grand river view

।। বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী ।।

শুধু বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে নেতিবাচক কথা নয়, ফাঁস হওয়া অডিয়োক্লিপ যে বৈঠকের, সেখানে রাজশাহী সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়েও বেফাঁস কথা বলেন আব্বাস আলী। কাটাখালী পৌরসভার এই মেয়র ও পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সেদিন লিটনকে নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েক মিনিটের যে অডিয়োক্লিপ ছড়িয়েছে, উত্তরকালের হাতে এসেছে তার বর্ধিত একটি অংশ, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ মিনিট। সেখানে বৈঠকের উদ্দেশ্যও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিওক্লিপের উৎস অনুসন্ধান করে মঙ্গলবার রাতেই উত্তরকাল নিশ্চিত হয়, টেলিফোনের নয়, প্রচারিত অডিওক্লিপটি একটি বৈঠকের। বুধবার দিনভর অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট রাতে কাটাখালী মসজিদ সংলগ্ন কয়েকজন দোকান মালিকের সঙ্গে মেয়র আব্বাস যে বৈঠক করেন, অডিওক্লিপটি সেখান থেকেই ধারন করা। অনুসন্ধানে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন দোকান মালিকের হদিস মিললেও তারা কেউই এব্যাপারে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন। তাদেরই একজনের কাছ থেকে পাওয়া যায় পুরো অডিওরেকর্ডটি, যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ সময়জুড়ে মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে কথা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, সেই রাতে বৈঠকে ভীষণ উগ্র ও বেপরোয়া ছিলেন আব্বাস।

বৈঠকে খায়রুজ্জামান লিটনের প্রসঙ্গে আলাপ শুরু হয় সিটি করপোরেশনের এলাকা বর্ধিত করার কথা উঠলে। সম্প্রতি এব্যাপারে রাজশাহী সিটি মেয়রের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে আব্বাস আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, “মাইন্ড করলে করলো! আমার কিছু করার নাই। খায়রুজ্জামান লিটনকে কী সাইজ করছি বুঝতে পারছে না? আউমাউ করতে পারছে না। খালি গোঙ্গাচ্ছে। কিছু করতে পারছে না। সিটি নাও। নিবা আমার এটা? নাও! দেখি তোমার পাওয়ার কতো! পারছে না তো।”

আব্বাসের বেপরোয়া মনোভাব ফুটে ওঠে অডিওতে। কোনো একজনের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়, “এই কথাগুলো আমি বলছি, সেটা আপনি লিটন সাহেবকে গিয়ে সরাসরি বলেন। বলেন যে, আব্বাস আমাদের সবার সামনে এই কথাগুলো বলেছে।”

এসময় আব্বাস দাবি করেন, তার পৌর এলাকার মধ্যে কোনো এক জায়গায় প্রকল্পের জন্য মেয়র লিটন জমি কিনেছেন। তাকে বলতে শোনা যায়, “একটা মানুষ হঠাৎ করে আমার কাছে এসে বলে যে আমি জমি বেচবো না। আমার কাছ থেকে জোর করে নেবে। কে? তো, লিটন সাহেবের লোকজন। তা, আমি বললাম যে আপনার জমি আপনি বেচবেন না তো জোর করে নিতে পারে তাই? হ্যাঁ জোর করে নিবে, নাহলে আমাকে পুলিশ দিয়ে ধরাবে। তো আমার মাথাটা ফায়ার হয়ে গেলো।”

এসময় আব্বাস অশ্লীল গালিও ব্যবহার করেন। অডিওতে তাকে দাবি করতে শোনা যায়, এরপর তিনি মেয়র লিটনের প্রতিনিধিকে ডেকে বলে দেন যে, জোর করে কোনো জমি নেয়া যাবে না। তার ভাষায় তিনি বলেছিলেন, “কাটাখালীর চেয়ারে কে বসে আছে? ওর নাম আব্বাস। যা, যেয়ে বলে দিবি, আর ফারদার কোনো লোক যদি কমপ্লেন করে যে হ্যাঁ আমি জমি বেচবো না জোর করে নেবে, তাহলে তার প্রজেক্টে আসা বন্ধ করে দেবো।”

এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও তাকে ডেকে পাঠান বলে বলতে শোনা যায় আব্বাসকে। তিনি এ ধরনের কাজ করেছেন কি না, তাও জানতে চান। আব্বাসের দাবি, ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছেও তিনি বিষয়টি একইভাবে উপস্থাপন করেছিলেন।

অডিওতে মেয়র আব্বাস আরও দাবি করেন, মেয়র লিটন তার মনোনয়ন আটকানোর চেষ্টাও করেছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি ঘটনার বিবরণও তিনি অডিওতে দিয়েছেন। এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি আসলে মনে করি রাজনীতিতে কেউ কারো চাকর না তো। রাজনীতি হচ্ছে সম্মানের জিনিস।” আব্বাসকে আরও বলতে শোনা যায় যে, “আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। আমাকে নমিনেশন দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এখানে আজাইরা (অহেতুক) সব তিক্ততা তৈরি করে লস।”

আব্বাসের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, “যেসব নিউজ দেখলাম, তা থেকে শুধু এটুকু বলা যায়, যে ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করতে পারে, সে আর কাকে ছাড় দেবে?” এর বাইরে এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.