grand river view

অপ্রস্তুত প্রশ্ন

*

ছায়া হাঁটে সাথে সর্বক্ষণ। নিদ্রাহীন ও নিদ্রাতুর দুই সত্তা।
আমাদের একীভূত হবার কথা ছিল, সারাক্ষণ প্রতিশ্রুতির মাঝে থাকা
আসলেই অসম্ভব।
কখনও কখনও সময় তার দরজা খোলে, ডাকে দু’জনকে একসাথে।
কে কার রূপ নেবো? যথেষ্ট সংশয়!

আমি গতকাল যাকে মেরে ফেলেছি, তাকে আজ জাগিয়ে তুলেছি।
আজকের আমি আগুনের? না জলের? জানি না, এই আমি কার প্রশ্নের উত্তর।
আমি মাংস টুকরো করে কেটেছি আর কেউ কি আছো? নিকটস্থ প্রিয়বস্তু?
যারা রাখোনি আমায় টেবিলে, ছুরির নিচে?

অশ্রু ভেজা জমিনে বুনে গেছি সবুজের বীজ
আবার জ্বালিয়েও দিয়েছি খড়ভরতি মাঠ।
মানুষের হাতে ধারালো কোদাল—বারবার হত্যা করে গেছে
অনুভব, বোধ, চিন্তার জগত।
যন্ত্রণার সাথে দীর্ঘসূত্রিতা। এই দর্শন! ক্ষমা করে দেবো?
সকলেরে ভালোবাসো! কথাটা কি নয় খুব অনুপোযুক্ত?

দূরে তাকাই, দিগন্ত দেখতে পাই। আগালে সামনে, সে সরে আরো দূর!
কেন এই স্পর্ধিত বিরোধিতা? কেন ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হবার রাস্তা খুলে রাখা?

মাথা ভাসিয়ে নামা রক্তে বোঁজা চোখ, বিপর্যস্ত হয়ে দরজা খুঁজি। এরপরও?
এক রিফিউজির কাছে আমি সত্য, নাকি তুমি সত্য, তার তত্ত্ব তালাশ করো?

আগাছা

*

কামারশালাটি জ্বলতেই ছিল, যতক্ষণ পর্যস্ত না, মরলো লোকটা।
নিজের বলয়ে পাক খাওয়া বাজটা অতঃপর নামতে পারলো ইঁদুরের খোঁজে।
কুকুরও এলো। এখন তার চার ছেলেপুলে। একটা ঠিকানা দরকার।
ছোট সাদা বিড়ালটা মাটি আঁচড়ায় যখন, ভারি ভালো লাগে কামারের।
অমন আরাম করে চুলকে দেয়নি কেউ, সপসপ করে ঘাম পড়া পিঠটায়।

দমকা হাওয়া যেদিন তালগোল পাকিয়ে ভেঙে দিলো তার ছনের চাল
আর আজেবাজে লতারা দ্রুত বেড়ে ঢেকে দিলো তার পুরোনো অদৃষ্ট—
কেন অমন একটা নিয়তি ধার্য ছিল তার?
বিলীন হলো এতদিন পরে এসে?
একটা একটা শান্তি শান্তি ভাব এলো জায়গাটার—
বিব্রত হবার চিহ্ন হতে মুক্ত! ঘুমোতে গেলো কামার, অবশেষে।

হেঁয়ালি

*

সবার চোখ বিষণ্ন ছিল আর মুখগুলো সব ভারী,
গোছানো ছিল সবার পোশাক এবং বলা চলে বেশ সাফসুতোরও।
আমার দৃষ্টি গেলো পরিপাটি চুলগুলোতে, ওতে যথেষ্টবার আঁচড় পড়েছে।
কালো বা সাদা পোশাকের শর্ত ছিল, তেমন কিছু মনে পড়ে না,
তবু শাড়ি পরা দু-একজনকে এই মৃত্যু ভিড়ে পাওয়া গেছে
এ কথা সত্য নয় যে, আমি তাদের দেখছিলাম না!

মরে যাওয়া লোকটা, জানি না ঠিক, কি সৎ ছিলো?
প্রার্থনায় কি বলবো? খুব মুশকিল, তেমন যুৎসই কিছু খুঁজে না পাওয়া।
আমার পালা চলে এসেছে, অনুতাপে ভুগছি এখনও কিছু জোগাড় হয়নি!
এবার রাগ লাগছে, এত বছর বেঁচেও লোকটা বলার মতো কিছু রেখে গেলো না!

বাসায় ফিরলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘরে সবাই ভয় পায়, যখন মাঝরাত্তিতে ফোন বাজে।
ঘড়ঘড় কোন শব্দ হয় আর তারা সন্দেহভাজন কাউকে খুঁজতে যায়।
কখনও কখনও প্রশ্ন করি, ‘কি দেখবে বলে তুমি আশা করো?
এমন সত্য যা নেহাতই রূঢ়, যা অতি বাস্তব এবং যা কেবল তার জন্যই!
বলি, যা নির্দিষ্ট করাই আছে তুমি তার পরোয়া কোরো না।’

আমরা ঘুমাতে যাই এবং ঘুমগুলো নির্বিঘ্ন নয়,
অন্ধকারদের হওয়া উচিত এমন কালো যেন এক বিন্দু আলো পড়লেই
প্রবলতম জ্বলে ওঠে,
আর বিচ্ছিরি রকমের বিভেদ আছে আলোর রকম আর ধরনের!
আর এগুলো কি ধরনের আলো যা বুঝে উঠবার আগেই নিভে যায়?

অলংকরণ হিম ঋতব্রত