বৃক্ষ বিষয়ক

১.
সমস্ত গাছ ঘুমিয়ে পড়েছে। একটি পাতার ঘুম আসেনি।
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় গাছের।
টের পায় পাতার দীর্ঘশ্বাস।
পাতাটিকে বলে, এইবার তুমি ঘুমাও। আমি গান গাই।
অন্যান্য ডাল পাতাদের সঙ্গে নিয়ে ঝিরঝিরে হাওয়া দোলাতে থাকে পরি।
শিশির বিন্দুতে ভরে ওঠে পাতাটির ঘর।

২.
এক বাটি সিঁদুর জমিয়ে রেখেছে একটি গাছ। তারপর অনেক কাল চলে গেছে।
গাছের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে জরা, মৃত্যু, ক্রন্দন; বেজে চলেছে স্পর্শের তুমুল তোরঙ্গ।
হয়ত কোকিলও ডেকেছে কোনো কোনো দিন। আর কতদিন এইসব ঝড়, জল, বাতাস,
আগুন লুকিয়ে রাখবে নিমফুল, ভাবে গাছ।
এইভাবে দিন যেতে যেতে বয়স বেড়েছে পৃথিবীর। একদিন গাছটির কাছে আসে এক ক্লান্ত কাঠুরিয়া।
হাতে তার ধারালো কুড়াল। আমি তার ধারালো হাতের করতলে তুলে দেই বিহ্বল নিম।
কাঠুরিয়ার বুকে তখন বৃষ্টি নামে খুব। দুইচোখ বন্ধ করে ঘুমাতে চায় গাছ।
কাঠুরিয়া বলে, একটু তাকাও। গাছের কপাল বেয়ে গড়িয়ে নামে খুন… সলজ্জ সিঁদুর।

৩.
কিছুতেই ফাল্গুন না আসুক… সব সময় এই প্রার্থনায় থাকত পাতা। গাছ চাইত আসুক।
ফাল্গুন এলেই লাভ। ঝরে পড়বে পুরাতন। জন্ম নেবে নতুন।

একবার বসন্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামল পাতারা।
সেইবার ফুলও ফুটল না। পাখিও ডাকল না।
এইসব দেখে শুনে আত্মহত্যা করেছিল পাতা।

প্রচ্ছদ রাজিব রায়