘটনা নভেম্বরের মাঝামাঝি। হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার সর্বজনীন পূজামণ্ডপের আশেপাশে পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় এক যুবককে। সন্দেহজনক ওই যুকবকে স্থানীয়রা পুলিশে দেয়। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ খুব বেশি কিছু বের করতে না পারলেও যুবকের উদ্দেশ্য যে ভালো ছিল না তা অন্তত এই পরিস্থিতিতে ধারণা করাই যায়।

এবারের শারদীয় উৎসবের নারকীয় সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব বোধকরি এখন অবধি আমাদের স্মৃতিতে বর্তমান। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়ানো হয়েছিল তার রেশ ধরে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনায় প্রাণ গেছে মুসলিম হিন্দু উভয়ের, ভাঙচুর হয়েছে প্রায় ৭৬টি মণ্ডপ। ২২ জেলার প্রায় ৭২টি জায়গায় হামলা হয়েছে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর। কুমিল্লার ঘটনার পর প্রায় সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা, প্রশাসন যা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায়।

পুলিশ যদিও ইতোমধ্যে কুমিল্লার ঘটনার মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে তবুও এতোগুলো মন্দির মণ্ডপে হামলার ঘটনায় পুলিশ খুব একটা কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ন হতে পারেনি। সাম্প্রদায়িক আগুনের আঁচ আমাদের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পাশের দেশ ভারতেও স্ফুলিঙ্গের জন্ম দিয়েছে, কুমিল্লাসহ সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্রকরে ত্রিপুরায় মুসলিমদের বাড়িঘর ও মসজিদে ভাঙচুর চালিয়েছে উগ্রবাদী হিন্দুরা। 

এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কখনোই কাম্য নয়,এখান থেকে উত্তরণের পথ আমাদের খুঁজে বের করা দরকার। কোনো একখানে পড়েছিলাম, যদি তুমি সমস্যা সমাধানের পথ সামনে খুঁজে না পাও তবে পেছনে দেখ। আমাদেরও বোধকরি সময় এসেছে পেছনে খুঁজে দেখার। প্রিয় পাঠক, চলুন  আজ সেইসব পেছনের ভুলগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, যা আমার মতে, এই উগ্র সাম্প্রদায়িকতার জন্য দায়ী এবং যার সংশোধন আমাদের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পথে নিয়ে যাবে। 

এক.

এই ভূখণ্ডের মানুষগুলো ছিল শান্তিপ্রিয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ। এখানে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান একসাথে সৌহার্দ্য বজায় রেখে বসবাস করে এসেছে। ইংরেজদের দুষ্টচক্রান্তে দেশভাগের আগে হিন্দু মুসলিমকে ধর্মের নামে লড়িয়ে দেওয়া হল। ধর্মের নামে বিভাজিত হল দুটি দেশ, আমাদের ভূখণ্ডে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শুরু সেখান থেকেই। ইংরেজরা নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিল ধর্মকে, কারণ ধর্মের ব্যাপারে এই ভূখণ্ডের সরল মানুষগুলো ছিল অত্যন্ত অনুভূতিশীল।

এরপর বহু সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটে গিয়েছে আমাদের এই ভূখণ্ডে যার প্রধানতম উপকরণ ছিল রাজনীতি। চব্বিশ বছর পর ৪৭-এর ভুল সংশোধন করেছিল বাঙালি। দ্বিজাতিত্বত্তকে ভুল প্রমাণ করে ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান এক হয়ে লড়াই করে রক্তের দামে কিনেছিল বাংলাদেশ নামক সেক্যুলার দেশটি। একাত্তরে বাঙালি মুসলিমরা বুঝেছিল সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান তাদের রাষ্ট্র নয়, এই ভূখণ্ড তাদেরসহ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান আদিবাসী সবার যার নাম বাংলাদেশ।

কিন্তু সেক্যুলার বাংলাদেশের স্বপ্নের পতন হয় ৭৫ এ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুকে খুনের পরিবেশ তৈরি করতে এবং খুনের পর নিজেদের ঘৃণ্য অপরাধ জায়েজ করতে খুনিরা ব্যবহার করে ধর্মকেই। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে বাংলাদেশের নাম এবং কাঠামো পরিবর্তনের বহু চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে বঙ্গবন্ধুর খুনের সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত ষড়যন্ত্রকারী স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান। ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেওয়া হয়, খুনিদের পুরস্কৃত করা হয় বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে চাকরি দিয়ে এবং দেশে থাকা খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয় বিভিন্ন পদে।

ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় প্রথম আঘাত হেনে জিয়াউর রহমান সংবিধানে “বিসমিল্লাহ্‌ রাহমানির রাহিম” সংযুক্ত করে।এরপর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করা হয় এবং যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনে উগ্র সাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামের রাজনীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা হয় যা ৭২ এর সংবিধান দ্বারা নিষিদ্ধ ছিল।

একথা স্পষ্ট যে স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখে গেছে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে নানা রাজনৈতিক দোলাচলে স্বৈরশাসক এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর, নিজের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য রাষ্ট্রধর্ম বিল পাশ করায়। এটি ছিল ৭২ এর সংবিধান বিবর্জিত এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পরিপন্থী। স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর দেশে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এলেও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার থেমে যায়নি। বিভিন্ন সময় ধর্ম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা ইংরেজ থেকে শুরু করে আমাদের দেশীয় অপশক্তির হাতে শোভা পেতে আমরা দেখেছি।

দেশের দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক জোট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় আছে। আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন জোটের দলগুলো সেক্যুলার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করলেও কিছু মধ্যপন্থার ধর্মভিত্তিক দল তাদের সাথে  আছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের দ্বিতীয় প্রধান দল উগ্র সাম্প্রদায়িক জামায়াতে ইসলাম। যদিও বিএনপি নিজে কোন ইসলামিক দল নয় তবুও তাদের সাথে উগ্র সাম্প্রদায়িক দলগুলোর বেশ সখ্য আছে এবং বিএনপিও জামাতের মতো উগ্র সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানী ভাবধারার দেশ প্রতিষ্ঠার দিবাস্বপ্ন এখনো দেখে। বেশিরভাগ সময় বিএনপি জোট তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করে থাকে। ভোটের আগে পরে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় হয়ে উঠে তাদের প্রধান নিশানা। এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি জামাতের বিতর্কীত ভূমিকা তারা এখনো বজায় রেখেছে। যে কারণে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং দেশের উন্নয়ন ঠেকাতে তারা সার্বক্ষণিক ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত থাকে। আর তাদের মূল হাতিয়ার সেই ধর্ম।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের দল গুলো যে ধর্মকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করে না এমনটা কিন্তু নয়।তাদেরও কেউ কেউ নানা সময়ে বুঝে না বুঝে ধর্মকে ব্যবহার করে বসে নিজ স্বার্থে। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর প্রবণতা থেকেই তৈরি হয় বিচারহীনতা, পুলিশের সঠিক পদক্ষেপ না নেবার ক্ষমতা, পুলিশ কেসে হাজারখানেক আসামী কিন্তু গ্রেফতারে অপারগতা ইত্যাদি জটিলতা। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হলে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ছাড়া এটি কোনভাবেই সম্ভব নয়, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দলীয় নীতি আদর্শে চালিত হলেই কেবল তা সম্ভব। আর সেই সাথে ধর্মভিত্তিক উগ্র সাম্প্রদায়িক দলগুলোর রাজনীতি আইন করে বন্ধ করা গেলে, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কমে আসবে। 

দুই.

মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে, জীবন দিয়েছে। সকল ধর্মের সকল বর্ণের সকল গোত্রের মানুষের রক্তে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান চেতনা ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা।ধর্মের নামে পাকিস্তানের জুলুম পীড়ন তাদের আসল পরিচয় চিনিয়েছিল। বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার খ্রিষ্টান, বাংলার মুসলমান…আমরা সবাই বাঙালি। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা স্থান পায় চার মূলনীতির একটিতে, অন্য তিনটি জাতীয়তাবাদ-সমাজতন্ত্র-গণতন্ত্র। এই চার মূলনীতিই বাংলাদেশের মূল ভিত্তি।আগেই বলেছি কীভাবে স্বৈরশাসক জিয়া এসে ৭২ এর সংবিধান দুমড়ে মুচড়ে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেন। কী ছিল ৭২ এর সংবিধানে, ঠিক কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন করা হয়েছে, যা উগ্র সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়েছে, তা নিরূপণ করা দরকার। 

১৯৭২ সালে সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন নিষিদ্ধ ছিল। উক্ত সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, ‘জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে; তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক অন্য কোনো সমিতি বা সংঘ গঠন করা বা তার সদস্য হওয়ার বা অন্য কোনো প্রকারে তার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করার অধিকার কোনো ব্যক্তির থাকবে না।’    

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দ্বিতীয় ঘোষণাপত্র (পঞ্চদশ সংশোধন) আদেশ, ১৯৭৮ দ্বারা ৩৮ নং অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বিষয়ে যে বিধিনিষেধ ছিল তা অবলুপ্ত করা হয়। দ্বিতীয় ঘোষণাপত্র (পঞ্চদশ সংশোধন) আদেশটি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হয় যার ফলে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ধর্মভিত্তিক দল গুলো রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ পায়, যা বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় সম্ভব ছিল না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক ফরমানের মাধ্যমে তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর মাধ্যমে মূলত উগ্র সাম্প্রদায়িক দল জামায়াতে ইসলামকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হয়।  

৭২ এর সংবিধানের মূল আবেদন ধর্মনিরপেক্ষতাকে আরো একবার কলুষিত করেন স্বৈরশাসক এরশাদ, তার রাষ্ট্রধর্ম বিল প্রণয়নের মাধ্যমে। ১৯৮৮ সালে এরশাদের অবৈধ শাসনামলে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীতে যুক্ত করা হয় রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।   

সংবিধানে “বিসমিল্লাহ” সংযুক্তি, ৭২ এর সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদ বাতিল এবং রাষ্ট্র ধর্ম বিল এই তিনটিই ছিল ৭২ এর সংবিধান বিবর্জিত এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পরিপন্থী। এই তিনটি পদক্ষেপ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যা ধর্মীয় উগ্রবাদকে উস্কে দিয়েছে। একটি ধর্মের প্রতি প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে সাংঘর্ষিক, অন্তত সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং রাষ্ট্রধর্ম একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রাধান্য ইঙ্গিত করে। এই তিন পদক্ষেপ বাতিল এবং সংশোধন করে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া সম্ভব। 

তিন.

বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক জোট সরকার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলেও সাম্প্রদায়িকতার সাথে খুব একটা তারা পেরে উঠেনি। অনেক সময় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সাথে তাদের আপোষকামিতা আমাদের শঙ্কিত করেছে। উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলামের কথা আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে। সরকারের আপোষকামিতার জন্য হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সরলো ন্যায়দেবী জাস্টিসিয়ার ভাস্কর্য, কয়েক জায়গায় রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, পাল্টে যায় পাঠ্যসূচি।

হেফাজত এদেশের প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের হিন্দু নাস্তিক আখ্যায়িত করে, তাদের লেখা পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেবার দাবি জানায়। হেফাজতী প্রেসক্রিপশনে পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, ফকির লালন শাহ্‌, হুমায়ূন আজাদসহ আরো অনেক প্রখ্যাত লেখকের লেখা। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সাথে সরকারের এমন আপোষকামিতা মেনে নেওয়া যায় না, অন্তত এই সরকারের ক্ষেত্রে তো নয়ই। এসকল আস্কারাতে উগ্রবাদী হেফাজত আরো ফুলে ফেপে উঠছে এবং ধর্মের নামে অধর্ম করে চলেছে। যত দ্রুত সম্ভব পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করে, বাদ দেয়া লেখাগুলো সংযুক্ত করে নতুন পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে হবে। অসাম্প্রদায়িক শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ছাড়া অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠন সম্ভব নয়। 

যেসব ভুলগুলো আমরা পেছনে করে ফেলেছি তা শুধরানোর সময় এসে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি, কেবলমাত্র এই সরকারের দ্বারাই মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আর সেজন্য আমাদের ৭২ এর সংবিধানে ফিরতেই হবে, ফিরতেই হবে। কারণ ৭২ এর সংবিধানই একমাত্র পথ যা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের দিকে আমাদের নিয়ে যাবে।      

তামিম শিরাজী রাজশাহীতে বসবাসরত একজন প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী