grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে এক দিনে ৭৫ লাখ মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে সারাদেশে চলছে বিশেষ কর্মসূচি।

মঙ্গলবার সকালে দেশের চার হাজার ৬০০ ইউনিয়ন, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভা, সিটি করপোরেশনের ৪৪৩টি ওয়ার্ডে নির্ধারিত কেন্দ্রে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ২৫ বছরের বেশি বয়সী যারা আগেই টিকার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের মধ্যে থেকেই ৭৫ লাখ মানুষকে এদিন টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হচ্ছে। সেজন্য তাদের মোবাইলে আগেই এসএমএস পাঠিয়ে কেন্দ্র জানিয়ে দেয়া হয়েছিল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, এই সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের ৭৫টি কেন্দ্রে বিশেষ কর্মসূচির টিকাদান চলছে। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেয়া হচ্ছে ৫৪টি কেন্দ্রে।

তবে উত্তর সিটি এলাকায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকাদান কেন্দ্র করায় সকাল ৯টায় নির্ধারিত সময়ে টিকাদান শুরু করা যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এই সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, স্কুল খোলা থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকাদান শুরু হবে দুপুর আড়াইটা থেকে। অন্যান্য কেন্দ্রে টিকাদান সময়মতই শুরু হয়েছে।

সকালে শেরেবাংলা নগরের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টিকার জন্য মানুষের উপস্থিতি বেশ ভালো। অনেকে সকাল ৮টার সময়ও কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু ক্লাস চলায় সেখানেও সকালে টিকাদান শুরু করা যায়নি।

সাবরিনা আক্তার নামে একজন গৃহিনী বলেন, “কাল মোবাইলে এসএমএস এসেছে টিকার জন্য। আমি সকালে এসে বসে আছি। আমরা জানি  সকালে টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু এখন বলছে দুপুরে দেবে।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ বলেন, তার এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকা টিকাকেন্দ্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

“স্কুলে যেখানে কেন্দ্র ছিল তা আমরা সরিয়ে কাছেই অন্য জায়গায় নিয়েছি। ফলে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে না। সকাল সাড়ে ৯টায় টিকাদান শুরু হয়েছে, সারাদিন ধরে চলবে।”

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে তিনটি, পৌরসভায় একটি এবং সিটি করপোরেশন এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে বুথে টিকা দেয়া হচ্ছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৫শ, পৌরসভার কেন্দ্রে ৫শ এবং সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলোয় এক হাজারের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এদিন শুধু প্রথম ডোজের টিকা দেয়া হবে। একইভাবে আগামী মাসের একই তারিখে দেয়া হবে দ্বিতীয় ডোজ।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান শুরু হলেও সরবরাহ সঙ্কটে মাঝে কিছুদিন এ কর্মসূচি থমকে যায়। পর নতুন চালান এলে টিকাদানেও গতি আসে।