grand river view

।। সাদিয়া রহমান মৌ, রাজশাহী ।।

সাইমা আজিজ ইমুর স্বপ্ন ছিল একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার। মায়ের রান্না দেখে দেখেই নিজে টুকটাক চেষ্টা করতেন রান্না করার। সেখান থেকেই রান্নার প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয়। সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রান্না খাইয়ে পেতেন প্রশংসা।

ইমু ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে থেকে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করেছেন ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিলে। বর্তমানে থাকেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরামবাগে।

বিয়ের কিছুদিন পরই জানতে পারেন তিনি মা হতে চলেছেন। এরপর কোলজুড়ে এলো ফুটফুটে মেয়ে। একদিকে সংসার, অন্যদিকে মেয়েকে সামলাতে কাজ হয়ে গেল দ্বিগুণ। ছোট বাচ্চাকে রেখে ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই কোথাও গিয়ে কাজ করার। আবার এদিকে করোনা মহামারির ভয়াবহতা। সবমিলিয়ে তার মনে হলো পড়াশোনা করে কী লাভ হলো!

সাইমার স্বামী হাবিবুর রহমান। পেশায় সিনেমাটোগ্রাফার। সাইমার রান্না খেয়ে তার মুখে সবসময় থাকে প্রশংসা। মাঝে মাঝেই বলেন, ‘তুমি এত সুন্দর রান্না করো হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করতে পারো।’ প্রথমদিকে সেই কথায় পাত্তা না দিলেও সাইমা কথাটি পরে ভেবে দেখে আসলেই তো বসে না থেকে এই কাজ করা যায়।

কমবেশি সকলেই সাইমাকে সাপোর্ট করলেও এক্ষেত্রে বাবা একটু বেঁকে বসলেন। কীভাবে সবকিছু একা ম্যানেজ করবে সেই চিন্তা করছিলেন। পরে বুঝিয়ে বললে তিনিও আর না করেননি।

মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে সাইমার কাজ শুরু হয়। প্রথম খাবারের অর্ডার আসে এ বছরের ১১ এপ্রিল। সাইমা বলেন, যারা খাবার নিয়েছিলেন তারা খুব প্রশংসা করেন। এখন পর্যন্ত খাবার নিয়ে নেতিবাচক কোনো কথা শুনিনি। খাবারের কোয়ালিটি এবং কোয়ান্টিটি নিয়ে সবসময় ভালো কথাই শুনেছি।

তিনি বলেন, আমি রান্নার সব কাজ একাই করি। আমার মা দূরে থাকলেও মাঝে মাঝে যতটা সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেন। আমার স্বামী বাজার করে দেন। আর বাটারফ্লাই নামে একটা পেইজ আছে যারা হোম ডেলিভারি সার্ভিস দেন। তাদের মাধ্যমেই খাবার পাঠাই।

শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয় রাজশাহী থেকেও অর্ডার আসে। কিন্তু রান্না করা খাবার অতদূরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এতে খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভেতরেই খাবার ডেলিভারি দিচ্ছি। একদিন আগে খাবারের অর্ডার দিলে প্রস্তুত করতে সুবিধা হয়। নয়তো যেদিন বলা হয় সেদিনই খাবার দেয়া কষ্টকর হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, হোমমেড খাবারের প্রতি মানুষের তখনই নিশ্চয়তা আসে যখন তাদেরকে ফ্রেশ আর কোয়ালিটি সম্পন্ন খাবার পৌঁছে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, এই কাজ করতে গিয়ে আমাকে অনেকের কটু কথা শুনতে হয়েছে। তাদের মতে আমি নাকি পেট চালানোর জন্য এই কাজ করছি। কিন্তু আমি তো আমার নিজের ইচ্ছা আর পরিবারের অনুপ্রেরণা থেকে এই কাজ করছি। তাই কারো কটু কথায় আমি কখনোই কাজে পিছুপা হবো না।

তিনি জানান, আমার Hungrezy নামে একটি পেইজ আছে। সেখানে দেয়া নাম্বারে কল দিয়ে অথবা পেইজে ম্যাসেজ দিয়ে খাবারের অর্ডার কনফার্ম করা যাবে। কাচ্চি বিরিয়ানি, হায়দ্রাবাদি চিকেন দম বিরিয়ানি, তেহারি, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, বোরহানি, লাচ্ছি, ফ্রুট কাস্টার্ড, দই চিড়ার ককটেল, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন ধরনের আইটেম হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকি। এখন পর্যন্ত আমার ১ লাখ ৪ হাজার টাকার বিক্রি হয়েছে।

তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমার একটি রেস্টুরেন্ট করার ইচ্ছা আছে। এতে আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

নতুন উদ্যোক্তাদের নিয়ে তিনি বলেন, সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের। কাজ করতে গেলে অনেক বাধা আসবে। তবে যে কাজের প্রতি আগ্রহ রয়েছে সেটার জন্য প্রয়োজন পূর্ব পরিকল্পনার। তাহলে অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব।