grand river view

।। আরাফাত ই কামাল, রাজশাহী ।।

যশোরের তাসফিয়া পড়াশোনা করেন টঙ্গী সরকারি কলেজে। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বপ্ন দেখেন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার। আর সেই স্বপ্ন নিয়েই কাজ শুরু করেন তিনি। প্রথমে হতাশ হলেও ধীরে ধীরে খুলতে তার ভাগ্যের দুয়ার। হার না মানার সংকল্প নিয়ে নেমে পড়েন কাজে।

তাসফিয়া বলেন, ২০২০ সালের জুন মাসে  কাজ শুরু করলাম দেশীয় থ্রি পিচ নিয়ে। মহামারি করোনার কারণে ফিরতে হলো বাড়িতে। বাড়িতে এসে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নেমে পড়লাম উদ্যোক্তা হতে। সকলের দারুণ সহযোগিতা পেলাম ।

তিনি জানান, প্রথমে ভাবতাম আমার পণ্য কিনবে কে? কি করে বিক্রি করবো? সংযুক্ত হলাম নাসিমা আক্তার  নিশা আপুর উই গ্রুপে। আমাকে পরিশ্রম করে সংসার চালাতে হবে। পোস্ট করা শুরু করলাম উইতে। প্রথম দিকেই  সাড়া পেলাম খুব ভালো। 

তিনি বলেন, অনলাইনের ক্রেতার পাশাপাশি আমার এলাকার মানুষ আমার কাছ থেকে পণ্য কিনতে শুরু করলেন। সেই টাকায় পরিশোধ করলাম ঋণ। তিন মাসে উপার্জন করেছি ৯৩ হাজার টাকা। বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় শীত । শীতে থ্রি-পিচের চাহিদা অনেক কমে গেল। দুই মাস বিক্রি বন্ধ। বাবার ছোট্ট দোকানটি মালিক হঠাৎ নিয়ে নিলেন। সেকারণে বাবাও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন। 

এমন অবস্থায় তাসফিয়া ভেঙে না পড়ে পরিবারে হাল ধরতে চিন্তা শুরু করেন নতুনভাবে। তিনি বলেন, কীভাবে চালাবো সংসার? স্বপ্ন ছিল একদিন বাবা মায়ের কষ্ট দূর করবো। তিন বছর পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুলে, ভিসা অফিসে, ইভেন্ট ও  টিউশন করে নিজের খরচ এবং পাশাপাশি বাবা-মাকে সহায়তার জন্য আমি কোনোভাবে থেমে থাকিনি।

নিজের কাজে ব্যস্ত তাসফিয়া

তিনি বলেন, বাড়িতে বসে থাকলে আমার পরিবারের হাসিটা অচিরে হারিয়ে যাবে। পরিবারে উপার্জন করার মতো দ্বিতীয় আর কোনো ব্যাক্তি ছিলেন না। আর বাবার সেই শক্তি নেই যে বসে কাজ করা ছাড়া অন্য কিছু  তিনি করবেন। আমি চেষ্টা না করলে ছোট দুই বোনের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবারে উপার্জন করার কেউ না থাকলে বাস্তবতা যে কতটা কঠিন এটা আমি ২০২০ সালে বুঝতে পেরেছিলাম।

‘কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন’ জানতে চাইলে তাসফিয়া জানান, হাতে একদমই টাকা ছিল না। পুঁজিটা সংসার খরচে লেগে গেল। নিজের হাতে তৈরি যে ফেসপ্যাকগুলো আমি ব্যবহার করি ভাবলাম সেটা নিয়ে কাজ করলে কেমন হয়? কারণ মেয়েরা রূপচর্চায় খুব আগ্রহী। মায়ের কাছে ১৫৫ টাকা ছিল বাজারের জন্য তার থেকে একশ টাকা নিয়ে ১০০ পিচ গোলাপ কিনে আনলাম। এই ১০০ পিচ গোলাপ ছিল আমার নতুন পথের শুরু।

যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানায় তাসফিয়া নিজের বাসায় নিমপাতা, সজনেপাতা, কমলার খোসা, মেথি ও আমলকীর পাউডার তৈরি করা শুরু করেন। তার এই রূপচর্চার সামগ্রী অনেকের মন ছুঁয়েছে। ৬ মাসে তাসফিয়া এসব পাউডার  বিক্রি করেন প্রায় ৩ লাখ টাকার।

পণ্যের বিশুদ্ধ ও সততা তাসফিয়াকে তার লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করেছে বলে তিনি মনে করেন। পুরো পরিবারের দায়িত্ব নেয়া তাসফিয়া বলেন, আমি এগিয়ে যেতে চাই। সবার চোখে ১০ জন সফল নারীর কাতারে না থাকলেও আমি সফল উদ্যোক্তা মনে করি।