grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

শিশু জন্মহার বাড়াতে চীনে তিন সন্তান নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত করা হয়েছে। এখন থেকে দেশটির দম্পতিরা চাইলে তিনটি সন্তান নিতে পারবেন।

শুক্রবার চীনের শীর্ষ আইনপ্রণেতারা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) -এর বৈঠকে কয়েকটি বিধির মধ্যে তিন সন্তান নীতির বিধানও পাস করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

চীন গত মে মাসেই এক ঘোষণায় আগের নীতি থেকে সরে এসে প্রত্যেক দম্পতিকে তিনটি সন্তান নেয়ার অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছিল। এবার সেই সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হল।

এর পাশাপাশি এদিন এনপিসি বৈঠকে সন্তান জন্মদানকালীন মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব ছুটি বাড়ানো, চাকরিতে নারী নিয়োগ বাড়ানো এবং শিশুর যতœ ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

চীনে এক দশকের মধ্যে একবার হওয়া আদশুমারির সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে জন্মহার অনেক কমে গেছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জনসংখ্যা হ্রাস পেতে পারে, এমন আশঙ্কায় দম্পতিদের আরও বেশি সন্তান নেয়ার অনুমতির পথে এগিয়েছে চীন।

গত মে মাসের প্রথমদিকে চীনের আদমশুমারির ফলাফল প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, গত বছর দেশটিতে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। আর ২০১৬ সালে জন্ম হয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ শিশুর। ১৯৬০ এর দশকের পর থেকে চীনে শিশু জন্মের এবারের হার সবচেয়ে কম।

এ থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল চীন তাদের পরিবার পরিকল্পনা নীতি আরও শিথিল করতে পারে। ২০১৬ সালে দেশটির সরকার তাদের এক সন্তান নীতি থেকে সরে দম্পতিদের দুই সন্তান নেয়ার অনুমতি দিয়েছিল। তারপর পরপর দুই বছর জন্মহার বাড়লেও পরে ফের কমতে শুরু করায় জন্মহার হ্রাস করা ঠেকাতে সরকারের নেয়ার পদক্ষেপের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়।

১৯৭৯ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে চীনে ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করা হয়েছিল। তারপর থেকে এই নীতি লঙ্ঘন করা পরিবারগুলোকে জরিমানা, চাকরি হারানো এবং কখনো কখনো জোরপূর্বক গর্ভপাতের শিকারও হতে হয়েছিল বলে বিবিসি জানিয়েছে।