grand river view

নির্জনতা গুচ্ছ

১.
সারাদিন বৃষ্টির পর গাছবাড়ির উপর শেষ বিকেলের রোদ… চারপাশ অচেনা হয়ে হাসে

কয়েকটি সাদা ঘোড়া আকাশে উড়ছে, ভেজা সড়ক ধরে ছুটে যাচ্ছে বকপাখি টানা টমটম

সুতপাদের বাড়ি… দোতলার ব্যালকনিতে জুড়ে সুতপা ও ছায়ার সঙ্গম, এক আশ্চর্য আলো এসে পড়েছে ওর চোখে

ভয় হয়, প্রদীপ নেভার আগে দপ করে জ্বলে উঠছে কি না!

২.
হাসপাতালের মাথায় ময়লা আকাশ… পরিষ্কার কর্মীর খোঁজে চোখ চলে গেছে ছাদে

কার্নিশে এক কালো পুরুষ পায়রাকে নিবিড় শুশ্রূষা দিচ্ছে সাদা অ্যাপ্রন পরা নার্স

৩.
ভারি ড্রামের মতো সমস্ত আকাশজুড়ে দুপুর গড়িয়ে গেলেও ফুরোতে চায় না। ততক্ষণে রানিগঞ্জ হাটপথে বেরিয়ে পড়তে থাকে দলে দলে লোক

বাগানের খোলা ট্যাপে দু’একটি শালিক পাখি তৃষ্ণা মেটাতে নামে… ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে জানালার শিক ধরে উঁকি দিচ্ছে হুলো

তখন নির্জনতাদের বাড়ির পিছনে ঝরা বাঁশপাতায় মৃদু শব্দ বাজিয়ে বিকেল এসেছে

৪.
বাতাবি ফুলের গালে নির্জনতা ভাঙছে বাতাস, ক্রমশ খাড়ির দিকে নেমে যাওয়া জল স্রোতের ভাষায় যা কিছু বলছে… আকাশ পৃষ্ঠায় মেঘ অনুবাদ করে

এবারও অরণ্যে ঢুকে চোরা শিকারিরা কোথায় হারিয়ে গেলো… সারারাত বনে মাথায় চাঁদ আলো জ্বেলে ওদের খোঁজে এসে পেয়ে গেছে ঝিঁঝির প্রলাপ

৫.
নদীপাড়ে আমবাগানের নিচে বাঁশের মাচং, সমস্ত বিকেল বসে কাটিয়েছি আমি আর বন্ধু প্রণব

এখন সূর্যাস্তের নরম আলো এসে পড়েছে দুজনের গায়ে

ছোটনদী পশ্চিম দিগন্তের দিকে কিছুটা এগিয়ে যেন হঠাৎ একটি বাঁক নিয়ে উঁচু পাড়ের উপর আলো মেখে বসে থাকা আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে

অলংকরণ হিম ঋতব্রত