।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

শেষের আলোটা নিভু নিভু করে জ্বলছিল। পেস বোলারের বয়সের ভার বয়ে বেড়ানো যে বড্ড শক্ত। তার ওপর আবার চোটের সঙ্গে সখ্য শেষ কয়েক বছরে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে বেশি। বয়স ও চোটের শরীর আর টানতে চাইছেন না ডেল স্টেইন। পেশাদারি ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার।

আজ (মঙ্গলবার) নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন স্টেইন। গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে অবসরের নিতে চেয়েছিলেন, যদিও করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিযোগিতাটি হয়নি। এবার যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে, তার আগেই বিদায় বিদায় বলে দিলেন। এখন থেকে বল হাতে তার ‘বজ্রবিদ্যুৎ’ আর দেখা যাবে না।

৩৮ বছর বয়সী স্টেইন বিদায় ঘোষণায় লিখেছেন, ‘অনুশীলন, ম্যাচ, ভ্রমণ, জয়, হার, পায়ে টেপ বাঁধা, জেট ল্যাগ, আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের ২০টি বছর। অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের কথা বলার আগে। ধন্যবাদ দেয়ার মতো অনেক মানুষ আছে। আজ আমি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিচ্ছি এই খেলা থেকে, যাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।’ পোস্টের পরের অংশে লিখেছেন, ‘ব্যাপারটা অম্লমধুর, তবে আমি কৃতজ্ঞ।’

বিদায়বেলায় পরিবার, ভক্ত-সমর্থক, সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে ভুল হয়নি সদ্য সাবেক হওয়া পেসারের, ‘আমার পরিবার থেকে শুরু করে সতীর্থ, সাংবাদিক থেকে ভক্ত- প্রত্যেককে ধন্যবাদ। সবার সঙ্গে মিলে এটা ছিল অসাধারণ এক জার্নি।’

২০২১ সালের আইপিএলে খেলার কথা ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে। তবে স্টেইন জানুয়ারিতে জানিয়ে দেন, আইপিএল খেলবেন না। যদিও অবসরের কোনও ঘোষণা তখনও দেননি। আসলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আরও কিছুদিন থাকার ইচ্ছা ছিল তার। ২০১৯ সালের আগস্টে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছিল তার লক্ষ্য। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গের ম্যাচটিই হয়ে রইলো তার সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে শেষ ম্যাচ এ বছরের মার্চে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে মুলতান সুলতানসের ম্যাচটি।

২০০৩ সালে নর্দার্নসের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দিয়ে শুরু স্টেইনের। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পরের বছরই টেস্ট আঙিনায় পা রাখেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পোর্ট এলিজাবেথ টেস্ট দিয়ে। বর্ণিল ক্যারিয়ারে ৯৩ টেস্টে নিয়েছেন ৪৩৯ উইকেট। সীমিত ওভারের ক্রিকেট খুব বেশি খেলা হয়নি তার। তারপরও ১২৫ ওয়ানডেতে ১৯৬ উইকেট, আর ৪৭ টি-টোয়েন্টিতে শিকার ৬৪ উইকেট।