পুনর্জন্ম

একটা সময় আসে যখন পিছিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়
পিছিয়ে যেতে যেতে
ইচ্ছে হয়
ইচ্ছে হয়
ইচ্ছে হয়
পুনর্জন্মের

আত্মহননের আগে

এখানে দাঁড়িয়ে উদাস ভঙ্গিতে তিনি কি যেন দেখছিলেন
হয়তো অতীত
অথবা ভবিষ্যতের অন্ধকার
সূর্য উঠবে না ভেবে সামনে সুদীর্ঘ রাতই জীবন ভেবে
উদাস ভঙ্গিতে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন
কাঁদছেন না
চোখে তার অপলক বিস্ময় নিয়ে একবার ডানে
একবার বামে
সামনেপিছনে তাকিয়ে ভাবলেন:
ব্যাপারটা এমন হচ্ছে কেন?
এই যে উপরে আকাশ আর তার মধ্যে মেঘ
সামনে একটি নদী যার ভেতরে পা ডুবানো
শীতল স্রোত ছুঁয়ে যাচ্ছে আর মেরুদণ্ড বেয়ে উঠে যাচ্ছে হিমশীতল ঢেউ
তিনি দাঁড়িয়ে আছেন আর এখানেই
একটি পুরানো নষ্ট উইপোকায় ধরা বৃক্ষের
পঁচা কাণ্ড বেয়ে একটি দড়ি নেমে আসতে থাকলো
পাশে রাতজাগা পেঁচা
তিনি উল্টো দিকে হাঁটলেন
আর ঝিরঝির শীতল বাতাস স্পর্শ করলো তাঁকে
টুংটাং শব্দের একতারা বাজলো
একটা পাখি তাঁর হাতের উপর এসে বসলো
অনেকদিন পর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি নামলো
সোঁদাগন্ধের মাটি থেকে জন্ম নিলো ঘাসপাতা
অনেকদিনই এই গাছটার নিচে দাঁড়িয়েছেন
একটি দড়ি কাণ্ড থেকে
বড়শির টোপের মতো নিচে নেমে এসেছে এতকাল
আজ সেই বৃক্ষটা নেই
দড়িটাও

যাবো

আমি একটু বাইরে যাবো
গিয়ে গাছতলায় দাঁড়াবো
তোমাকে দেখেই হে শালিক
আমি শুভেচ্ছায় হাত নাড়াবো
আমি একটু নদীর কাছে যাবো
অনেকদিনই বন্দি আছি মড়কে
তোমাকে দেখেই ও বন্ধু আমার
আবার হাঁটবো দীর্ঘ সবুজ সড়কে
আমি একটু সবুজ দেখতে যাবো
গিয়েই আমি দেখবো আকাশটাকে
তোমাকে দেখেই হে ঘাসফড়িঙ
রংধনুটা রাখবো বুকের তাকে
আমি একটু বাইরে যাবো
গিয়ে গাছতলায় দাঁড়াবো

অলংকরণ রাজিব রায়