।। এনামুল রেজা ।।

আমরা যেইভাবে বেঁচে থাকি এই বেঁচে থাকায় নাটকীয়তা খুব কম। বিশেষ করে আমরা যারা সাধারণ মানুষ।

প্রেম, সংসার, চাকরি, ব্যবসায়, পেশাদারিত্ব। মাপা জীবন। কিংবা সম্পদের প্রাচুর্য্যে আমরা অনেকে যা মন চায় করি। দামি গাড়ি। শপিং। রাতভর বার, হোর, হৈচৈ। দান করতে করতেও কেউ ক্লান্ত হয়ে যাই। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াই।

যাপিত জীবন সময়ের সাথে সাথে তার বৈচিত্র্য কমিয়ে আনে। পাশাপাশি যোগ হয় যুদ্ধ। রাজনৈতিক টার্মোয়েল। সহিংসতা। সামাজিক ক্রাইসিস। দারিদ্র্য। সব ছাপিয়ে দেখি যে আমরা যার যার মত নিঃসঙ্গ, একলা।

এটা এক রকমের বাস্তবতাই যে, আজকের পৃথিবীতে বহু মানুষ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য নিয়েও প্রায় কাছাকাছি কালচারাল জীবন যাপন করে। ক্যালিফোর্নিয়ার রাজপথে কানে এয়ারপড গুঁজে লানা দেল রে’র ব্রুকলিন বেবি শুনছে যে আমেরিকান যুবক, ঢাকার কোন ছ’তলা দালানের ছাদে দাঁড়িয়ে একই গান শুনতে থাকা বাংলাদেশী যুবকের সঙ্গে তার সাংস্কৃতিক পার্থক্য কোথায়? পার্থক্য নিশ্চয় অনেক রকম আছে। কিন্তু কালচারাল দখলদারিত্বের ভুবনে আমাদের যাপন প্রতিনিয়ত বদলায়, তা থেমে থাকে না।

এই প্রায় বৈশ্বিক কালচারাল যাপনের ক্লেশ ও বৈচিত্র্যহীনতা নিয়ে আমরা কি কোথাও একটু নিজের মত লুকিয়ে পড়ার জায়গা পাই? যদি পাই, চেনা জগতের ঠিক নিচে একটা গোপন পৃথিবীর দরজা যদি কেউ আমাদের জন্য খুলে দেয়, সেই জগতে হারিয়ে যেতে কেমন লাগবে আমাদের?

এইসব নিয়ে ভাবতে গেলে আমাদের মনে পড়তে পারে জাপানি ঔপন্যাসিক হারুকি মুরাকামির কথা।

মুরাকামির জন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তি দুনিয়ায় জাপানের কোবে নগরীতে।

তিনি সেই যুগের সন্তান যখন জাপানের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য রক্ষায় একদল লোক সংগ্রাম করছেন তাদের সাহিত্যে, গানে, পেইন্টিংস ও সিনেমায়। অন্যদল জাপানে বসেই পশ্চিমকে দুই হাতে গ্রহণ করছেন, পশ্চিমা প্রভাবকে ব্লেন্ড করে নিয়ে এক নতুন ধরনের জাপানি বাস্তবতাকে উদযাপন করে নিচ্ছেন।

প্রথম দলটিতে আমরা পাবো ইউসুনারি কাওয়াবাতা কিংবা ইউকিও মিশিমার মত গ্রেট লেখকদেরকে। ক্ষয় হতে থাকা চিরায়ত জাপানি ঐতিহ্যের মূল সুরটিকে উদ্ধার করতে নিবেদিত ছিল যাদের সাহিত্যিক অভিযাত্রা।

উপর দিয়ে দেখলে হারুকি মুরাকামি হলেন দ্বিতীয় দলের। যিনি বেড়েই উঠেছিলেন সহজ ইংরেজি অনুবাদে দস্তয়েভস্কি তলস্তয় তুর্গেনেভদের বিখ্যাত রাশান ক্লাসিকস পড়তে পড়তে। আমেরিকান হার্ড বয়েল্ড ডিটেকটিভ কাহিনির লেখক রেমন্ড শ্যানডলার, হিউমরিস্ট কার্ট ভনেগাট বা ছোটগল্পের মায়েস্ত্রো হেমিংওয়ে আর রেমন্ড কারভার ছিলেন তার গুরুস্থানীয়।

মুরাকামি পড়তে গেলে আরও একটা ব্যাপার খুব পরিস্কার হয়ে ওঠে। তা হল সংগীত। ওঁর তারুণ্যে ইউরোপ আমেরিকা জুড়ে বিটলসের জয়জয়কার। যুবক-যুবতিরা পপ, রক, সাইকেডেলিক গিলছে নেশাগ্রস্ত হয়ে। মুরাকামি নিজেও এই দলের বাইরে ছিলেন না।

তার প্রথম বিখ্যাত ও জনপ্রিয় বই নরওয়েজিয়ান অরণ্য পড়তে গেলে বোঝা যায় বিটলসের ঐ একই শিরোনামের গানটিতে পাখি উড়ে যাওয়ার বিষণ্ণতা কী গভীর ভাবেই না মিশে গিয়েছিল নাওকো, কিজুকি, মিদোরি আর তরু ওয়াতানাবের কাহিনিতে।

মুরাকামির সাহিত্যিক অভিযাত্রাকে আমি আবিস্কার করেছি তিনটি কালপর্বে।

লেখালেখির শুরুর দিকে লোকটা ছিলেন সেই প্রায় নার্ডি ও নিঃসঙ্গ ধরনের জাপানী যুবক। যার বসবাস জাপানে। কিন্তু মন পড়ে থাকে ইউরোপ কিংবা আমেরিকার ক্লান্ত কোন নগরের পথে ও কফিশপে।

শহুরে জীবন। গান শোনা। যেদিক মন চায় সেদিকে চলে যাওয়া। উদ্দেশ্যহীন যৌন সম্ভোগ। গল্পের বই পড়া। বারে বসলে খালি হয়ে যায় বিয়ারের বোতল। আর একটা রহস্যের চক্রে জড়িয়ে যাওয়া।

হিয়ার দা উইন্ড সিং, পিনবল ১৯৭৩, আ ওয়াইল্ড শিপ চেজ থেকে হার্ড বয়েল্ড ওয়ান্ডার ল্যান্ডৃ নিজের প্রথম দিকের উপন্যাসগুলোয় ঠিক এইরকম যুবকদের আখ্যানই মুরাকামি আমাদের শুনিয়ে যান। বেঁচে থাকা হল চলমান এক নদীর স্রোতধারায় নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়া। স্রোত যেদিকে নেবে সেদিকে চলে যাওয়া। কোন ইচ্ছে নেই, অভিঘাত নেই। কিন্তু কেন নেই, সেই না থাকার জন্য আছে গোপন এক কান্না।

এই বইগুলো এক ধরনের নির্দিষ্ট পাঠক শ্রেণী এনে দিয়েছিল মুরাকামিকে। তৈরি হয়েছিল মুরাকামি কাল্ট। পাঠক ও সাহিত্য সমালোচকেরা ধরেই নিয়েছিলেন মুরাকামি পুরাণ, রহস্যকাহিনি, হিউমার আর ফ্যান্টাসি ব্লেন্ড করে এমন সব বিচিত্র কাহিনিই লিখে যাবেন। একটা নিজস্ব ধারা তৈরি করবেন।

তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই ধারণা ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ভিন্ন কিছু লিখতে চেয়েছিলেন লোকটা। এ ইচ্ছে থেকেই জন্ম নরওয়েজিয়ান অরণ্যের। এক ট্র্যাডিশনাল প্রেম কাহিনি। তা এতই গভীর হল, এতই বিষণ্ণ আর জীবনমুখী হল যে এই বই দিয়েই জাপানের সাহিত্যিক জগতে সত্যিকার প্রতিষ্ঠা চলে এলো তার।

নিজের লেখক জীবনে শুরুর দিকের বইগুলোকে মুরাকামি বলেছেন কিচেন টেবিল ফিকশন। অর্থাৎ স্প্যাগেটি বা পাস্তা সেদ্ধ করতে করতে ও খেতে খেতেই নিতান্ত খেলার ছলে তিনি লিখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু নরওয়েজিয়ান অরণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার টার্নিং পয়েন্ট। বইটির তুমুল জনপ্রিয়তা সাহিত্য নিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করেছিল। আর সাথে সাথে আসছিল অভিযোগও। জাপানের মূল ঐতিহ্যের লেখক নন, পশ্চিমাচ্ছন্ন তার সাহিত্যিক অভিযাত্রা—সমকালীন ও সিনিয়র লেখকেরা এ কারণেই তাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইতেন না।

অস্বাভাবিক জনপ্রিয়তায় বিরক্ত মুরাকামি ইমিডিয়েটলি ফিরে যেতে চেয়েছিলেন লেখালেখির প্রথম দিনগুলোতে। এ কারণেই লিখেছিলেন ডান্স ডান্স ডান্স। এই বইটা বলতে গেলে তার প্রথম তিন উপন্যাসের আত্মিক সিকোয়েল।

যদিও এর পরের উপন্যাসে ফিরে আসে সেই একই অরণ্যের ছায়া, কিন্তু সাউথ অব দা বর্ডার ওয়েস্ট অব দা সান পড়তে গেলে মুরাকামির জাদুটা যথাযথ টের পাওয়া চলে। বিশেষ করে হাজিমে এক অর্থে তার নিজের জীবনেরই অল্টার ইগো। যে নিজের স্বপ্নাচ্ছন্ন অতীতের ফিরে আসা আর সুখী বর্তমান জীবনের মাঝে কোনটা বেছে নেবে তা নিয়ে ভুগতে থাকে একটা প্রায় অনিঃশেষ দ্বন্দ্বে।

আমার মনে হয়, উপন্যাসিক হিসেবে মুরাকামির পরিপূর্ণ যাত্রাটা শুরু হয় আ উইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকল লেখার পর। যেখানে একই সঙ্গে সুষম সহাবস্থান করে অসীম কল্পনা, পোস্ট মডার্ন জাপানী বাস্তবতা, জাপানের চিরায়ত ঐতিহ্য ও প্রাচ্য দর্শন, রাজনীতি, যৌনতা, দাম্পত্য সংকট, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও জাদু।

যেহেতু এই বিশ্লেষণ আমার নিজস্ব মুরাকামি পাঠ থেকে এলো, আমি আমার কথাটাই বলতে পারি। উইন্ড আপ বার্ডের আগে লেখা তার প্রায় সব কয়টা উপন্যাসে কোথাও কিছু একটা যেন মিসিং ছিল। কিংবা নিজস্ব গোলকধাঁধা মুরাকামি তৈরি করছিলেন, অথচ ঠিক মত যেন তা নির্মিত হতে পারছিল না।

কিন্তু এই এক উপন্যাসে মুরাকামি তার আগের উপন্যাসের সমস্ত অর্জন, আর যা কিছু তার অপূর্ণতা ছিল— সব মিলিয়ে মিশিয়ে নিতে পেরেছিলেন। সুতরাং তরু ওকাদার বেড়াল হারিয়ে যাওয়া, বউয়ের দূরে সরে যাওয়া, নোবোরু ওতাওয়ার সঙ্গে ক্ষমতার এক অসম লড়াইয়ের পাশাপাশি গভীর কুয়োর তলদেশে এক ভিন্ন জগতে ঢুকে পড়ার অলৌকিক এই কাহিনিতে লোকটা খুঁজে পান তার কাঙ্ক্ষিত কণ্ঠস্বর।

তরু ওকাদার যে জার্নি, এটা শুধু তার একার হয়ে থাকে না। তার বউ কুমিকোর এক শীতল ও ভয়ংকর জীবন আমাদের রক্ত হিম করে দেয়। এই দুজনের দাম্পত্য সঙ্কট আর যৌনতার যে উল্টো মুদ্রা ধীরে ধীরে মেলে ধরেন মুরাকামি, তা আমাদের সাজানো গোছানো অস্তিত্বকে কড়া একটা ঝাঁকি দেয়। পাশাপাশি তাদের প্রেমের যে লব্ধি, যে বোঝাপড়া ও অপেক্ষা তাকে রীতিমত বৌদ্ধিক বলে মনে হতে থাকে।

কুমিকোর ভাই নবোরু ওতাওয়ার বিরুদ্ধে তরুর যে লড়াই, সেখানেই চলে আসে পুরাণ। ঠিক যেন অমরত্বের সন্ধানী গিলগামেশের অসম্ভব লড়াই এটা, কিংবা পাতালপুরিতে মৃত্যুদূত হেডিসের বিরুদ্ধে হারকিউলিসের সংগ্রাম। পার্থক্য একটাই। তরু নিতান্ত সাধারণ এক যুবক, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, নিঃসঙ্গ। অন্যদিকে নবোরু একাডেমিকভাবে প্রচন্ড সফল এক মানুষ, ক্ষমতাধর ধনী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারি সে, টিভি পার্সোনালিটি হিসেবেও গোটা জাপানে ভীষণ জনপ্রিয়।

এই মহাক্ষমতাধর লোকটির সাথে মুরাকামির নায়ক কী অস্ত্র নিয়ে লড়াই করে? তার সম্বল মানুষের ভালবাসা, গল্প, আর নিয়তি। এখানে নিয়তি তার বড় চাবি আর তার নিয়ন্তা অবশ্যই ভালবাসা।

প্রায় অসম এ প্রতিযোগিতায় প্রকৃতির এক অংশ চায় তরু লড়াই করুক, তাই সে নবোরু ওতাওয়ার অন্ধকার জগতে প্রবেশের পথ পেয়ে যায়। কিন্তু এই মহাসমরের অস্ত্র যে গল্প, সেই গল্পগুলো গোটা উপন্যাসে যেভাবে তরু জোগাড় করে, সেখানেই, সেই আশ্চর্য মাকড়শার ইন্দ্রজালেই লুকিয়ে আছে লেখক হিসেবে মুরাকামির এক পরিপূর্ণ বোঝাপড়ার প্রামাণ্যচিত্র।

ঠিক এইখান থেকেই আসলে মুরাকামির লেখালেখি জীবনের চূড়ান্ত পর্যায়ের শুরু। যা এখনও চলছে। একটু খেয়াল করলে বোঝা যায় নিজের লেখক হিসেবে বেড়ে ওঠা, সোশাল চেঞ্জ, অর্থনৈতিক প্রগতি কোনো কিছুকেই নিজের সাহিত্য থেকে বিযুক্ত রাখেননি মুরাকামি। নিতান্ত মধ্যবিত্ত থেকে অসম্ভব রকম ধনী জাপানি জীবনের চালচিত্র মেলে উপন্যাসগুলোয়।

যাই হোক, আমি ফিরে যেতে চাই তার উপন্যাসের মূল যে আকর্ষণ, একটা অনিঃশেষ অব্যাখ্যাত গোলকধাঁধায়। মানুষ কেন এই ধাঁধায় হারিয়ে যেতে ভালবাসে?

মুরাকামি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়গুলোতে ইউরোপের মানুষ তার লেখাকে গ্রহণ করেছিল এক ধরনের এস্কেপ রুট হিসেবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সোভিয়েত রাশিয়া ও বার্লিন ওয়ালের পতন পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ও জার্মানিতে তার আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তাকে টেনে এনেছেন।

ঐ সময়টায় মানুষ নিজেদের অবস্থান নিয়ে ছিল সংশয়ে। চেনা জীবনের কমপ্লেক্সিটি থেকে বাঁচতে তাদের কোন অবলম্বন দরকার ছিল। রিয়েলিজমে ভরপুর বইয়ের বিপরীতে মুরাকামির বইগুলোকে মানুষ গ্রহণ করেছিল এক গোপন পৃথিবীর চাবি হিসেবে।

এমন নয় যে মুরাকামির উপন্যাসে রাজনৈতিক ঘটনা ও ইতিহাসের কালো অধ্যায়গুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হয়। বরং চাপা পড়ে যাওয়া ইতিহাসকে টেনে আনার ও নতুন করে বর্তমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ঘটনা তার অনেক উপন্যাসেই আছে। কিন্তু সরল ভাষা, মিউজিকাল পরিবেশ, আর চেনা জীবন থেকে হুট করেই অচেনা অদ্ভুত পৃথিবীতে ঢুকে পড়ার যে প্রবণতা, এই এস্কেপ রুট যেন নতুন করেই জীবনকে ভালবাসতে শেখায় পাঠককে।

মুরাকামির দিশেহারা চরিত্রগুলো জাপানি মানুষ হয়েও যেন সারা পৃথিবীর মানুষের দিশেহীনতা ও একাকীত্বকে কানেক্ট করতে পারে। তার হাতে নির্মিত হতে থাকে এমন এক গোলকধাঁধা যেখানে নির্দ্বিধায় তারা হারিয়ে যেতে ভালবাসে, স্বেচ্ছায়।

লেখাটা শেষ করার আগে খুব সামান্য আলো ফেলতে চাই সেই এটার্নাল মুরাকামি ডিবেটের উপর। তার সাহিত্য কি আসলেই অজাপানিজ বা শেকড়বিহীন? এ মুহূর্তে কথাটা কে বলেছিলেন তার নাম মনে করতে পারছি না। কথাটা ছিল এমন, ‘মুরাকামি জাপানি বাস্তবতার লেখক নন, কিন্তু তিনি যে বাস্তবতা লেখেন জাপানের তরুণ-তরুণীরা সেই বাস্তবতাই যাপন করেন।’ দেশটি নিয়ে অল্প-বিস্তর যাদের ধারণা আছে, তারা খুব একটা দ্বিমত হয়ত এতে করবেন না। অন্তত কয়েক প্রজন্মের জাপানি তারুণ্যের ক্ষেত্রে এই অব্জার্ভেশন বিস্ময়কর।

মুরাকামি সাহিত্যের প্রধান টোটেম কী সে তো আমরা যারা তাকে পড়েছি, সকলেই জানি, বেড়াল। এই টোটেমকে ওভারলুক করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা বেড়ালগুলোর মাঝেই সম্ভবত লুকিয়ে আছে মুরাকামি কতটা জাপানি লেখক আর কতটা গ্লোবাল নভেল রচয়িতা, এই প্রশ্নের উত্তর। সেই আলাপ আমরা অন্য কোনদিন করব।

প্রচ্ছদ রাজিব রায়