।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

অবশেষে সব অপেক্ষা দূর করে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে বোর্ড (বিসিবি)। তবে ঘোষিত দলে নেই কোনও চমক। জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা দল থেকেই নির্বাচকরা বেছে নিয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াড। ১৫ জনের দলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছেন ৮ ক্রিকেটার।

বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো তামিম ইকবালকে বাদ দিয়ে অভিজ্ঞ তিন ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসানম ও মুশফিকুর রহিম অনুমিতভাবেই দলে আছেন। এর আগে বিশ্বকাপের ছয় আসরেই অংশ নিয়েছেন তারা। এছাড়া প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন ৮ তরুণ ক্রিকেটার। তারা হচ্ছেন- লিটন দাস, নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন, শামীম হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদ। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে সুযোগ পাওয়া আমিনুল ইসলাম বিপ্লবও প্রথমবার বিশ্বকাপ দলের সঙ্গী।

সাম্প্রতিক সময়ে ফর্ম না থাকলেও লিটন পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান। ৩৭ ম্যাচে ১৩০.৭৮ স্টাইক রেটে ২০.০২ গড়ে লিটনের রান ৭০১। আছে চারটি হাফসেঞ্চুরি। লিটনের সঙ্গে গত কিছুদিন ধরেই ওপেনিংয়ে ব্যাট করছেন নাঈম শেখ। ২১ ম্যাচে ২ হাফসেঞ্চুরিতে তার রান ৫৪৭। যদিও স্ট্রাইক রেট ১০৫.৮০।

জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিততে ভূমিকা রেখেছিলেন আফিফ হোসেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও ভূমিকা রাখতে পারেন এই অলরাউন্ডার। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে ২৭ ম্যাচে ১২০.৪৪ স্ট্রাইক রেটে আফিফের রান ৩২৪। হাফসেঞ্চুরি আছে একটি। মেহেদী যেকোনও পজিশনে ব্যাটিং করতে পারেন, বোলিংয়ের ক্ষেত্রে স্লগ ওভার, পাওয়ার প্লে, মিডল- সবখানেই পারদর্শী। ১৮ ম্যাচে ১২০ রানের পাশাপাশি ১৫ উইকেট নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ২৫ টি-টোয়েন্টিতে ১০৬.৮৩ গড়ে সাইফের রান ১৭২। বোলিংয়ে নিয়েছেন ২৬ উইকেট। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে আছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম। ১৩ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ১৭। বুধবার কিউইদের বিপক্ষে ১০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সী এই স্পিনার।

এছাড়া যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের দুই ক্রিকেটার শামীম ও শরিফুল আছেন বিশ্বকাপ দলে। শরিফুল জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই দারুণ বল করে চলেছেন। মোস্তাফিজ-সাইফউদ্দিনের কারণে একাদশে নিয়মিত সুযোগ হচ্ছে না তার। তারপরও যখন সুযোগ পাচ্ছেন, নিজের সেরাটা দিচ্ছেন। ১০ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। এই পেসারের মতো শামীমও প্রথমবার বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছেন। গত জিম্বাবুয়ে সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক। অভিষেক সিরিজে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন এই তরুণ। আর তাতেই বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে নিলেন। ৬ ম্যাচে ১৫৫.৫৫ স্টাইক রেটে তার রান ৭০।

এছাড়া একটি করে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে সৌম্য সরকার, নুরুল হাসান সোহান, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের। তারা ভারতে অনুষ্ঠিত ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছেন। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে দলে থাকা রুবেল হোসেন তিনটি (২০০৯, ২০১০, ২০১৪) বিশ্বকাপ খেলেছেন।