grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

চার মাস আগে বিদায় নেয়ার আগের দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান যে ১৩৮ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেয়ার পাশাপাশি আদালত এ নিয়োগ বাতিল ও আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রশ্নে রুল জারি করেছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

নিয়োগ বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে গত ৩১ আগস্ট কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষে রিট আবেদনটি করা হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

বিতর্কিত এই নিয়োগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলার মধ্যে আদালতের স্থগিতাদেশ এল।

আদালতের রুলে বলা হয়েছে, পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩ এর বিধান ও নিয়োগ নীতি লঙ্ঘন করে গত ৫ ও ৬ মে এম আব্দুস সোবহানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না?

সেই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও সাবেক উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী জ্যেতির্ময় বড়ুয়া।

এ আইনজীবী তার ফেইসবুক পোস্টে একথা উল্লেখ করার পাশাপাশি লিখেছেন, আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে দুদককে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে গত ৬ মে ছিল অধ্যাপক আবদুস সোবহানের শেষ কর্মদিবস। কিন্তু শেষ দিনে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে ১৩৮ জনকে ‘অ্যাডহক’ (অস্থায়ী) ভিত্তিতে নিয়োগ দেন।

তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ পাহারায় উপাচার্য ভবন ছাড়তে হয়েছিল অধ্যাপক সোবহানকে।

এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়।

একই দিনে ওই নিয়োগের কার্যকারিতা স্থগিত রেখে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. আলমগীরকে কমিটির প্রধান করা হয়।

এ তদন্ত কমিটি গত ২৩ মে কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়; যেখানে ১৩৮ জনের নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ উল্লেখ করে তা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

সেই সঙ্গে সোবহানসহ দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা এবং তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করে ওই তদন্ত কমিটি।