grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের হওয়া মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির আরও দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকেও দুদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পরীমণির বিরুদ্ধে মাদকের মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। সেটাতে আদলত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তার বাসা থেকে ১৮ লিটার মদ, এলএসডি আইসের মতো মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তার উৎস জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।

আবার রিমান্ড চাওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, রিমান্ডের মধ্যে মামলাটি সিআইডিতে পাঠানো হয়, ফলে সার্বিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। সে কারণে আরও রিমান্ড প্রয়োজন।

আদালতে পরীমণির পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী মজিবুর রহমান। তিনি শুনানিতে বলেন, এটা মাদকের মামলা। প্রথম সিনেমা লাস্ট কিস; সেখান থেকে সিনেমা আজকের জায়গায় এসেছে। আমরা কী আবার পেছনে ফিরে যেতে চাই?

এসময় এই আইনজীবী অভিযোগ করেন, পরীমণি যে পোশাকে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন, ১২২ ঘণ্টা তাকে একই কাপড়ে রাখা হয়েছে। তিনি আদালতকে বলেন, হতে পারেন তিনি (পরীমণি) অভিযুক্ত। তার তো একটা লাইফস্টাইল আছে। তার প্রতি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে।

এসময় তার আইনজীবী আদালতের কাছে কিছুটা সময় আবেদন করেন। কারণ পরীমণির সাথে আইনজীবীদের কোনও কথা হয়নি। মজিবুর রহমান বলেন, তিনি (পরীমণি) অসুস্থ, মেয়ে মানুষ। তাকে এই আইনে কেন রিমান্ডে নেবেন? যারা মাদক সেবন করেন তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এ আইন না। তিনি যদি ব্যবসার সাথে জড়িত হন। তবে রিমান্ডের ব্যাপার আসতো।

পরে তিনি আদালতের কাছে পরীমণির জামিনের আবেদন করেন।

গত ৫ আগস্ট পরীমণি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ। চার দিনের রিমান্ড শেষে আজ (১০ আগস্ট) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি।

শুনানিতে অংশ নিয়ে পোশাকের বিষয়ে পরীমণির আইনজীবীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ বলেন, পরীমণি এতদিন অন্য জামা গায়েই ছিলেন। আজ আসার আগে তিনি জামা চেঞ্জ করে এটা গায়ে দিয়ে এসেছেন।

তিনি আদালতকে বলেন, মামলার আসামি পরীমণির বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য ২ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা। এই মাদক কোথা থেকে আসলো? তার উৎস কী? সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আবারও রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পরীমণির দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাকে আদালত থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে পরীমণি বলেন, আপনারা মিডিয়ার লোকেরা কি করছেন? আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে। এর পর দ্রুত পুলিশ সদস্যরা তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যান।

পরে পরীমণির আইনজীবী মজিবুর সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করেছে। সে যেন চন্দ্রাবতীর মতো অন্যায়ের শিকার না হয়। তাকে বারবার অযথা রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ তাকে আজ আবারও তাকে রিমান্ড চেয়ে। তারা যে দরখাস্ত দিয়েছেন সেটির কপিও দেখতে পারিনি। পরীমণির সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও আমরা পাইনি। সে আইনজীবীর মাধ্যমে ন্যায়বিচার চেয়েছে।

এর আগে, গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগীকে আটক করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় বলে জানানো হয়। আটকের পর তাদের নেয়া হয় র‍্যাবের সদর দফতরে। পরে র‍্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমণির বিরুদ্ধে মামলা করে।