সব দৃশ্যপট এক নয়

*

দৃষ্টি সরিয়ে নিলেই দৃশ্যপট বদলে যায়
সবই আলো আঁধারের ধাঁধা
যখন কাছে থেকে দূরে যাই
যেতে যেতে অতিক্রম করি নিজেই নিজেকে
অনুভব করি বেঁচে আছি
বেঁচে আছি দূর আকাশের তারাদের নিস্তব্ধতায়!
অবশ্য ঐ জীবন দেহের নয়
আমার অস্তিত্ব নক্ষত্রের মতো
স্থির, বিশাল ছায়াপথ পেরিয়ে যাই
কোনো এক শীতার্ত রাতের পৃথিবীতে
আমার দূরবীন চোখে পৃথক হয়ে ওঠে
জমাট ঠাণ্ডা এক পাহাড়…।
আমি অনুভব করি ছবিটি সত্য
যেমন সত্য আমার জীবন
সত্য আমার জন্ম ও মৃত্যুর পৃথিবী।
দৃষ্টি ফেরালেই দৃশ্যপট পৃথক হয়ে ওঠে
একই দৃশ্য কিন্তু সবসময় কিংবা কখনোই এক নয়…

নৈঃশব্দ্যের ভাষা

*

কথা হয় মহাবিশ্বের সঙ্গে
নৈঃশব্দ্যের মগ্নতায়
নিস্তব্ধ হয়ে যখন আমি
দূর আকাশের তারার দিকে তাকাই—
এবং আমার অস্তিত্বের কথা ভাবি
অসীম নৈঃশব্দ্য কথা বলে…

মহা অসীমের অস্ফুটধ্বনি
আমি কান পেতে শুনি—
যখন ধ্যানমগ্ন মন
যখন স্থির হৃদয়।

দুঃখের রঙ রাত্রির মতো

*

দুঃখ করো না, দুঃখের রঙ রাত্রির মতো—
নিজের ভেতরের আলোকে আমন্ত্রণ করো
আর কথা বলো আনন্দ যাপনের জন্য
যেমনটি ছেলেবেলার খেলার মাঠ—
বেহিসেবি আনন্দ ও শক্তির উৎস ছিল তোমার

গ্রীষ্মের রাতে খোলা জানালায় যখন—
চাঁদের আলো এসে ঘুম ভাঙিয়ে দেয়
তোমাকে মুগ্ধ করে সৌন্দর্য দেখার জন্য
জাগিয়ে রাখে অপূর্ব শিহরণে
জীবন নিয়ে দুঃখ করা কতটাই তুচ্ছ
বস্তুত তুমি তো তোমাকেই ভালোবাসো

কেউ দুঃখ দিলেও—
অন্য কেউ আনন্দ নিয়ে আসে।
দুঃখ করো না, দুঃখের রঙ রাত্রির মতো।
নিজের ভেতরের আলোকে আমন্ত্রণ করো
আলো যত প্রসারিত হয়
ততোটাই ছোট হয়ে আসে পৃথিবী।

অলংকরণ রাজিব রায়