grand river view

মৃত নগরীতে সূর্য উঠবে

কোনো কোনো মৃত নগরীতেও সূর্য ওঠে!
যখন নিশ্চল রাজপথের বিবর্ণ ধূলি সরে গিয়ে
কোনো এক অভিসারিকার স্খলিত নিক্কনের
প্রাগৈতিহাসিক ধ্বনি প্রত্নবাতাস বয়ে আনে!
বয়ে আনে বিধুর সৌরভ।

দেখো আমাদের অনুপস্থিতি তেমনই এক গল্প
মেলে দিয়েছে অনতি গভীর আসন্ন সন্ধ্যায়—
আমরা সেখানে ছিলাম না— তবু প্রায়ান্ধকার আকাশ
নক্ষত্রকে ডেকেছে—স্মৃতির আবর্তে হারিয়ে যাওয়া
মুহূর্তগুলো খুঁজবার জন্য।হতে পারে এইসব
আলোবিন্দু নক্ষত্র নয়,
আমাদের নিস্ফল চুম্বনের আগুন!

ভালোবাসতে চেয়ে, হৃদয়ের উষ্ণতা চেয়ে
রাত্রির শীতল বাতাসে যেসব পাখিরা
অবিরাম উড়ে গেছে জলের উজানে
তারা এখানে থাকলে ভালো হতো!
তারা আবার তাহলে বলতো ভালোবাসি
আবার বলতো কবিতার মতো বিকেল পেরিয়ে
তোমাদের কাছে আসলাম—তোমরা পরস্পরকে
চুম্বন করো—এখনো গোধূলির মাধুরি আছে!
তোমরা চাইলেই আজকের স্বায়ংকালকে
অনন্তে এঁকে রাখতে পারো!
কিন্তু এ নগরী এখন নির্বাণের শূন্যতা ছুঁয়েছে।
দুষ্কালের আল্পনা আঁকা নারীর কপোলে
লজ্জার বদলে রুজের নিদারুণ লালিমা—
আমরা শূন্যে চেয়ে আছি—হয়তো এখনই
মৃত নগরীতে সূর্য উঠবে!

আমার চারপাশে

আমার চারপাশে অগণিত মুখ
ভিড় করেছে
তাদের চিনি কিংবা চিনি না কে বলবে
কেন এসেছে
তার জবাব কোথায়!
তারা ছিল আজ নাই।
কেন?
সময়ের কুজ্ঝটিকা হেন
এ কোন অনন্য আকাল
মৃত সব মুখে ঝুলে আছে ভয়াল
ভবিতব্যের ছবি
নেই এমন কোনো কবি
যে পারে এমন সময়ের
মর্মে লেখা একান্ত শোকের
বাণীকে কুসুমে ফোটাতে
বিগত সময়কে আবার ফেরাতে!

বাতাসে উড়ে গেছে সান্ত্বনার কবুতর
চারপাশে নিষ্ফলা চর
শ্যামলীমা নেই
বিপন্ন ফুসফুসে অক্সিজেন নেই
নেই মুমূর্ষের করতলে প্রিয় স্পর্শ নেই
এখন পোকার বসতি সবখানে
ভবিতব্য কেইবা জানে
সেবার পোশাক পরে দুয়ারে এসেছে পণ্য
মুনাফা সন্ধানী বন্য
সভ্যতা মান্যতা চায়
মৃত ভোক্তার নিরুপায়
শূন্য চোখে কৃতবাণিজ্যের হাহাকার
হাতে হাতে বিলি করে অব্যর্থ আমলনামা
আমাদের ভবিতব্য নিয়ে পলাতক নিরুপমা
আকাশ ও অমল বাতাস।

সেই গোলাপটি আমার কাছে নেই

একদিন অনেক সাধ করে
বাগানে দাঁড়িয়ে দেখেছি
গোলাপ এবং তোমাকে।
আমার চোখে বিভ্রম—
ফুল না তোমাকে নিয়ে
সে বোধ ছিল না। শুধু তোমার
অনির্বাণ আগুন ধেয়ে আসছে!
পুড়বো বলে শরীর বাড়িয়ে দিয়েছি
তখন শরতের তীব্র পূর্ণিমায়
তুমি, না গোলাপ না অগ্নি
না মৈথুন না পুজ্য প্রতিমা!
নিষেধের প্রগাঢ় আঙুল
ছিঁড়ে নিলো প্রার্থনার ফুল।

আমাকে জাগিয়ে দেবার আশ্বাস রেখে চলে গেলে।
যাবার সময় আমার আর্ত হৃদয় ছাড়া
আর কোনো অভিজ্ঞান তোমার সাথে
যায়নি। এমনকি প্রতীক্ষার অন্যকোনো
পরিভাষা তোমার অভিধানে
আছে কি নেই সেকথা বলোনি—

আমি বসে আছি
হয়তো পূর্ণিমা ফিরে আসবে আবার
কিন্তু সেই গোলাপটি আর নেই।
নেই কোনো অভিজ্ঞান তুমি ছাড়া।

অলংকরণ হিম ঋতব্রত