grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তান থেকে পালাতে গিয়ে ‘হুড়োহুড়িতে’ কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২২ আগস্ট) দুপুরে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ন্যাটো ও তালেবান কর্মকর্তারা গত রোববার থেকে বিমানবন্দর এলাকায় কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকে গুলিতে ও অনেকে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। 

তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এ পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (২২ আগস্ট) সকাল থেকে বিমানবন্দরের বাইরে নতুন বিধিনিষেধ চালু করেছে তালেবান। বিমানবন্দরের প্রধান ফটকের বাইরে লোকজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে, ভিড় জমতে দেয়া হচ্ছে না। তবে ভোর থেকে বিমানবন্দরের বাইরে লম্বা লাইন শুরু হয়ে যায়। দুপুর গড়াতে না গড়াতেই হুড়োহুড়িতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

এদিকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিমানবন্দরের পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়কর হয়ে উঠেছে। সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশ ছেড়ে পালাতে কয়েক হাজার আফগান বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় করেছেন। তারা সবাই বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ মিত্রশক্তিগুলো তাদের নাগরিক এবং আফগান সহকর্মীদের সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে। ’

অস্থায়ীভাবে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা। সেই সঙ্গে ৯০০ ব্রিটিশ সেনাও সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র বিবৃতিতে আরও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা পরিস্থিতি শান্ত এবং নিরাপদ করে তোলার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

এদিকে বিমানবন্দরের বাইরে বেশ কয়েকটি তল্লাশি চৌকি স্থাপন করেছে তালেবান। ভ্রমণের কাগজপত্র ছাড়া আফগানদের বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (১৫ আগস্ট) কাবুলের দখল নেয়ার পর পুরো আফগানিস্তান তালেবানের দখলে চলে যায়। এরপর থেকেই আফগানিস্তান ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়। বহু আফগান নাগরিক এর মধ্যেই দেশ ছেড়েছে। এছাড়া আরও অনেকেই এখনও দেশ ছাড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।