grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন কেন তাকে দিচ্ছেন না? তিনি তো দয়া চাচ্ছেন না আপনাদের কাছে। আপনারা তার যে প্রাপ্য জামিন, সেটা দেন।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, আপনারা জেনেছেন দেশনেত্রী হাসপাতালে। কেন হাসপাতালে? যে তিন বছর তিনি জেলে ছিলেন, তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। ইচ্ছা করে তার চিকিৎসা করেনি। চিকিৎসকরাই বারবার বলেছেন—তার যে রোগগুলো আছে, সেগুলোর চিকিৎসা এখানে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্ভব নয়। এটা মাল্টি ডিসিপ্লিনারি যেসব হাসপাতাল বা সেন্টার আছে অর্থাৎ সব রোগের একসাথে চিকিৎসা করতে পারে—এই ধরনের মানসম্পন্ন হাসপাতালে তাকে নেয়া দরকার। চিকিৎসকরা পরিষ্কার করে বলেছেন—বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই, বাইরেই তাকে যেতে হবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন কেন তাকে দিচ্ছেন না? তিনি তো দয়া চাচ্ছেন না আপনাদের কাছে। আপনারা তার যে প্রাপ্য জামিন, সেটা দেন। এ ধরনের মামলায় সবাইকে তো জামিন দিয়েছেন। একজনও ভেতরে নেই—আমি জানি। তাহলে তাকে জামিন দিচ্ছেন না কেন?

আদালতে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করার ঘটনায় ‘ধিক্কার’ জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কেন জেলে? তার বিরুদ্ধে যে মামলা—দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকার মামলা এবং মামলার রায় যদি দেখেন, সেখানে কোথাও বলা নাই যে, তিনি তহবিল তছরুপ করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগটা হয়েছে যে, বিং আ প্রাইম মিনিস্টার তিনি সেটা লক্ষ্য করেননি বা দেখেননি। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, এই কথাটা এসেছে। অথচ তারা (সরকার) সমানে বলে যাচ্ছেন যে, এতিমের টাকা খেয়েছেন। আরে পুরো টাকা তো ১০ গুণ হয়েছে এখন। আপনারা তাকে জেলে রেখেছেন এই কারণে যে, আপনারা জানেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যদি বের হন তাহলে আপনাদের তখতে তাউস থাকবে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, গতকাল খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। কয়েকদিন ধরে তার অল্প অল্প জ্বর আসছিল, ‘লো ফিভার’ আসছিল। তার চিকিৎসকরা দেখেছেন, যেহেতেু সেই হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরে তার আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি, টেস্ট হয়নি। সুতরাং তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা তারা নিতে চান।

সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বিএনপির প্রয়াত নেতা অ্যাডভোকেট আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন এ আলোচনাসভার আয়োজন করে। আফসার আহমদ সিদ্দিকী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও যশোর-৫ আসন থেকে দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালের ১২ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই রাজনীতিবিদ।

ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক প্রয়াত নেতার সহধর্মিনী জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সদস্য জামিল আহমদ সিদ্দীকীর সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান বক্তব্য রাখেন।