grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এখনো জয়হীন বাংলাদেশ। আজ বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ৫ ম্যাচ সিরিজ তাই স্বাগতিকদের সামনে ইতিহাস বদলানোর হাতছানি। কন্ডিশন ও সামর্থ্যের জায়গা থেকে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। তারপরও ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা হওয়ায় মাঠের পারফরম্যান্সটাই মুখ্য হয়ে উঠে। অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে হারানোর পর স্বাগতিকরা স্বপ্ন দেখতেই পারে কিউইদের হারানোর। আর সেটি করতে পারলে আরেকটি ইতিহাস রচিত হবে।

৫ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হচ্ছে বিকাল ৪ টায়। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম থেকে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টেলিভিশন ও টি-স্পোর্টস।

হোম কন্ডিশনে এমনিতেই বাংলাদেশ ভালো দল। তার মধ্যে নিউজিল্যান্ড তাদের মূল খেলোয়াড়দের ছাড়াই সফরে এসেছে। এই দলটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কেউ নেই। এর পর যাকে অধিনায়ক করা হয়েছে, সেই কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম প্রায় আড়াই বছর ধরে কোন টি-টোয়েন্টি খেলেননি। তার অধীনে তারুণ্যনির্ভর এই দলটা অভিজ্ঞতাতেও বেশ পিছিয়ে।

সব মিলে তাই ফেভারিট হিসেবে বাংলাদেশ এই সিরিজ শুরু করছে। অন্যদিকে মুশফিক-লিটনের ফেরায় বাংলাদেশের শক্তিও বেড়েছে। ওপেনিংয়ে এক তামিম ইকবাল বাদে স্বাগতিকরা পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছে। সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়েও বাংলাদেশ খুব আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ে থেকে সিরিজ জিতে ফেরার পর ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। 

তাছাড়া অতীত পরিসংখ্যান যতই উজ্জীবিত করুক না কেন, স্বাগতিকদের বর্তমান পারফরম্যান্স ও মিরপুরের রহস্যময় উইকেটে কিউইদের জন্য কঠিন কিছু অপেক্ষা করছে তাতে সন্দেহ নেই। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ অবশ্য ভীষণ সতর্ক। প্রতিপক্ষ নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় ওরা খুব ভালো একটা দল। যারা খুব ভালো হোমওয়ার্ক করে এবং খুব ডিসিপ্লিনড। ওরা যে প্ল্যান করে, সেই প্ল্যানেই সব সময় টিকে থাকার চেষ্টা করে। আমাদের ভালো খেলতে হলে শৃঙ্খলভাবে ক্রিকেট খেলতে হবে। আমার মনে হয় আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। মিরপুরের উইকেটের কন্ডিশনে মানিয়ে নেয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল অজি ব্যাটসম্যানরা। বিপরীতে যথেষ্ট রান তুলতে না পারলেও বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদেরও সেভাবে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। নিউজিল্যান্ড অবশ্য বাংলাদেশে সফরেরর জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে। শুধু তাই নয়, সফরকারী দল মিরপুরের সেন্টার উইকেটে যে সুযোগ পায় না, সেটিই তারা আদায় করে নিয়েছে। মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে ধারণা পেতে টানা দুই দিন অনুশীলন সুবিধা পেয়েছে। মঙ্গলবার ম্যাচের আগের দিন দুই ঘণ্টার মতো উইকেটে বোলিং অনুশীলন করেছেন কিউই বোলাররা। উদ্দেশ্য একটাই, উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া।

কিউই তরুণ পেসারতো বলেই দিয়েছেন, মিরপুরের কন্ডিশন জয়ের রসদ তারা পেয়ে গেছেন। বেন সিয়ার্স জানিয়েছেন, ‘আমি গতি তুলতে পছন্দ করি। কিন্তু এখানকার কন্ডিশন ভিন্ন। এজন্য স্মার্ট হতে হবে। নেটে বোলিং করে বুঝলাম দ্রুতগতির বলে ব্যাটসম্যানরা চড়াও হতে পারে। এজন্য বৈচিত্র্য থাকতে হবে। মনে হচ্ছে অফ কাটারে সফল হওয়া যাবে।’

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরু হওয়ার আগে উইকেটে নিয়েই বিস্তর আলোচনা। মঙ্গলবার মাঠে মিরপুরের উইকেট খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। সকালে সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা যেন উইকেট ‘মুখস্ত’ করার মিশনে নেমেছিলেন! ডমিঙ্গোকে পাশে নিয়ে সাকিবতো আঙুল দিয়ে পরখ করছেন।

মিরপুরের উইকেট এমনিতেই কিছুটা স্লো ও টার্নিং হয়ে থাকে। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ফাঁদে ফেলতে হয়তো স্বাগতিকরা সেই চেষ্টাটাই করবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। তবে নিউজিল্যান্ডের সেই অর্থে তেমন কোন স্পিনার নেই। এর পরেও গত কয়েক দিনে স্পিনার আক্রমণ সামলাতে স্পিনারদের বিপক্ষে টানা ব্যাটিং করে গেছেন সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা।

তবে উইকেট যেমনই হোক বাংলাদেশ উইকেট নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছে না বলে জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘উইকেট নিয়ে আমি সবসময় বলি যে উইকেট অনুমান করা কঠিন। আমার মনে হয় পজিটিভ ফ্রেম অব মাইন্ডে যাওয়াটা ভালো। আমরা ভালো উইকেট প্রত্যাশা করবো। সেভাবেই ম্যাচে যাবো। পরে গিয়ে যেটা পাবো, সেভাবে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’

এদিকে নিউজিল্যন্ডের অধিনায়ক নিশ্চিত করেই বলে গেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেমন উইকেট হয়েছে, তেমনটাই নাকি তারা আশা করছেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে যে রকম উইকেট দিয়েছিল, আমরা সে রকম উইকেটে প্রস্তুতি নিয়েছি। ক্যাম্পে একই রকম সুবিধা আদায় করে নিয়েছি। দেখা যাক, ছেলেরা কেমন করে। তাদের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ এটি।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দলের শেষ সিরিজ এটি। যদিও শেষ সিরিজে পরীক্ষা নিরীক্ষায় যাবে না স্বাগতিকরা। লিটন ফেরাতে নাঈমকে হয়তো বসে থাকতে হবে। লিটন ও সৌম্য মিলেই ইনিংসের শুরু করবেন। শরিফুল, মোস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিনকে নিয়ে পেস আক্রমণ সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মিডল অর্ডারে সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, আফিফকে নিয়েই একাদশ সাজানোর জোর সম্ভাবনা। বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে নাসুম আহমেদের সঙ্গে স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে মেহেদী হাসানকে একাদশে দেখার সুযোগ রয়েছে। একজন পেসার কমালে সুযোগ হতে পারে ‍যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের ক্রিকেটার শামীম হোসেনের।