।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

আলোচিত ই-কমার্সভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- ইভ্যালির ভাইস প্রেসিডেন্ট আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম, সিনিয়র একাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (কমার্শিয়াল) জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব একাউন্ট সেলিম রেজা, একাউন্টস ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, একাউন্ট শাখার কর্মী সোহেল, আকিবুর রহমান তুর্য, সিইও’র পিএস রেজওয়ান ও বাইক ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা সাকিব রহমান। এছাড়া মামলার এজাহারে আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে কামরুল ইসলাম বলেছেন, তিনি মেট্রো কভারেজ, স্মার্ট ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রিডম এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট বিডি ও ফিউচার আইটি নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ইভ্যালির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গ্রাহকদের মোট ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার পণ্য সরবরাহ করেছেন। পণ্য সরবরাহের বিপরীতে ইভ্যালি তাদের একটি চেক দিলেও সেই একাউন্টে কোনও টাকা ছিল না। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তারা ইভ্যালির বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় একটি জিডিও (নং ৭০৬) দায়ের করেন। তবু ইভ্যালি তাদের কোনও অর্থ পরিশোধ করেনি।

এর আগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় এক গ্রাহকের মামলা দায়েরের পর বিকালে মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল ও তার স্ত্রী, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, ইভ্যালির হাজার কোটি টাকারও বেশি দেনা রয়েছে। এসব দেনা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানকে ‘দেউলিয়া’ ঘোষণার পরিকল্পনা করেছিলেন রাসেল। পরে তাদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হলে পুলিশ তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।