grand river view

ভোরে, ফিরিঙ্গি ঘাটের দিকে

*

টুপটাপ ঝরে পড়ে দিনগুলো, যেন শরতের মেহগনি ফল। যদিও পায়ের কদমের দৈর্ঘ্যে বাড়েনি উচ্চতা বাটালি হিলের। তবু আরো কম সময়ে পেরিয়ে গেছি কত বন-জঙ্গল।

আজো শুনি—পাহাড়ের চূড়ায় পাখিরা গায় গান জাফরান গাছে বসে। একটু দূরে—ভোরে, ফিরিঙ্গি ঘাটের দিকে ভিড়ে জেলেদের সাম্পান। কোথায় যাই! কী যে করি! কী মানুষ, কী দৃশ্য, সবি অতি চেনা লাগে।

বিবিধ চেনা দৃশ্যের ভেতর বেঁচে আছি, নির্লজ্জ্বের মতো, তারও তো অর্থ আছে!

তুলাতুলির পাহাড়

*

যদি তুমি মুরিদদের দলের কেউ হও
তবে অই যে পাহাড়, যে কিনা অতোটা
উঁচুও নয় যে লোকেদের চোখে পড়বে,
সে তো তোমার দরবেশ। যার বুক থেকে
একটা রাস্তা সামান্য বাঁক খেয়ে সোজা
নেমে এসেছে এবড়ো-থেবড়ো জমিনে।
আর তুমি সেই রাস্তা থেকে ছিটকে যদি
হারিয়ে ফেলো নিজের পথ, তবে এসো—
জিয়ারতে; যদি মুরিদদের দলের কেউ হও
অই যে পাহাড়, সেই তো তোমার দরবেশ।

ঢেঁড়স

*

ঢেঁড়সের খেতে আমারে নানী নিয়া গেছিল একবার। ঝুলে থাকা ঢেঁড়সের দিকে ইশারা করে কইছিল ‘দেখ, লেগে আছে তোর নানার ঘাম’। নানা মারা গেছে ততদিনে। নানী তবু অবসেসড, ‘ঢেঁড়সে প্রাণ আছে’! এই কথা বলে নানীও গেছে মরে। ঢেঁড়সের খেতও নাই আর।

এখন বাজারে যাই রোজ। ঢেঁড়স কিনে আনি ঘরে৷ কতকাল আগের নানীর কথা ঢেঁড়সের শরীরে লেগে আছে। ঢেঁড়সকে জীবনের মতো লাগে৷ ত্রিশ বছর খেয়েছি যাকে ভর্তা করে। ত্রিশ বছর জীবন গিয়েছে পিছলে।

ঢেঁড়স, এইবার তোমাকে অল্প আঁচে করব ভাজি, কড়া করে।

শঙ্খ

*

তোমাদের উৎসব থেকে দূরে
আমি সেই শামুক,
নির্জন এক দ্বীপের মালিক।

সৈকতে পড়ে থাকি
রাত আর দিন, চুপচাপ
গিলে ফেলি সমুদ্রের চিৎকার।

আমাকে বাজাতেই পারো শঙ্খ ভেবে
যদি সইতে পারো সমুদ্রের হাহাকার।

যখন ছড়াবে আতরের সুবাস

*

ঝালমরিচের দিন গেছে মিটে,
কে তোমারে মুখে তুলে দিবে ঝোল মাখা ভাত!
কুচি পিঁয়াজের মতো প্যাঁচানো হৃদয়ে তোমার
ফাঁপরে পড়ে গেছে যে দুপুর, সে এখন রাত।
আরো বয়স হলে তার, কে তোমারে শুনাবে
ছেঁড়া পৃষ্ঠা উল্টায়ে জীবনানন্দ দু’চার লাইন!
কে’বা ছুটে যাবে, কারে’বা নিবে তুলে বুকে
আরো বিরহে জড়িয়ে ধরে কারে বলবে—
‘হৃদি ভেসে গেলো অলকানন্দা জলে’!

তোমারে দিয়েছি ফাঁকা রাস্তা, বাইসাইকেল দিন।
তোমারে দিয়েছি নয়নতারা, দিয়েছি কাঠগোলাপ।
তোমারে দিয়েছি কবিতার দৃশ্যাবলী, বিরহযাপন।
তোমারে দিয়েছি লেকের জলে বকুল ফুলের ঘ্রাণ।
তোমারে দিয়েছি নদী, নদীপাড়ে বটের ঝুড়ি।
তোমারে দিয়েছি চিল ওড়াউড়ি আকাশ।
আকাশের ক্ষেত্রতলে নদী পাড়ি দিয়ে
নাইওরে যাবা তুমি শাদা শাড়ি পরে
আমার শরীর ছড়াবে যখন আতরের সুবাস।

অলংকরণ হিম ঋতব্রত