বিজয়ের অর্ধশতকের ভাবনা
grand river view

।। পংকজ দে ।।

কিছু নাম আছে যে নামগুলি রাজনীতিকে আশ্রয় করে বিকশিত হয়। আর এমন কিছু নাম আছে যারা কিনা, রাজনীতির মধ্য দিয়ে বিকশিত হওয়ার পর থেকেই, রাজনীতির নীতি,আদর্শ ও চেতনা বোধকেই বিকশিত করে তোলেন। যার ফলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। তিনি হলেন মাহবুব জামান ভুলু। আমাদের প্রিয় ভুলু ভাই, রাজশাহীবাসীর ভুলু ভাই তথা আওয়ামী লীগের ভুলু ভাই।

প্রয়াত নেতা মাহবুব জামান ভুলু

মাহবুব জামান ভুলু এমন একজন ব্যক্তি যিনি বৈষয়িক কোনো বন্ধনে নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি বা কেউ করাতে পারেনি। ছিলো না তার কোনো লোভ লালসা, কোনো মোহ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি,আর পারেনি বলেই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন ঘোর বা মরীচিকার পিছনে তাঁকে ছুটতে দেখিনি কেউ।রাজনৈতিক জীবনে যে আদর্শ বুকে ধারণ করে চেতনায় লালন করেছিলেন আমৃত্যু তিনি তো জারি রেখেছিলেন এবং তা ধরে রেখেছিলেন।আদর্শিক পথে অটল ছিলেন বলেই, পথভ্রষ্ট হননি কখনো।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়। রাজনীতিতে যে বিকিকিনির সংস্কৃতি শুরু হয় সেই পথে সামরিক স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষু ও লোভের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে, বিবেক বিসর্জন দিয়ে মন্ত্রী হয়েছে বড় বড় অনেক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখেছি ভুলু ভাই সকল হুমকি-ধমকি রক্তচক্ষুকে পায়ে দলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঝান্ডা কে উড্ডীন রেখেছেন। যার কারণে তিনি স্বমহিমায় উদ্ভাসিত।রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও তাঁর বিরুদ্ধবাদীরা পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন ও রাজনীতির প্রতি তাঁর যে অঙ্গীকার তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ পাননি।

কারণ ভুলু ভাই ছিলেন দৃঢ়চেতা একজন মুজিবাদর্শের একজন কর্মী ও সংগঠক। দুর্দিনে দলের হাল ধরেছিলেন শক্ত হাতে।আগেই বলেছি ব্যক্তিজীবনে ভুলু ভাই ছিলেন চাওয়া পাওয়া তথা বৈষয়িক বিষয়ের প্রতি উদাসীন। রাজনীতির মধ্যেই সকল চাওয়া-পাওয়া,শ্রদ্ধা-সম্মান,ভালোবাসা ও সম্পদের অন্বেষণ করেছেন। সম্পত্তির নয়।তবে বলা বাহুল্য যে মাহবুব জামান ভুলুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদ ও বিরুদ্ধবাদীরা তার ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে রাজনীতির মাঠে তাকে বারবার আঘাত হেনেছে। কিন্তু ভুলু ভাই কখনো তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি ছিলেন খুব সহিষ্ণু একজন ব্যক্তি,তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিলেননা। তিনি ছিলেন বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী একজন মানুষ।

ভুলু ভাইয়ের কাছে রাজনৈতিক কর্মীরা যদি কখনো বলতো ভাই রাজনীতি করলেন রাজনীতি থেকে কী পেলেন, নেত্রীর কাছে যান এই বিষয়টা বলেন,ওইটা চান তখন উনি ধমক দিয়ে বলতেন আমি কিছু চাইতে যাব না। কারণ আপা( জননেত্রী শেখ হাসিনা) আছেন তিনি আমার বিষয়টা দেখবেন। এতে করে দলের প্রধানের প্রতি আনুগত্যের পরিচয় ফুটে ওঠে। প্রকাশ পায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তার অগাধ আস্থা-বিশ্বাস ও প্রগাঢ় ভালোবাসা। ভুলু ভাই বলতেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি যা পেয়েছি এতেই আমি সন্তুষ্ট। এর থেকে বেশি চাওয়া-পাওয়ার আশা করি না। আমি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা পেয়েছি, বঙ্গবন্ধু আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করতে পেরেছি এর থেকে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে? তিনি বলতেন আমি মণি ভাইয়ের (শেখ ফজলুল হক মণি, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা ) সাহচর্য পেয়েছি তাঁর সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি আর কী চাই? নেত্রী আমাকে ‘৮৬ ‘ও ৯১র সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছিলেন আমাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক বানিয়েছিলেন পরবর্তীতে আমাকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন নেত্রীর ভালোবাসায় আমি অভিভূত! আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যার ভালোবাসা পেয়েছি আমি তাঁর ভালোবাসায় ঋদ্ধ।

আমাদের ভুলু ভাই রাজনৈতিক জীবনে তিনি অনেক বড় বড় পদ অলংকৃত করেছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য। ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের রাজশাহী জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাজশাহী জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়াও বহু সামাজিক সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে আমাদের প্রিয় মাহবুব জামান ভুলু ভাই।ভালো থাকবেন, ভুলু ভাই, অনন্তলোকের অসীমের পারে।আপনার স্মৃতির প্রতি কুর্নিশ। প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা।

পংকজ দে রাজশাহীতে বসবাসরত একজন রাজনৈতিক কর্মী